11 22 18

বৃহস্পতিবার, ২২শে নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ৮ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ১৩ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৪০ হিজরী

Home - দিনাজপুর - মঙ্গলবার ফুলবাড়ী আঁখিরা গণহত্যা দিবস, আজও নির্মান করা হয়নি স্মৃতিস্তম্ভ

মঙ্গলবার ফুলবাড়ী আঁখিরা গণহত্যা দিবস, আজও নির্মান করা হয়নি স্মৃতিস্তম্ভ

ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ ১৭ এপ্রিল দিনাজপুরের ফুলবাড়ী আঁখিরা গণহত্যা দিবস। এই দিনে ১৯৭১ সালে উপজেলার আলাদীপুর ইউনিয়নের বারাইহাট থেকে ১০০ গজ দূরে আঁখিরা নামক পুকুরপাড়ে খান সেনাদের হাতে প্রাণ হারায় ভারতে আশ্রয় নিতে যাওয়া ফুলবাড়ী, নবাবগঞ্জ, পার্বতীপুর ও বদরগঞ্জ উপজেলার প্রায় ৫শ’র অধিক নারী-পরুষ ও শিশু। আজও এই ঘটনার বেদনাবিধুর স্মৃতি নিয়ে বেঁচে আছেন অনেকে।

App DinajpurNews Gif

স্বাধীনতার ৪৭ বছর পরেও আজও সংরক্ষণ করা হয়নি এই ঐতিহাসিক বদ্ধ ভূমিটি। নির্মান করা হয়নি কোন স্মৃতিস্তম্ভ। উপজেলার এক মাত্র এই বদ্ধভূমিটিতে এখন ধান ওমাছ চাষ করা হচ্ছে। ফলে নতুন প্রজন্মে নিকট অজানা থেকে যাচ্ছে এই্ ঐত্যিহাসিক দিন ও স্থানটি। এই নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেক মুক্তিযোদ্ধরা।

মুক্তিযোদ্ধা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ১৯৭১ সালে পাক হানাদার বাহিনীর হাত থেকে রক্ষা পেতে ফুলবাড়ী উপজেলার রামভদ্রপুর, নবাবগঞ্জ উপজেলার খোশলামপুর ও পার্বতীপুর উপজেলার হামিদপুর ইউনিয়নের বাধদিঘী ও বদরগঞ্জ উপজেলার কয়েকটি গ্রামের ৫শ’র অধিক হিন্দু সম্প্রদায়ের নারী-পুরুষ ও শিশু একত্রিত হয়ে ভারতে আশ্রয় নেয়ার চেষ্টা করে। এসময় রামভদ্রপুর গ্রামের কুখ্যাত রাজাকার কেনান সরকার তাদেরকে ভারতে পৌছে দেয়ার কথা বলে, তাদের নিকট থেকে সোনা-দানা ও নগদ অর্থ নিয়ে, তাদেরকে ভারতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে যাত্রা শুরু করে।

৫শ’র অধিক মানুষের এই দলটি উপজেলার শিবনগর ইউনিয়নের শিবনগর গ্রামের মধ্য দিয়ে সমশেরনগর গ্রাম হয়ে বারাইহাট পার হয়ে আঁখিরা পুকুরপাড়ে পৌছা মাত্র, কুখ্যাত রাজাকার কেনান সরকার ও তার সঙ্গীরা এই নিরীহ মানুষদেরকে পাক হানাদার বাহিনীর হাতে তুলে দেয়। পাক হানাদার বাহিনী সদস্যরা এই ৫শ’র অধিক মানুষকে এক লাইনে দাঁড় করে ব্রাশ ফায়ার করে হত্যা করে। এই ঘটনার কয়েকদিন পরেও মানুষের মৃতদেহ গুলি সেখানে পড়ে থাকায় রাতের অন্ধকারে স্থানীয় বাসীন্দারা ও মুক্তি যোদ্ধারা ষেখানে খাল খনন করে পুতে দেয়।

ভাগ্যের জোরে বেঁচে যাওয়া ওই দলের সহযাত্রী উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামের বাসিন্দা রাখাল চন্দ্র (৬৪) জানায়, কুখ্যাত রাজাকার কেনান সরকারের কথায় বিশ্বাস করে যাত্রা শুরু করেছিল ৩ উপজেলার প্রায় ৫শতাধিক মানুষ। কিন্তু তাদের বিশ্বাস এভাবে ধ্বংস হয়ে যাবে তারা বিন্দুমাত্র বুঝতে পারেনি।

এদিকে আখিঁরা গণ হত্যা বর্ণনা করতে গিয়ে প্রত্যক্ষ দর্শী বারাইহাট বাজারের পল্লী চিকিৎসক অনিল কুমার (৬৩), বলেন এই গনহত্যা সময় তিনি পাশবর্তী বড়গাছা গ্রামে একটি ঝোপে লুকিয়ে পড়েন। এর পর খান সেনারা চলে গেলে তিনি এসে দেখতে পান শত শত নারী-পুরুষ ও শিশুর গুলিবিদ্ধ মৃত্যু দেহ। এ সময় একটি এক থেকে দেড় বছর বয়সে শিশু তার মৃত্যু মায়ের স্তনপান করতে দেখতে পান। এর পর অনেক লোক সেখানে এসেছে তাদের মধ্যে কেউ জীবিত বাচ্ছাটিকে নিয়ে গিয়েছেন। একই কথা বলেন আর এক প্রত্যক্ষদর্শী বড়গাছা গ্রামের আব্দুল খালেক, তিনি বলেন বহু দিন পর্যন্ত এই পুকুরটিতে মানুষের হাড় ও মাথার খুলি পড়ে ছিল। সে দিনের সেই স্মৃতি তার চোখের সামনে আজও ভেসে ওঠে।

ফুলবাড়ী উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ডিপুটি কমান্ডার এছার উদ্দিন বলেন, ফুলবাড়ীর যে কয়টি ঘিœত কু-কর্মের অধিকারী রাজাকার ছিল তাদের মধ্যে কেনান সরকার অন্যতম। সে শুধু ওই ৫শ মানুষের প্রাণই নেয়নি, তার হাতে নিহত হয়েছে ফুলবাড়ীসহ কয়েকটি উপজেলার কয়েক হাজার নিরীহ মানুষ। এ জন্য যুদ্ধ শেষ হওয়ার আগেই, মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে তার মৃত্যু হয়েছে। তার অনেক সঙ্গী এখন ফুলবাড়ী থেকে বিতাড়িত। তিনি আজও এই ঐতিহাসিক বদ্ধ ভূমিটি সরকারি উদ্যোগে সংরক্ষণ না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি আরও বলেন, কয়েক দফায় এই আঁখিরা নামক জায়গাটি পরিদর্শন করা হয়েছে কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। এখন এই ঐতিহাসিক আঁখিরা নামক জায়গাটি সংরক্ষণ না হওয়ায় ঐ এলাকার কৃষকেরা চাষাবাদ করছে।

এই বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুস সালাম চৌধুরীর সাথে কথা বলরে তিনি জানায় বদ্ধভুমিটি সংরক্ষনের উদ্যেগ গ্রহন করা হয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মান কাজ শুরু হবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য