আজিজুল ইসলাম বারী, লালমনিরহাট থেকে: আগামী ১৬ এপ্রিল জাতীয় পার্টি (জাপা) চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের লালমনিরহাট আগমনকে ঘিরে দলীয় নেতাকর্মীরা চাঙ্গা হয়ে উঠলেও দলের কেন্দ্রীয় সদস্য এমজি মোস্তফাকে বহিষ্কার করায় স্থানীয় জাপা দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে।

গত বৃহস্পতিবার জাতীয় পার্টির যুগ্ম-দফতর সম্পাদক এমএ রাজ্জাক খান এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে দলের চেয়ারম্যানের সাংগঠনিক নির্দেশে এমজি মোস্তফাকে পার্টির প্রাথমিক সদস্য পদসহ সকল পদ ও পদবির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি প্রদান করেন। তার এ প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর পরেই লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা ও পাটগ্রাম উপজেলায় জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। তারা হাতীবান্ধা দলীয় কার্যালয়ে মিলিত হয়ে বহিষ্কারের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

তবে এমজি মোস্তফা জানান, তিনি যেহেতু কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, সেহেতু এক মাত্র দলের চেয়ারম্যান ছাড়া অন্য কেউ তাকে বহিষ্কার করতে পারে না। আগামী ১৬ এপ্রিল লালমনিরহাটের আদিতমারীতে জাতীয় পার্টির জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।

জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জাতীয় পার্টির দুর্গ হিসেবে পরিচিত লালমনিরহাটের ৩টি আসনেই এখন আওয়ামী লীগের দখলে চলে গেছে।

জেলার ৫টি উপজেলার মধ্যে লালমনিরহাট-২ (কালীগঞ্জ ও আদিতমারী) উপজেলায় দলীয় কোন্দল না থাকলেও বাকি ৩ উপজেলায় দলীয় কোন্দলের কারণে সাংগঠনিক অবস্থা নেই বললেই চলে।

লালমনিরহাট-১ (হাতীবান্ধা-পাটগ্রাম) আসনে দলের চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ তার ব্যক্তিগত কর্মকর্তা মেজর (অব.) খালেদ আখতারকে প্রার্থী ঘোষণা দিলেও তা মানতে নারাজ মাঠের নেতাকর্মীরা।

অন্য দিকে লালমনিরহাট-৩ সদর আসনে এরশাদ তার ছোট ভাই জিএম কাদেরকে প্রার্থী ঘোষণা করলেও অপর একটি অংশ ওই আসন থেকে কেন্দ্রীয় নেতা অধ্যক্ষ একেএম মাহবুবুল আলম মিঠুকে প্রার্থী করার দাবি করে আসছেন। ফলে দলের চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের আগমনকে ঘিরে জেলার এমপি প্রার্থীসহ তাদের নেতাকর্মীরা পাল্টাপাল্টি অবস্থান নিয়ে ব্যাপক শোডাউনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

লালমনিরহাট-২ (কালীগঞ্জ-আদিতমারী) আসনে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা রোকন উদিন বাবুলের নেতৃত্বে দলের নেতাকর্মীরা শক্ত অবস্থানে থাকলে বাকি উপজেলাগুলোতে দলীয় কোন্দলের কারণে সাংগঠনিক অবস্থা ভেঙে পড়েছে।

দলীয় কোন্দলের কারণে হাতীবান্ধায় জাতীয় পার্টির দুটি আলাদা আলাদা দলীয় কার্যালয় হয়েছে।

এদিকে গতকাল শুক্রবার বিকেলে হাতীবান্ধা শাখা জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা জাতীয় পার্টির নেতা-কর্মীরা বলেন, আগামী ৪৮ ঘন্টার মধ্যে যদি কেন্দ্রিয় কমিটির সদস্য এম জি মোস্তফার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা না হয় তাহলে উপজেলার সকল নেতা-কর্মীরা গণ পদত্যাগ করবেন।

হাতীবান্ধা উপজেলা জাতীয় পার্টির সদস্য সচিব মিজানুর রহমান মিলন বলেন, লালমনিরহাট-১ (হাতীবান্ধা-পাটগ্রাম) আসনে জাতীয় পার্টির রাজনীতি এমজি মোস্তফাকে ঘিরে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে এই দুই উপজেলায় জাতীয় পার্টিকে শক্তিশালী করতে কাজ করে যাচ্ছেন। এ ছাড়া এ আসনে দলের চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নির্বাচন করার কথা রয়েছে। নির্বাচনের পূর্বে পরিকল্পিতভাবে এমজি মোস্তফাকে বহিষ্কারের মধ্য দিয়ে জাতীয় পার্টি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাই বহিষ্কার আদেশ প্রত্যাহারে দলের চেয়ারম্যানের কাছে অনুরোধ করছি।

এ দিকে লালমনিরহাট-১ (হাতীবান্ধা-পাটগ্রাম) আসনে জাতীয় পার্টির মনোনীত এমপি প্রার্থী, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের বক্তিগত কর্মকর্তা মেজর (অব.) খালেদ আখতার বলেন, লালমনিরহাটে জাতীয় পার্টিতে কোনো কোন্দল নেই। দলীয় গঠনতন্ত্রের ভিত্তিতে পার্টির চেয়ারম্যানের নির্দেশে এমজি মোস্তফাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এতে দলের কোনো ক্ষতি হবে না বরং ওই দুই উপজেলায় জাতীয় পার্টি আরো শক্তিশালী হবেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য