হাতে লাঠি, কাঁধে ব্যাগ, আর চোখে-মুখে হতাশার ছাপ, সামনে শুধুই অন্ধকার। কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার ছিনাই ইউনিয়নের ছত্রজিৎ মৌজার (মুড়িয়াপাটকি পাড়া) এলাকার দেবেন্দ্র নাথ (৭০) এর। ১ ছেলে, ১ কন্যা বিয়ের পর তারা আলাদা দিনমজুরের কাজ করে কোনো রকমে সংসার চালায়।

দেবেন্দ্র নাথের পৈত্রিক সূত্রে একচিলতে ভিটে-মাটি থাকলেও তা অভাবের তাড়নায় অনেক আগেই বিক্রি করে সংসার চালায়। বর্তমানে ভিটে-মাটি বলতে আর কিছুই নেই তার। স্বামী-স্ত্রী মিলে সরকারি রাস্তার ধারে একটি ঝুঁপড়ি ঘর তুলে কোনো রকমে রাত্রী যাপন করছে।

সরমজিনে দেখে যায়, একটু বৃষ্টি হলেই ওই ঘরে পানি প্রবেশ করে। দু’জন মিলে প্রতিদিন কাকডাকা ভোর হতেই ভিক্ষার ঝুলি কাঁধে নিয়ে মানুষের দারে দানে ঘুড়ে বেড়ান। এদিকে ৪ বছর পূর্বে বাকশক্তি হারিয়ে ইশারা-ইঙ্গিতে চলাফেরা করেন দেবেন্দ্র নাথ।

দেবেন্দ্র নাথের স্ত্রী কৌশুল্যা রাণী (৬৫) জানান, চেয়ারম্যান-নেম্বর হামাক কোনো প্রকার সাহায্য-সহযোগিতা করছে না এবং তিনি আক্ষেপ করে বলেন, চেয়ারম্যানোক চিনিনা, নেম্বরকে চিনি। হামার নেম্বর জিতেন্দ্র নাথ। ভোটের পর নেম্বরক বয়স্ক ভাতার জন্য মোর ভাগ্নে রনঞ্জিত ওরফে ভ্যালং মারফত ৩০০০ টাকা জোগাড় করে দিছি। ৬ মাস পর নেম্বর হামাক ২৫০০ টাকা ফিরি দিয়া কইছে তোমার বয়স্ক ভাতা হবার নয়। পাশাপাশি এখন পর্যন্ত ওই পরিবারটির ভাগ্যে জুটেনি সরকারি কোনো ধরনের সাহায্য সহযোগিতা বলে জানান দেবেন্দ্র নাথের স্ত্রী কৌশুল্যা রাণী।

এ বিষয়ে ওই এলাকার ইউপি সদস্য জিতেন্দ্র নাথ রায়ের সাথে তার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি টাকা গ্রহণ করার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, দেবেন্দ্র নাথের ভাগ্নে ভ্যালংকে বলেছি বয়স্ক ভাতা হবে না। দেখি আগামীতে প্রতিবন্ধী ভাতা করে দিবো।

ইউপি চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান হক বুলু বলেন, তার সম্পর্কে ইতিপূর্বে কেউ আমাকে জানায়নি। এখন বিষয়টি জানা থাকলো, পরবর্তীতে আমি দেখবো।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য