ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপের আচেহ প্রদেশে একটি তেল কূপে অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার ভোররাতের দিকে সূত্রপাত্র হওয়া এ আগুনে আরো প্রায় ৪০ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ, খবর বার্তা সংস্থা রয়টার্সের।

এক বিবৃতিতে ইন্দোনেশিয়ার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানিয়েছে, পূর্ব আচেহ জেলায় আড়াইশ মিটার গভীর একটি কূপ থেকে তেল উপচে পড়ার পর স্থানীয় বাসিন্দারা তেল সংগ্রহ করতে জড়ো হয়েছিল, তখনই আগুনের সূত্রপাত হয়।

সংস্থাটির মুখপাত্র সুতুপো পুরবো নুগরোহো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কয়েকটি ছবি পোস্ট করেছেন, তাতে ঘরবাড়ি ও গাছের উপরে লকলকে আগুনের শিখা দেখা গেছে; দমকল কর্মীরা সেখানে পানি ছিটাচ্ছে আর গ্রামবাসীরা তা দেখছে।

“কতোজন হতাহত হয়েছেন সে বিষয়ে এখনও তথ্য সংগ্রহ করছি আমরা, কারণ আগুন এখনও নিভানো যায়নি,” বিবৃতিতে বলেছে সংস্থাটি।

প্রাদেশিক রাজধানী বান্দা আচেহর হাসপাতালে বহু আহতকে ভর্তি করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি পের্তামিনা বিভিন্ন যন্ত্রপাতি সরবরাহ করে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টায় সহযোগিতা করছে বলে বিবৃতিতে বলা হয়েছে।

তেল কূপটি অবৈধভাবে খনন করা হয়ে থাকতে পারে এবং কেউ একজন সিগারেট খাওয়ার সময় আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন পূর্ব আচেহর পুলিশ প্রধান ওয়াহিউ কুনকোরো।

“এই কূপটি স্থানীয় বাসিন্দারাই খনন করেছে এবং ওই সময় কেউ একজন ধূমপান করছিল বলে আমাদের সন্দেহ,” বলেছেন তিনি।

আহতের সংখ্যা ৪০ জনে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

এক প্রতিবেদনে নিউ স্ট্রেইটস টাইমস জানিয়েছে, স্থানীয় সময় বুধবার রাত ১টা ৩০ মিনিটের দিকে চুইয়ে পড়া তেলের ধারা থেকে বড় ধরনের একটি আগুনের সূত্রপাত হয়, এতে একটি আবাসিক এলাকার অন্তত তিনটি বাড়ি ভস্মীভূত হয়।

সকালে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত আগুন জ্বলছিল বলে প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে।

আচেহর রানতো পেউরেউলাক উপজেলার প্রধান কর্মকর্তা সাইফুল বলেছেন, “আগুনের তীব্রতা এখনও রয়ে গেছে, একে এখনও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি।”

পূর্ব আচেহের স্থানীয় গ্রামবাসীরা বহু ছোট ছোট কূপ খনন করে অবৈধভাবে তেল উত্তোলন করে থাকেন। এই এলাকায় পের্তামিনারও একটি তেলক্ষেত্র আছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য