দীর্ঘ আইনী লড়াইয়ের পর চলতি সপ্তাহে সুলাওয়েসিতে অপ্রাপ্তবয়স্ক দুই বালক-বালিকার বিয়ের পর ইন্দোনেশিয়াজুড়ে তুমুল বিতর্ক শুরু হয়েছে।

বিয়ে করতে ইন্দোনেশিয়ার ধর্মীয় আদালতের অনুমতিও পেয়েছিল ১৫ বছর বয়সী বর ও ১৪ বছর বয়সী কনে, যা নিয়ে দেশে-বিদেশে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। সমালোচনার জেরে শিশুদের মধ্যে বিয়ে ঠেকাতে দেশটির সরকার এখন আইন পরিবর্তনের কথাও ভাবছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।

মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ ইন্দোনেশিয়াতেই বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বালিকা বধু আছে। দেশটিতে বিয়ের সর্বনিম্ন বয়স ছেলেদের জন্য ১৯, আর মেয়েদের ১৬। তবে ধর্মীয় আদালত চাইলে কম বয়সেও বিয়ের অনুমতি দিতে পারে।

সুলাওয়েসির ওই বালিকা বধূ সাংবাদিকদের জানায়, পাঁচ মাস ধরে প্রেম করছিলেন তারা। অভিভাবকরা জানতে পেরে বিয়ে দিতে উদ্যোগী হন।

বিয়েকে ‘ভাগ্য’ হিসেবেও অভিহিত করেছে ইন্দোনেশীয় এ কিশোরী। তার মায়ের বিয়েও ১৪ বছর বয়সে হয়েছিল বলে জানিয়েছেন তিনি।

ধর্মীয় বিষয়াদির দেখভাল করা দপ্তর (কেইউএ) প্রথমে অপ্রাপ্তবয়স্ক এই বালক-বালিকার বিয়ের আবেদন নাকচ করে দিয়েছিলে। দুজনের বাবা-মা পরে ধর্মীয় আদালতের শরণাপন্ন হন, সেখানে কেইউএ-র সিদ্ধান্ত উল্টে যাওয়ার পর সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে হয় তাদের।

কনে জানিয়েছে, সন্তান নেওয়ার আগ পর্যন্ত পড়ালেখা চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছে আছে তার। তার ১৫ বছর বয়সী স্বামী অবশ্য এর মধ্যেই স্কুল থেকে ‘ড্রপ আউট’ হয়ে গেছেন, পরিবারের ভরণপোষণ করতে কাজ চালিয়ে যাবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

ইন্দোনেশিয়াজুড়ে এ ধরনের শিশু বিবাহের সংখ্যা অগুনতি বলে জানিয়েছে বিবিসি।

জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, ১৮-র আগেই বিয়ের পিঁড়িতে বসেন দেশটির ১৪ শতাংশ নারী; ১ শতাংশের বিয়ে হয় বয়স ১৫ বছর হওয়ার আগে।

বাল্যবিয়ের সর্বশেষ এ দৃষ্টান্তের তুমুল বিরোধিতাও দেখা গেছে ইন্দোনেশিয়াজুড়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মনোযোগ কেড়ে নেওয়া এ বিয়ের সমালোচনা করেছেন সাধারণ নাগরিক, ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতারাও।

প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো জানিয়েছেন, বাল্য বিয়ের চর্চা বন্ধ করতে এবং বিয়ের ন্যূনতম বয়স বাড়াতে তিনি নতুন আইনের পরিকল্পনা করছেন।

মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলছে, বাল্যবিয়ের বিধ্বংসী পরিণতি দারিদ্র্যের দিকে ধাবিত করে এবং কম বয়সে গর্ভধারণ যে মেয়েদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়ায় সে বিষয়ে অকাট্য প্রমাণ আছে।

বালিকা বধূদের বেশিরভাগই পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হয় বলেও আন্তর্জাতিক বেসরকারি সংস্থাগুলো বলে আসছে।

এ ধরনের বিয়ে বন্ধের জন্য গত বছর অভূতপূর্ব এক ফরমান জারি করেছিলেন নারী ধর্মীয় নেতারাও। তারা মেয়েদের বিয়ের সর্বনিম্ন বয়স বাড়িয়ে ১৮ করতে সরকারের প্রতি অনুরোধও জানিয়েছিলেন।

অল্প বয়সে বিয়ের পর বেশিরভাগ বালিকাই পড়াশোনা শেষ করতে পারে না এবং এ ধরনের অর্ধেকেরও বেশি বিয়ের পরিণতি বিচ্ছেদে শেষ হয়; বিভিন্ন গবেষণায় পাওয়া এমন তথ্য উপাত্তের সূত্রে নারী ধর্মীয় নেতারা ওই ফরমান দিয়েছিলেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য