চলতি সপ্তাহে মিয়ানমারের ওপর আরোপিত অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা আরও এক বছর বাড়াতে পারে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), এরপর দেশটির আরও কয়েকজন জেনারেলের বিরুদ্ধে নতুন করে নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করতে পারে।

ইইউয়ের কূটনীতিক ও কর্মকর্তারা এসব কথা জানিয়েছেন বলে খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

গত বছর দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে চালানো সামরিক অভিযানে ‘গুরুতর ও পদ্ধতিগতভাবে’ মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য মিয়ানমারকে অভিযুক্ত করেছে ইইউ। ওই অভিযানের কারণে মিয়ানমারের ওই অঞ্চলটি থেকে প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা মুসলিম প্রতিবেশী বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছে।

ইইউয়ের চলতি অস্ত্র নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ এই এপ্রিলেই শেষ হতে যাচ্ছে। তবে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা আরও এক বছর বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছেন ইইউয়ের কূটনীতিক ও কর্মকর্তারা।

ইতোমধ্যেই সীমিত করে আনা মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর প্রশিক্ষণও এই বর্ধিত নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বে বলে জানিয়েছেন তারা।

উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্যে চালানো সামরিক অভিযানকে কেন্দ্র করে গত অক্টোবরে মিয়ানমারের জেনারেলদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ইইউ।

রাখাইনের ওই সামরিক অভিযানকে জাতিগত নির্মূল অভিযান অভিহিত করে এর নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘ। অপরদিকে অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে মিয়ানমার।

কর্মকর্তারা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে নৃশংসতা চালানোর অভিযোগ নিবিড়ভাবে পরীক্ষা করে দেখছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার; এই পরীক্ষার ফলাফল মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে মানবতা বিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনতে ব্যবহার করা হতে পারে।

ইইউয়ের সূত্রগুলো রয়টার্সকে জানিয়েছে, মিয়ানমারের জেনারেলদের বিরুদ্ধে আরোপিত নিষেধাজ্ঞার মধ্যে ভিসা নিষেধাজ্ঞা ও সম্পদ জব্দের মতো বিষয় থাকতে পারে। মে অথবা জুন মাসের মধ্যে এসব নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে এবং নিষেধাজ্ঞার তালিকায় মিয়ানমারের মেজর জেনারেল মং মং সোসহ আরো কয়েকজন সামরিক কর্মকর্তার নাম আছে।

রাখাইনের রোহিঙ্গা সংখ্যালঘুদের ওপর চালানো দমনপীড়নের জন্য মেজর জেনারেল মং মং সোকে দায়ী করে গত ডিসেম্বরে তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

রাখাইনের ইন দিন গ্রামে ১০ রোহিঙ্গা মুসলিম পুরুষ ও বালককে রাখাইনের বৌদ্ধ গ্রামবাসীরা কুপিয়ে হত্যা করেছে অথবা নিরাপত্তা বাহিনী গুলি করে হত্যা করেছে, রয়টার্স এমন প্রতিবেদনে প্রকাশ করার পর ফেব্রুয়ারিতে কানাডাও যুক্তরাষ্ট্রের পদাঙ্ক অনুসরণ করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।

ইন দিনের ওই হত্যাকাণ্ড রোহিঙ্গাদের ওপর সেনাবাহিনীর চালানো বড় ধরনের দমনাভিযানেরই অংশ। ইন দিনের ওই ঘটনার ওপর প্রতিবেদন করাকালে রয়টার্সের দুই সাংবাদিককে কারাগারে পাঠায় মিয়ানমারের কর্তৃপক্ষ। মিয়ানমারের সরকারি গোপনীয়তা আইন লঙ্ঘনের দায়ে ইয়াঙ্গুনের কারাগারে বন্দি এই দুই সাংবাদিকের সর্বোচ্চ ১৪ বছর কারাদণ্ড হতে পারে।

ইইউ মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর অন্য আরও ছয় সদস্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়টি বিবেচনা করে দেখছে বলে জানিয়েছেন কূটনীতিক ও কর্মকর্তারা। তবে ইইউয়ের ২৮ সদস্য দেশের পরিষদে বিষয়টি এখনও আলোচিত হয়নি এবং নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য সবার সর্বসম্মত সম্মতি লাগবে বলে জানিয়েছেন তারা।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ মিয়ানমার আংশিকভাবে গণতান্ত্রিক সরকার পদ্ধতি প্রবর্তন করলেও রোহিঙ্গাদের ওপর চালানো দমনাভিযান নিয়ে দেশটির সঙ্গে পশ্চিমা দেশগুলোর সম্পর্ক তিক্ত হয়ে উঠেছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য