বিরলের ধর্মপুর ইউপি’র কামদেবপুর গ্রামে পূণর্ভবা নদীতে ডুবন্ত অবস্থায় একটি শতবছরের পুরোনো নৌকার সন্ধান পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী নৌকার অংশবিশেষ তুলে নিয়ে যাওয়ায় এটি সংরক্ষণে উদ্যোগ নেয়া জরুরী হয়ে পড়েছে।

দুপুরে স্থানীয় প্রশাসন সংবাদ পেয়ে এলাকাবাসীকে নৌকার মূল্যবানসহ যে কোন প্রকারের সামগ্রী তুলতে নিষেধ করেছে। সম্পূর্ণ অযত্ন আর অবহেলায় নৌকাটি বছরের পর বছর এভাবে পড়ে রয়েছে বলে এলাকাবাসী জানিয়েছে। ৫ বছর পূর্বে একবার হঠাৎ এ নৌকাটি পানির নীচে দেখতে পেয়ে অনেক মূল্যবান কাঠসহ মালামাল এর আগে ঐ নদীর দু’ধারের মানুষ তুলে নিয়ে গেছিল।

সে সময় মানুষের হাড়-গোড় পাওয়ায় ভয়ে আর কেউ ঐ নৌকার বিষয়ে মুখ খূলেনি বা আর কোন মালামাল নেয়নি। কিন্তু ৫ বছর পর এবার আবারো ঐ জায়গায় বুধবার সকালে কামদেবপুর গ্রামের মানুষ নদীতে পানি থাকায় মাছ ধরতে গিয়ে একটি বড় কাঠ পায়। এরপর পানির নীচে বাঁশ দিয়ে নড়াচড়া করে আরো অনেক কাঠ বের করে ফেলে।

পরে বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে জনৈক এক ব্যক্তি ড্রেজার স্যালো মেশিন দিয়ে আধঘন্টার মত আশপাশের বালু তুলতে শুরু করলে জুতা পাঞ্জাবীসহ অনেক কিছু ঐ স্থান হতে বের হতে শুরু করে। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই থানা পুলিশ ওখানে পৌছে বালু উত্তোলন বন্ধসহ নৌকার অংশবিশেষসহ যে কোন প্রকারের সামগ্রী তুলতে নিষেধ করায় আইনী ঝামেলায় পড়ার ভয়ে বিষয়টি নিয়ে আর কেউ মুখ খুলছে না।

তবে এলাকাবাসীর অনেকে জানান, বয়োজেষ্ঠদের থেকে শুনেছেন ঐ এলাকায় ৫ হাজার মনের ৫টি খেয়া (নৌকা) শতবছর আগে ডুবেছিল। ঐ স্থানে অনেক পানি জমে থাকায় কেউ এ ব্যাপারে এতদিনে খোঁজ নেয়ার সাহস পায়নি। ৫ বছর আগে যখন খোঁজ পেয়েছিল তখন মানুষের হাড়-গোড় পাওয়ায় আবারো সবার মুখ বন্ধ ছিল। এবার ভারী বর্ষণ পরবর্তী এ সময়ে ঐ এলাকায় বেশ পলি (বালু) জমায় পানির স্তর ৪-৫ ফুটে নেমে আসায় আবারো নৌকাটির কাঠসহ মালামাল পাওয়া যাচ্ছে।

নৌকাটি প্রায় ৭০ হাত এর অধিক লম্বা ও ৩০ হাত প্রসস্থ্য হতে পারে বলে এলাকাবাসী প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে। একসময় ভারতের দক্ষিণ দিনাজপুর জেলাসহ এই এলাকার মানুষ দার্জিলিংয়ে এই নদী পথে মালামাল পরিবহণ করে আসছিল বলে লোকমুখে প্রচারণা রয়েছে। তাই এলাকাবাসী এটি সংরক্ষণে সরকারীভাবে উদ্যোগ নেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য