আরিফ উদ্দিন, গাইবান্ধা থেকেঃ গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সাহেবগঞ্জ বাগদাফার্মে আদিবাসী সাঁওতালদের পুড়িয়ে দেয়া স্কুল পুণঃপ্রতিষ্ঠাসহ ৭ দফা দাবীতে বিক্ষোভ মিছিল ও জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। রোববার সাহেবগঞ্জ বাগদাফার্ম-ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটি, আদিবাসী বাঙালী সংহতি পরিষদ, বাংলাদেশ আদিবাসী ইউনিয়ন, জাতীয় আদিবাসী পরিষদ ও জনউদ্যোগ যৌথভাবে এ কর্মসুচির আয়োজন করে।

গাইবান্ধা শহরের ১নং রেলগেট থেকে বিভিন্ন ফ্যাস্টুন, পতাকা সম্বলিত একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে গিয়ে সমবেত হয়। পরে সেখানে এক সাঁওতাল-বাঙালী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সাহেবগঞ্জ বাগদাফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির সভাপতি ফিলিমন বাসকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি জেলা শাখার সভাপতি ও প্রেসিডিয়াম সদস্য মিহির ঘোষ, আদিবাসী বাঙালী সংহতি পরিষদের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম বাবু, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি জেলা কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মুরাদজ্জামান রব্বানী, আদিবাসী-বাঙালি সংহতি পরিষদ ও জনউদ্যেগের সদস্য সচিব প্রবীর চক্রবর্তী, সিপিবি গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা সভাপতি তাজুল ইসলাম, সাহেবগঞ্জ বাগদাফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির সাধারণ সম্পাদক জাফরুল ইসলাম প্রধান, মানবাধিকার কর্মী কাজী আব্দুল খালেক, ভূমি সংগ্রাম কমিটির নেতা স্বপন শেখ, আদিবাসী নেতা থমাস হেমব্রম, রাফায়েল হাসদা, সুফল হেমব্রম, আদিবাসী নেত্রী প্রিসিলা মুর্মু, রোমেলা কিসকু ও অলিভিয়া মার্ডি প্রমুখ।

উল্লেখ্য যে, গত ৬ নভেম্বর ২০১৬ ওই এলাকার আদিবাসী পল্ল¬ীতে পুলিশের গুলিতে নিহত তিন সাঁওতাল শ্যামল, মঙ্গল ও রমেশ হত্যাকান্ডের বিচার। তাদের ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও নির্যাতনের ঘটনার তদন্ত করে দোষীদের শাস্তিসহ ৭ দফা দাবি জানিয়ে আসছে সাঁওতালরা। গৃহহারা আদিবাসী-বাঙালিরা ঝুপড়ি করে মানবেতর জীবন যাপন করছে। সেই সাথে আদিবাসী শিশুদের জন্য তাদের ভাষায় পড়াশুনার জন্য যে স্কুলটি ছিল যা সন্ত্রাসীরা পুড়িয়ে দিয়েছে তা পুণঃপ্রতিষ্ঠার জন্য জোর দাবী জানানো হয়।

সমাবেশে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ঘটনার ১৭ মাস পেরিয়ে গেলেও তিন সাঁওতাল হত্যাকান্ড মামলার দৃশ্যমান কোন অগ্রগতি হয়নি। বক্তারা ওই হত্যাকান্ডের জড়িত সকল আসামীকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে দ্রুত বিচার শুরু করার দাবি জানান।

সভায় বক্তারা আরো বলেন, রংপুর চিনিকল কর্তৃপক্ষ সাহেবগঞ্জ বাগদাফার্মের জন্য নেয়া সাঁওতাল ও বাঙালিদের কাছ থেকে আখ চাষের শর্তের ভিত্তিতে ১৮’শ একর জমি রিক্যুইজিশন করেছিল। কিন্তু এখন সেই শর্ত আর বাস্তবে কার্যকর নেই।

আখ চাষের পরিবর্তে ওইসব জমিতে অন্য ফসল চাষ এবং স্থানীয় প্রভাবশালীদের কাছে ওই জমি লীজ দিয়ে অনেক আগেই রিক্যুইজিশনের চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করা হয়েছে। ওই শর্ত ভঙ্গের কারণেই বাগদাফার্ম এলাকার সেই সময়ে নেয়া সম্পত্তির মালিক এখন আদিবাসী সাঁওতাল ও বাঙালিরা। বক্তারা অবিলন্বে আদিবাসী সাঁওতাল ও বাঙালিদের সম্পত্তি ফেরত দেবার দাবি জানান।

এসময় সমবেত সাঁওতাল-বাঙালীদের উদ্দেশ্যে জেলা প্রশাসক গৌতম চন্দ্র পাল বলেন, তিনি দাবীগুলো উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাবেন। স্কুল পুণঃপ্রতিষ্ঠার ব্যাপারে তিনি অত্র এলাকা পরিদর্শন করবেন। তিনি জানান তাদের বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে সরকার আন্তরিক ভাবে কাজ করছে। অত্র এলাকায় আদিবাসী সাঁওতালদের জন্য একটি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে।

সমাবেশ শেষে সাহেবগঞ্জ বাগদাফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির সভাপতি ফিলিমন বাসকে জানান আগামী ৩০ জুন গোবিন্দগঞ্জ হাইস্কুল মাঠে সাঁওতাল বিদ্রোহ দিবস উপলক্ষে আদিবাসী সমাবেশসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য