বন্দুক সহিংসতার প্রতিবাদে ক্লাসরুম বর্জন করে বিক্ষোভ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের স্কুলের শিক্ষার্থীরা। শুক্রবার সকালে ওই প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় দুই হাজার স্কুলের শিক্ষার্থীরা শামিল হয়। কোলারাডোর কলোম্বাইন হাই স্কুলে বন্দুকহামলার ১৯তম বার্ষিকীতে ওই প্রতিবাদ আয়োজন করা হয়েছিল। এদিকে, প্রতিবাদ কর্মসূচি শুরুর মাত্র এক ঘণ্টা আগে ফ্লোরিডার একটি স্কুলে গুলির ঘটনা ঘটেছে।

কলোম্বাইন হাই স্কুলের হত্যাকাণ্ড স্মরণে এবং যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বার বার ঘটা অস্ত্র সহিংসতার ঘটনার প্রতিবাদে উচ্চ বিদ্যালয় পর্যায়ে এই ক্লাসরুম বর্জন প্রতিবাদের আয়োজন করা হয়। একজন শিক্ষার্থীর উদ্যোগে সাড়া দিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের প্রায় দুই হাজার স্কুলে কর্মসূচীটি পালিত হয়েছে। প্রতিবাদ কর্মসূচীটির উদ্যোক্তা কানেক্টিকাটের উচ্চ বিদ্যালয় স্তরের শিক্ষার্থী লেন মার্ডক। প্রতিবাদ কর্মসূচীর আয়োজন করতে অনলাইনে আবেদন করেছিলেন তিনি। নির্বাচারে বন্দুক বিক্রি ও তা ব্যবহারের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের প্রাণহানি হওয়ার প্রতিবাদে ২ লাখ ৭০ হাজারেরও বেশি মানুষ সেই অনলাইন আবেদনে স্বাক্ষর করেছিলেন। পরবর্তীতে কর্মসূচীটি পালনে যুক্ত হয় যুক্তরাষ্ট্রের ২ হাজারেরও বেশি বিদ্যালয়।

উদ্যোক্তা লেন মার্ডক জানান, রাজনীতিবিদ ও নীতিনির্ধারকদের বার্তা দিতেই দেশজুড়ে ওই কর্মসূচীর আয়োজনের আহ্বান জানিয়েছিলেন তিনি। অবাধে বন্দকু বিক্রির প্রতিবাদে আয়োজিত সমাবেশে কলোম্বাইন বিদ্যালয়ে হওয়া গোলাগুলির ঘটনায় নিহত ১৩ জনের জন্য ১৩ সেকেন্ড নীরবতা পালন করা হয়। সমাবেশ থেকে প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়, বন্দুক নিয়ন্ত্রণে আইন পরিবর্তনের জন্য স্থানীয় সিনেট সদস্যদের কাছে দাবি জানানো হবে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারণা চালিয়ে যাওয়া হবে।

বন্দুকবিরোধী প্রচারণা যে বেশ কাজে লাগছে তার একটি প্রমাণ তুলে ধরেছে বিবিসি। তারা কানেক্টিকাটের একজন বন্ধুকবিরোধী শিক্ষার্থীর কথা তুলে ধরেছে। ওই শিক্ষার্থী মার্চে হওয়া আন্দোলনের সময় যেখানে একা ছিল, এবার সেখানে তার সঙ্গে যোগ হয়েছে তার কয়েক ডজন সহপাঠী। লেন মার্ডকের ‘দ্য ন্যাশনাল স্কুল ওয়াকআউট ক্যাম্পেইন’ শিরোনামের কর্মসূচিটি ব্যাপক সাড়া ফেলে। এর আগে ১৪ মার্চ একই রকম একটি কর্মসূচীর আয়োজন করা হয়েছিল। মার্জারি স্টোনম্যান ডগলাস হাই স্কুলে চালানো গোলাগুলির ঘটনায় ১৭ জনের নিহত হওয়ার এক মাসের মাথায় আয়োজন করা হয়েছিল ওই প্রতিবাদ। ক্লাসরুম বর্জন কর্মসূচিতে জড়িত হয়েছিলেন অনেক সেলিব্রেটিও। অভিনেতা রবার্ট ডি নিরো ও জুলিয়ান মুর শিক্ষার্থীদের প্রতি সংহতি জানিয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার কোলারাডোর শিক্ষার্থীরা কলোম্বাইন হাই স্কুলে ‘ভোট ফর আওয়ার লাইভস’ নামের একটি সমাবেশ আয়োজন করে হত্যাযজ্ঞের ঘটনাস্থলে। ফ্লোরিডার পার্কল্যান্ডের ৬০জন শিক্ষার্থী এতে অংশ নেয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন ২০১৩ সালে কাছের একটি স্কুলে গুলিবর্ষণের ঘটনায় বেঁচে যাওয়া শিক্ষার্থীরা। ১৯৯৯ সালের ২০ এপ্রিল কলোম্বাইন হাই স্কুলের দুই শিক্ষার্থীর গুলিতে নিহত হন ১২ জন সহপাঠী ও তাদের এক শিক্ষক। পরে শিক্ষার্থীরা আত্মহত্যা করে। এতে আহত হয়েছিলেন আরও ২৪ জন।

এদিকে, শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ শুরু মাত্র এক ঘণ্টা পূর্বে ফ্লোরিডার ফরেস্ট হাই স্কুলে গুলির ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ওই ঘটনায় একজন শিক্ষার্থী গুলিবিদ্ধ হয়েছে। গুলি চালানো ব্যক্তিকে প্রাথমিকভাবে ওই বিদ্যালয়ের ছাত্র মনে করা হলেও, বিবিসি পুলিশের সূত্রে নিশ্চিত করেছে হামলাকারী বর্তমানে ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নয়। আহত শিক্ষার্থীর পায়ে গুলি লেগেছে। তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ফ্লোরিডার বিদ্যালয়ে গোলাগুলির ঘটনার পর বিভিন্ন স্থান থেকে বন্দুকধারীদের বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে দেখা যাওয়ার খবর আসতে শুরু করেছিল। যদিও পরে নিশ্চিত হওয়া গেছে, সেগুলো ছিল ভুয়া।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য