আজিজুল ইসলাম বারী,লালমনিরহাট থেকে: লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় অপহৃত এক মাদ্রাসা ছাত্রীকে পতিতা বানানোর চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।

অপহরন মামলা ভিন্নখাতে নিতে দশম শ্রেনীর এ ছাত্রীকে পতিতা উল্লেখ করে পুলিশ সুপার বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ করেন আসামীরা।

মামলা ও অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে, আদিতমারী উপজেলার পলাশী ইউনিয়নের নামুড়ি গ্রামের সাজিদার রহমান পাখির ছেলে আবু বক্কর (২২) পাশের গ্রাম নামুড়ি উত্তর পাড়ার নামুড়ি ডিএস দাখিল মাদ্রাসা পড়ুয়া কিশোরী (১৫) কে গত ৪ জানুয়ারী রাতে বাড়ির পাশ থেকে মোটর সাইকেল যোগে নিয়ে যায়। এরপর বাড়ির লোকজন তাকে খুজে না পেয়ে থানা পুলিশকে অবগত করলে মেয়েটির সন্ধানে মাঠে নামে পুলিশ।

পুলিশি ঝামেলা এড়াতে গত ২৬ মার্চ রাতে মেয়েটিকে নিয়ে নিজ বাড়িতে ফিরে আবু বক্কর। পরদিন রাতে বাড়ির সবাই মিলে মেয়েটিকে মারপিট করে সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে সজ্ঞাহীন অবস্থায় মেয়েটির বাড়ির পাশে ফেলে পালিয়ে যায় আবু বক্কর ও তার লোকজন। ওই দিন রাতে পথচারীরা আহত মেয়েটিকে মুখ বাঁধা অবস্থায় দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে আদিতমারী হাসপাতালে ভর্তি করে।

পরে মেয়েটি অপহরনের বিষয়টি উল্লেখ করে আদিতমারী থানায় আবু বক্করসহ ৫জনের বিরুদ্ধে একটি অপহরন মামলা দায়ের করেন।

মামলা থেকে রেহাই পেতে অপহৃত মেয়টিকে পতিতা উল্লেখ করে লালমনিরহাট পুলিশ সুপার বরাবরে একটি অভিযোগ দায়ের করেন অপহরন মামলার প্রধান আসামী আবু বক্করের মা রশিদা বেগম।

নামুড়ি ডিএস দাখিল মাদ্রাসার সভাপতি মেয়েটির প্রতিবেশী এনামুল হক ভরসা জানান, অপহরন মামলাটিকে ভিন্নখাতে নিতে আসামীরা মেধাবী ছাত্রীকে পতিতা বানোর চেষ্টা করছে। একজন কিশোরী কখনই পতিতা হতে পারে না। তিনি উচ্চতর তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার জোর দাবি জানান।

আদিতমারী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) হরেশ্বর রায় জানান, অপহৃতাকে উদ্ধার করে মেডিকেল পরীক্ষার রিপোর্ট নিয়ে নিয়মিত মামলা নেয়া হয়েছে। আসামীদের গ্রেফতার করতে জোর চেষ্টা চলছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য