আজিজুল ইসলাম বারী,লালমনিরহাট প্রতিনিধি: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় বৃটিশদের তৈরি করা লালমনিরহাট বিমানবন্দর চালু করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ১৯৪৭ সালে ভারত ভাগের পর পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা বিমানবন্দরটি আশির দশকে চালু করা হলেও ফের বন্ধ হয়ে যায়। এ বিমানবন্দরটি চালু হলে যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ আর্থ-সামজিক ব্যাপক পরিবর্তন হবে বলে আশা করছে উত্তরবঙ্গের মানুষ।

বিমানবন্দরটি সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র বলছে, এটি চালু করতে রানওয়ে সংস্কারের জন্য ইতোমধ্যে টাকাও বরাদ্দ দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। প্রায় চার মাইল লম্বা রানওয়ে, সুবিশাল টারমাক নিয়ে এ বিমানবন্দরের আয়তন ১ হাজার ১৬৬ একর। চালু হলে এটি হবে বাংলাদেশের অন্যতম বিমানবন্দর।

জানা যায়, ১৯৪৭ সালে ভারত ভাগের পর পরিত্যক্ত হয় বৃটিশদের তৈরি করা এ বিমানবন্দর। আশির দশকে সংস্কার করে চালু করা হলেও পরবর্তীকালে আবার বন্ধ হয়ে পড়ে এটি। সে থেকেই উত্তরাঞ্চলের মানুষ দীর্ঘদিন ধরেই আবার আকাশ পথে যোগাযোগ স্থাপনের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। তাদের আবেদনে সাড়াও দিয়েছে সরকার।

সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ও লালমনিরহাট-২ আসনের সংসদ সদ্স্য নুরুজ্জামান আহমেদ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিমানবন্দরটি পুনরায় চালু করার বিষয়ে কথা হয়েছে। দ্রুত এই বিমানবন্দরে বিমান চলাচল শুরু হয় সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আশ্বাস দিয়েছেন।’

লালমনিরহাট জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মতিয়ার রহমান বলেন, ‘বিমানবন্দরের রানওয়েটি পুনরায় সচল করা হবে এবং এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী পদক্ষেপ নিয়েছেন। প্রথম অবস্থায় এখানে সপ্তাহে দুটি করে বিমান ওঠানামা করবে।’

এফবিসিসিআই সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন জানান, লালমনিরহাটে বিমানবন্দর চালু হলে উত্তরের পিছিয়ে থাকা এ জেলার অর্থনৈতিক উন্নয়নের মূল হাতিয়ার হিসেবে কাজ করবে এটি। সেই সঙ্গে প্রসার ঘটবে ব্যবসা বাণিজ্যির। এছাড়া ভারত, ভূটান ও নেপালের সঙ্গেও আকাশ পথে যোগাযোগ সহজ ও দ্রুত হবে।

স্থানীয়রা আশা করছেন, বিমানবন্দরটি যাত্রী পরিবহনের জন্য উন্মুক্ত করে দিলে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব পাবে। তেমনি দ্রুততম সময়ে ঢাকায় যাতায়াতের সুবিধা ব্যবহার করে লাভবান হবে স্থানীয় জনগণ। এছাড়া এ বিমানবন্দর থেকে নেপাল, ভুটান, শিলিগুড়ি রুটে যাত্রী পরিবহন করার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মর্যাদা অর্জনও সম্ভব হবে।

লালমনিরহাট সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান একেএম মমিনুল হক ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘এলাবাসীর দাবি লালমনিরহাট বিমানবন্দরের ঐতিহ্য ফিরে আসুক এবং বিমানবন্দরটি পুনরায় চালু করা হোক। বিমানবন্দরটি চালু হবে এটি জেলাবাসীর প্রাণের দাবি।’

লালমনিরহাট বিমান বাহিনীর রক্ষণাবেক্ষণ ইউনিটের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, ভুটান সরকার লালমনিরহাট বিমানবন্দরটি ব্যবহারের জন্য পছন্দের তালিকায় রাখলেও আকাশসীমা নিয়ে জটিলতা থাকায় তা বাস্তবায়িত হচ্ছে না। তবে ভারত, বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় একটি চুক্তি হলেই বন্দরটি ব্যবহার করতে পারবে।

প্রসঙ্গত, ব্রিটিশ আমলে নির্মিত লালমনিরহাট বিমানবন্দরটি ছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ইংরেজ সরকারকে তথা তৎকালীন ভারতবর্ষকে রক্ষার একটি প্রধান বিমানক্ষেত্র। এই ঘাঁটি না থাকলে ভারতবর্ষ এবং ইংরেজদের ভারতবর্ষ ছাড়ার ইতিহাস হতো অন্য রকম। লালমনিরহাটকে তখন বলা হতো ‘গেটওয়ে টু নর্থ-ইস্ট’ এবং ‘মাউথ অব আসাম’; ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং তখনকার বিশাল প্রদেশ বৃহত্তম আসামে প্রবেশের একমাত্র পথ ছিল লালমনিরহাট। তাই সে সময় এ বিমানবন্দরের গুরুত্বও ছিল।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য