আজিজুল ইসলাম বারী,লালমনিরহাট থেকে: লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার কাকিনায় নব্য আওয়ামীলীগের নেতৃত্বের পরিবর্তন চান তৃণমুল নেতাকর্মীরা।

বর্তমানে হাইব্রিড ও কাউয়া খ্যাত সু সময়ের নব্য আওয়ামীলীগের বজ্র কন্ঠের ঝাঁঝালো ভাষণ সু-কৌশলে দলে অনুপ্রবেশকারীদের হুঙ্কারে স্তব্ধ হয়ে যাচ্ছে অগনিত ওয়ার্ড এবং ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাকর্মীগণ। এখন আর পূর্বের মত কর্মীদের দলীয় সকল কর্মকান্ডে দেখাযায় না।

বাস্তব প্রেক্ষাপটে দেখাগেছে, যারা দলের সক্রিয় নেতাকর্মী তারা অনেকেই দলীয় অনেক সুযোগ সুবীধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বাস্তাবে সুবিধ ভোগ করছে হাইব্রিড ও কাউয়া খ্যাত নেতারা। এই বিষয়গুলো গভীর ভাবে দৃষ্টি না দিয়ে সিনিয়র অনেক নেতৃবৃন্দ দিনের পর দিন ক্ষমতার দাপটে অতীতের দুর্দিনের কথা ভুলে গিয়ে হাইব্রিডদের নিয়ে মৌজ মাস্তি করে দিন কাটাচ্ছেন।

পক্ষান্তরে দেখাযায়, দলে অনুপ্রবেশকারী হাইব্রিডদের দাপটে বিনষ্ঠ হচ্ছে এক সময়ের রাজপথ কাপানো লড়াকু সৈনিকদের মান সন্মান। তৃর্ণমুল ত্যাগী নেতাকর্মীরা কেন, কিসের অভিমানে, কিসের ক্ষোভ, কিসের কষ্ট বুকে চাপা দিয়ে রেখে দলীয় সব কর্মকান্ড থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন তার মুল কারনটাও জনার প্রয়োজন মনে করছেন না দলের কিছু নেতৃবৃন্দ।

যারা সংগঠনের নেতৃত্ব দেন তারা বরাবরই দায় সারা ভাবে কিছু সান্তনার বানী শুনিয়ে বছরের পর বছর ত্যাগী নেতা কর্মীদেরকে দলীয় অনেক সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত করে রাখছেন। স্থানীয় দায়িত্ব প্রাপ্ত নেতাদের কাছে এসব প্রশ্ন করতে গেলে ওনাদের সময় নেই এসব সোনার আবার বেশী জোর দিয়ে বলতে গেলে বিদ্রোহী বলে তিরস্কারও করেন।

এই বহিঃস্কার ও তিরস্কারের ভয়ে অনেকেই মুখ না খুলে বুকে চাপা অভিমান নিয়ে দলীয় কর্মকান্ড থেকে নিজেকে সরিয়ে নিচ্ছেন, এতে করে দলের ভাবমুর্তী যেমন নষ্ঠ হচ্ছে তেমনি নষ্ঠ হতে চলেছে দলের অবকাঠমোগত উন্নয়ন। দলের একজন সক্রিয় কর্মী হারানো মানে একশত হাইব্রিড মার্কা আওয়ামীলীগ শক্তির চেয়েও বেশী শক্তি হারিয়ে যাওয়া।

গুলো গভীর ভাবে পর্যালোচনা না করার কারনে দল হারাচ্ছে তার প্রয়োজনীয় শক্তি, যাদের আভির্বাব হয়েছে ধূমকেতুর মত তারা একদিন হারিয়েই যাবে এই সব ভুলের খেশারত যেন আওয়ামীলীগের কোন সক্রিয় নেতা কর্মীদেরকে দিতে না হয় সেই দিকে লক্ষ রেখে আগামী দলীয় সকল সংগঠনের সন্মেলনে যেন কোন কমিটিতে হাইব্রিড লালন পালনকারী প্রভাবশালী নেতা নামের কোন বিভিষনরা দলীয় কোন গুরুত্বপুর্ণ পদে বসতে না পারে সেদিকে সজাগ দৃস্টি রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন তৃণমুল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

আওয়ামীলীগের সকল নির্যাতিত বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিকদের প্রতি। যারা কর্মীদের অবহেলা করে তারা কোন অভিবাবক নয়, তারা মুখোশ পরিহিত নেতা। মোট কথা কাউয়া ও হাইব্রিট খ্যাত নেতারা দলের জন্য ক্ষতিকারক, বিপজ্জনকও বটে।

জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার কাকিনা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ এর প্রচার সম্পাদক ও সাবেক ছাত্র নেতা আব্দুল মতিন খসরু বলেন, কাকিনা আওয়ামীলীগে এখন চলছে রক্তিয়করণ। ত্যাগী ও দু:সময়ের নেতা কর্মীরা এখন সু-সময়ের বলির পাঠা।

কাকিনা ইউনিয়নের যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেন বলেন – এখন আওয়ামীলীগে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ নেই। ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ এখন পারিবারিক লীগে পরিণত হয়েছে। এখন আওয়ামীগের সু-সময়ের বন্ধু হচ্ছে বিএনপি- জামায়াতের সক্রিয় কিছু নেতা কর্মী।

যুবলীগ এর একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ইউনিয়ন আওয়ামীগের নেতৃত্বে যতক্ষণ পরিবর্তন আসবেনা না ততদিন দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন হবে না।

ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন – মাননীয় প্রতিমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ মন্ত্রিত্ব পাওয়ার পর থেকেই ত্যাগী নেতা কর্মীরা রহস্যজনক কারণে দল থেকে বোল্টআউট।

১নং ওয়ার্ডের প্রবীণ আওয়ামীলীগের সদস্য মঙ্গল অধিকারী সাংবাদিকের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন – নুরুজ্জামান আহমেদ সু-সময়টা কাজে লাগাতে পারলেন না! ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক আ: কাদের বলেন, দলীয় কোন কর্মসূচীর কথা নেতা কর্মীদের বলতে পারিনা। আওয়ামীলীগ সরকার এতদিন ক্ষমতায় থাকার পরেও তারা বঞ্চিত। যুবলীগ কর্মী আনোয়ার হোসেন বলেন, নেতা মন্ত্রীত্ব পাওয়ার পর দলে কাউয়াদের উৎপাত কয়েকগুন বেরে গেছে। কাউয়াদের কারণে ত্যাগী নেতা কর্মীরা পূর্বের মত মন্ত্রি’র কাছে পৌছিতে পারেন না।

কাকিনা ইউনিয়নের আওয়ামীলীগে’র সহ-সভাপতি মোহাম্মদ আলী ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, রাজনীতি করে কোন লাভ নেই। দলে নেতা কর্মীদের কোন মূল্যায়ন নেই। দলে নেতৃত্ব বদল জরুরী। তা না হলে আগামী জাতীয় নির্বাচনে এর প্রভাব পরবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য