বিরামপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ দিনাজপুর জেলার বিরামপুর উপজেলার দিওড় ইউনিয়নের বৈদাহার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাসরিন বেগম কর্তৃক ঘোষিত স্কুল পরিচালনা কমিটির অবৈধ তফসিল বাতিলের অভিযোগ এনে এলাকাবাসি গণস্বাক্ষরসহ উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর অভিযোগ দায়ের করেছেন।

এ বিষয়ে স্কুল এলাকার বৈদাহার, ধানঘরা, পলাশবাড়ী, নরহরিপুরসহ ৪টি গ্রামের অভিভাবক ও সচেতন মহল স্কুলের প্রধান শিক্ষক নাসরিন বেগমের এমন যোগসাজসি কারসাজি ও অবৈধ্য ভাবে স্কুল পরিচালনায় কমিটির নির্বাচনী তফশীল দ্রুত বাতিলের জন্য নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে গতকাল বাদ জহর সকলের উপস্থিতিতে স্কুলের পার্শ্বের আব্দুল মালেকের উঠানে অভিভাবক সমাবেস করেছেন।

প্রতিবাদ সমাবেশে উপস্থিত অভিভাবক ও সচেতন মহলের মধ্য থেকে সাবেক স্কুল পরিচালনা কমিটির সদস্য আজিজুল ইসলাম জানান, কমিটির মেয়াদ আগামী ২২ এপ্রিল পর্যন্ত রয়েছে। প্রধান শিক্ষক নাসরিন বেগম উদ্দেশ্য প্রনোদিত ভাবে কমিটির সদস্যদের না জানিয়েই নির্বাচনী নীতিমালা উপেক্ষা করে অনিয়ম ও দূর্নীতির আশ্রয় নিয়েছেন মর্মে অবৈধ্য তফশীল বাতিলের দাবী জানিয়েছেন।

এ সময় অভিভাবক আল মামুন জানান, তিনি প্রতিবেশিদের মুখে স্কুল পরিচালনা কমিটির নির্বাচনের কথা শুনে প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে তাঁর অফিসে ২৬ মার্চ যোগাযোগ করেন। প্রধান শিক্ষক তাকে জানিয়েছেন নির্বাচনী প্রস্তুতির নোটিশ ২৫ মার্চ দেওয়া হয়েছে। ২৭ মার্চ মনোনয়ন সংগ্রহের শেষ তারিখ। তাই আল মামুন দুই হাজার টাকায় মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করেন।

নির্বাহী অফিসার বরাবর আবেদন কারি তোশারফ হোসেন, প্রথম শ্রেণীর শিক্ষার্থী ফুয়াদের পিতা ফারুকসহ আরো অনেকেই অভিযোগ করে জানান, স্কুল পরিচালনা কমিটির সদস্য ও সভাপতি পদে দাতা সদস্যেদের মুল্যায়ন করা হয়রা। স্কুলের জন্য ৫৪ শতাংশ জমির দাতা সাহাবাজ উদ্দিন, ২৫ শতাংশ জমির দাতা ছাবেদ আলী, ১৫ শতাংশ জমির দাতা অছুর উদ্দিন কে স্কুল কমিটির কোন মিটিং ও অনুষ্ঠানে ডাকা হয়না । কেবল ২ শতাংশ জমির দাতা আহতাজ মাস্টার ও তাঁর আপন ভাই ভাজতারাই অত্র বৈদাহার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি ও সদস্য পদে থাকেন।

তাই প্রধান শিক্ষক আহতাজ মাস্টারের মদদে তড়ি ঘড়ি করে চলতি নির্বাচনী তফশিল ঘোষনা পূর্বক আহতাজ মাস্টারের বাড়ী থেকে তাঁর দুইভাই আক্কাস আলী ও সহরাফ হোসেন এবং অপর ভাই মৃত: খায়েরের ছেলে বজলুর রশিদকে মনোনয়ন পত্র তুলতে সহায়তা করেছেন বলে দাবি করেছেন। কারণ আহতাজ মাস্টাকেই কেন স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতিতে আসতে হবে। তাতে প্রধান শিক্ষক নাসরিন বেগমের সুবিধা কোথায়ই ? এমনটায় এলাকা বাসিদের প্রশ্ন। তাঁরা দ্রুত অত্র প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নির্বাচনী তফশীল বাতিলের দাবী জানিয়ে বিরামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর আবেদন জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে অত্র বৈদাহার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাসরিন বেগমের মুঠোফোনে বেশ কয়েকবার যোগাযোগের চেষ্ঠা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

অভিযোগের প্রেক্ষিতে ১১ এপ্রিল দুপুরে উপজেলা শিক্ষা অফিসারের কার্য্যালয়ে গিয়ে এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভারপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ আমিনুল ইসলাম ঘটনার বিষয়ে অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, নির্বাহী অফিসার বরাবর এলাকাবাসিদের গণস্বকাক্ষরসহ একটি অভিযোগ দায়ের হয়েছে। তিনি আমাকে নির্দেশ প্রদান করলে আমি তদন্ত সাফেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করব।

কমিটির মেয়াদ শেষ না হতেই সাবেক সভাপতির মদদে ও তাঁকে সহায়তা করতে নির্বাচনী নীতিমালা উপেক্ষা করে স্কুল পরিচালনা কমিটির নির্বাচনী তফষিল ঘোষনায় অনিয়ম ও স্কুলের জমির সম্পদের দূর্নীতির অভিযোগ তুলে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে উপস্থিত ৪টি গ্রামের অভিভাবক ও এলাকার সর্বস্থরের সচেনত মহল ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। সেই সাথে দ্রুত অত্র প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নির্বাচনী তফশীল বাতিল করে পুনরায় নির্বাচনী তফশীল ঘোষনার দাবী জানিয়ে বিরামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের প্রতি জোর দাবী জানিয়েছেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য