দিনাজপুর সংবাদাতাঃ দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে কাঁকড়া নদী থেকে সরকারী নীতিমালা না মেনে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করায় কলেজের ভবনসহ সীমানা প্রাচির ও শহীদ মিনার হুমকির মধ্যে পড়েছে।

নীতিমালা অনুযায়ী নদীর তীর হতে কমপক্ষে ৭০ মিটার দূরে থেকে বালু উত্তোলন করার নির্দেশনা থাকলেও বালুমহাল ইজারাদার সেসবের তোয়াক্কা না করে প্রায় শতাধিক ট্রলির মাধ্যমে সরকারী নীতিমালা অমান্য করে জনস্বার্থ্য সংশ্লিষ্ট স্থাপনার ১০ মিটারের মধ্য হতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে।

এ ব্যাপারে কাঁকড়া নদীর ধারে অবস্থিত কারেন্টহাট ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ জালাল উদ্দিন মজুমদার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নিষেধ করা সত্ত্বেও বালুমহাল ইজারাদার ও ট্রাকটর চালকগন কর্ণপাত না করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করায় কলেজের ভবনসহ সীমানা প্রাচির ও শহীদ মিনার হুমকির মধ্যে পড়েছে। বিষয়টি উর্দ্ধতন কতৃপক্ষকে জানালেও আশানুরুপ ফল পাওয়া যাচ্ছেনা। অবশেষে নিজেই প্রতিরোধ শুরু করেছি।

গত শনিবার সকাল ১১ টায় কলেজের ভবনসহ সীমানা প্রাচির ও শহীদ মিনারের খুব কাছ থেকে ট্রাক্টরে বালু উত্তোলনের সময় কলেজ অধ্যক্ষ নিজে দৌড়ে গিয়ে ট্রাক্টরের চাবি তুলে নিয়ে সামনে দাড়িয়ে যান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে চালক চাবি ছাড়া ট্রাক্টর চালু করে ওই অধ্যক্ষের গায়ের উপর দিয়ে চলে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

এসময় স্থানীয় জনগণ এগিয়ে এসে অধ্যক্ষের পক্ষ নিয়ে ওই চালককে ধরে কলেজ অফিসে আটকে রাখেন। পরে কলেজ কতৃপক্ষ ওই চালককে ট্রাক্টরসহ থানায় সোপর্দ করলে স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা আলিম সরকারের মধ্যস্থতায় সরকারী নীতিমালা মেনে বালু উঠানোর মুচলেকা দিলে তাকে ওই অধ্যক্ষের উপস্থিতিতে ছেড়ে দেয়া হয়।

এ ঘটনায় বালুমহাল ইজারাদার স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান হাসিবুল হাসান জানান, কলেজের ভবনসহ সীমানা প্রাচির ও শহীদ মিনার রক্ষার স্বার্থে নীতিমালা অনুযায়ী বালু উত্তোলনের নির্দেশ দেয়া আছে। তবে কিছু নতুন নতুন চালক না বুঝে এ ভূল করছে।

ট্রাক্টর চালক আলিম উদ্দিন, ছপুর আলী, সোহরাব হোসেন বলেন, ইজারাদারের লোকজন কতৃক দেখিয়ে দেয়া জায়গা থেকে আমরা বালু উত্তোলন করে থাকি। আমরা উভয় সংকটে পড়ছি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য