কুড়িগ্রামের চিলমারীতে হঠাৎ করে বোরো ধানে ব্লাস্ট রোগ দেখা দিয়েছে। এতে দিশেহারা হয়ে পড়েছে উপজেলার কৃষকরা। ধান কাটার সময় হঠাৎ এমন রোগ দেখা দেয়ায় চিন্তিত হয়ে পড়েছে কৃষকরা। উপজেলায় এবারে ধানের বাম্পার ফলনের আশা করেছিল চাষিরা। কিন্ত ধান পাকা শুরু হলে হঠাৎই ব্লাস্ট রোগের আক্রমনে জমিতে ধান চিটে হয়ে যাওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছে কৃষকরা।

উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে বোরো চাষের লক্ষ মাত্রা নির্ধারন করা হয়েছিল ৫হাজার ৯শ হেক্টর জমি। আবাদ করা হয়েছিল ৬ হাজার ৮শ হেক্টর জমিতে যা লক্ষ মাত্রার চেয়ে ৯ শ হেক্টর বেশী। উৎপাদনের লক্ষ মাত্রা ধরা হয়েছিল ৩৫ হাজার ৭শ মেট্রিক টন ধান। কিন্তু শেষ পর্যায়ে ধান ক্ষেতে ব্লাস্ট রোগের আক্রমনের কারনে নির্ধারিত লক্ষ মাত্রা অর্জিত না হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে ধারনা করছে সংশ্লিষ্টরা।

উপজেলার বান্দার ঘাট এলাকার কৃষক বজলুর রশিদ চলতি মৌসুমে বোরো চাষ করেছেন ৩বিঘা জমিতে। জমি চাষ,বীজ, সার, সেচ, কীটনাশক ও শ্রমিকের মজুরী বাবদ তিনি খরচ করেছেন বিঘা প্রতি ২০হাজার টাকা। সব মিলে তার মোট ৬০ হাজার টাকা খরচ হলেও বর্তমানে ১০ হাজার টাকার ধান পাবেন পাবেন কিনা বলে শঙ্কা প্রকাশ করছেন তিনি।

উপজেলার বওলার বিল, চাচলার বিল, হন্যের বন্দসহ বোরো উৎপাদনের মূল জমি সমুহেও এই ব্লাস্ট রোগের আক্রমন লক্ষ করা গেছে। পাত্রখাতা হাজিপাড়া এলাকার কৃষক মজিবর রহমান জানান, তার বোরো ধানের আবাদ ভালই হয়েছিল। হঠাৎ কয়েকদিন থেকে তার ধান ক্ষেতের পাতা সাদা এবং ধান চিটে হয়ে যাচ্ছে। ধান চাষ করতে যা খরচ হয়েছে উৎপাদিত ধান বিক্রি করে খরচের শতকরা ২৫ ভাগ উঠবে কিনা তা নিয়ে তিনি চিন্তিত।

মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের অভিযোগ তারা কৃষি অফিস কিংবা ব্লক সুপারভাইজারদের নিকট থেকে সঠিক পরামর্শ কিংবা সহায়তা পান না। এদিকে কৃষি দপ্তর সংশ্লিষ্টদের দাবী তারা সার্বক্ষনিক মাঠে রয়েছেন এবং বোরো ধানের নেক ব্লাস্ট থেকে পরিত্রানের জন্য কৃষকদের নানা পরামর্শ দান করছেন।

উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ খালেদুর রহমান বলেন, বোরো ধানের নেক ব্লাস্ট একটি ছত্রাক জাতীয় রোগ। ব্লাস্ট রোগ প্রতিকারের জন্য আমরা বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে কৃষকদের মাঝে লিফলেট বিতরণসহ বিভিন্ন উপায়ে জানানোর চেষ্টা করছি। এছাড়াও উপজেলা কৃষি দপ্তরে বিশেষ পরামর্শ কেন্দ্র খোলা হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য