মাসুদ রানা পলক, ঠাকুরগাঁওঃ মাদক সেবন ও ব্যবসায় বিরাধের জেরে ভাগ্নের হামলায় নিহত মামা সাদল চন্দ্র দাসের ময়না তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে।

রোববার দুপুরে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে তার ময়না তদন্ত অনুষ্ঠিত হয়।শনিবার ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাদল চন্দ্র দাস(৫৬) মারা যায়।

নিহত সাদল চন্দ্র দাস ঠাকুরগাঁও পৌরসভার আশ্রমপাড়া মহল্লার বাসিন্দা ও তিনি মাছ ব্যবসায়ী ছিলেন।

পুলিশ জানায়, ঠাকুরগাঁও শহরের আশ্রমপাড়ায় মহল্লার মাছ ব্যবসায়ী সাদল চন্দ্র দাসের ভাগ্নে মানিক চন্দ্র দাস মাদক সেবনে জড়িয়ে পড়ার খবর পেয়ে মামার পরিবারের লোকজন তাকে শাসন করে। এ নিয়ে গত ১৫ এপ্রিল সন্ধ্যায় ভাগ্নে মানিক চন্দ্র দাস লাঠি নিয়ে মামা ও তার পরিবারের অন্যান্যদের মারপিট করে।

এতে মামা সাদল চন্দ্র দাস, মুক্তিরানী, ববিতা রানী আহত হয়। স্থানীয়রা আহতদের ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। তন্মধ্যে মামা সাদল চন্দ্র দাসের অবস্থা আশংকাজনক হলে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়।

যথারীতি রোগীকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ভর্তি করা হয়।কিন্তু আর্থিক অস্বচ্ছলতার কারণে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে পুনরায় ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে ফিরিয়ে আনা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় শনিবার দুপুরে সাদল চন্দ্র দাস মৃত্যুবরণ করে। এ ঘটনায় মৃতের ছেলে বিকাশ চন্দ্র দাস বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করে।

ঠাকুরগাঁও সদর থানার ওসি আব্দুল লতিফ জানান, ঘটনার পরপরই আসামী মানিক চন্দ্র দাস(৪৫)কে গ্রেফতার করা হয় এবং তাকে জেলহাজতে প্রেরন করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, একটি ধর্ষন ও হত্যা মামলায় মানিক চন্দ্র দাসের যাবজ্জীবন সাজা হয়েছিল।সাজা খেটে বের হয়ে সে ঢাকায় গিয়ে সপরিবারে বসবাস শুরু করে। ১০/১৫দিন পূর্বে সে ঢাকা থেকে ঠাকুরগাঁওয়ে তার মামার বাড়িতে আসে এবং সেখানে বসবাস শুরু করে।কিন্তু কয়েকদিনের মধ্যে মাদক সেবক ও ব্যবসায় জড়িয়ে পড়লে মামার পরিবারের লোকজন অতিষ্ঠ হয়ে পড়ে।আর তাকে ওই পথ থেকে ফিরে আসার জন্য চাপ দেওয়ায় সে ক্ষিপ্ত হয়ে মামার পরিবারের উপর হামলা চালায়।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য