সড়ক দুর্ঘটনায় বাবা-মার মৃত্যুর চার বছর পর তাদের সন্তানের জন্ম হয়েছে বলে খবর দিয়েছে চীনের গণমাধ্যম।

সম্প্রতি জন্ম নেওয়া শিশুটির বাবা-মা ২০১৩ সালে মর্মান্তিক এক দুর্ঘটনায় নিহত হন, কিন্তু আইভিএফ পদ্ধতিতে সন্তান গ্রহণের উদ্দেশ্যে আগে থেকেই নিজেদের বেশ কয়েকটি ভ্রুণ হাসপাতালের হিমাগারে সংরক্ষিত রেখেছিলেন ওই দম্পতি।

ওই ভ্রুণগুলো থেকে গত বছরের ডিসেম্বরে সারোগেসি পদ্ধতিতে লাওসের এক নারীর গর্ভে একটি শিশুর জন্ম হয় বলে বেইজিং নিউজের বরাতে জানিয়েছে বিবিসি।

বেইজিং নিউজ জানিযেছে, মৃত্যুর পরও ওই চীনা দম্পতির ভ্রুণ চীনের নানজিং হাসপাতালের একটি তরল নাইট্রোজেন ট্যাংকে মাইনাস ১৯৬ ডিগ্রি তাপমাত্রায় সংরক্ষিত ছিল।

দুর্ঘটনার পর সংরক্ষিত ওই ভ্রুণের অধিকার পেতে নিহত দম্পতির বাবা-মাদের কঠিন আইনী লড়াই চালিয়ে যেতে হয়েছে।

এ ধরনের ঘটনার ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট বিধিবিধান না থাকায় মৃত দম্পতির বাবা-মাকে সারোগেসি পদ্ধতি নিয়ে ব্যাপক আইনী ঝামেলা পোহাতে হয়েছে। দীর্ঘ আইনী লড়াইয়ের পর আদালত ভ্রুণগুলোর ক্ষেত্রে দাদা-দাদি ও নানা-নানির অধিকার মেনে নেয়।

এর আগে চীনে মৃত সন্তানের ভ্রুণে পিতামাতার উত্তরাধিকারের কোনো নজির ছিল না বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

মৃত দম্পতির পিতা-মাতা হিমায়িত ভ্রুণের অধিকার পাওয়ার পর দেখা দেয় নতুন জটিলতা। নানজিং হাসপাতাল জানায়, অন্য কোনো হাসপাতালে ভ্রুণটি সংরক্ষিত থাকবে এমনটা নিশ্চিত হওয়ার পর তারা সেটি হস্তান্তর করবে।

গর্ভে অসংযোজিত ভ্রুণ নিয়ে আইনী অনিশ্চয়তা থাকায় চীনের অন্য হাসপাতাল ও মেডিকেল প্রতিষ্ঠান এ প্রক্রিয়ায় যুক্ত হতে রাজি হয়নি। চীনে সারোগেসি পদ্ধতি অবৈধ হওয়ায় একমাত্র উপায় ছিল দেশের বাইরে বিকল্প খোঁজা।

ঘটনাচক্রে শিশুটির ভবিষ্যত দাদা-দাদি ও নানা-নানি হতে যাওয়া ব্যক্তিরা সারোগেসি পদ্ধতিতে নিয়ে কাজ করে এমন একটি সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করতে সক্ষম হন।

বৈধভাবে অন্য নারীর গর্ভ ভাড়া নিয়ে সন্তান জন্ম দানের সুযোগ থাকায় ওই সংস্থার পরামর্শে ভ্রুণটি লাওসে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

কিন্তু কোনো বিমান সংস্থা তরল নাইট্রোজেনের তাপানুকূল বাক্স নিতে রাজি না হওয়ায় ফের বিপত্তি দেখা দেয়। পরে ঝুঁকি নিয়ে গাড়িতে করে ভ্রুণটি লাওসে পৌঁছানো হয়। সেখানে এক নারীর গর্ভে ভ্রুণটি স্থাপন করা হয়।

ভবিষ্যতে নাগরিকত্ব নিয়ে যেন কোনো সমস্যা না হয়, সে উদ্দেশ্যে সন্তান জন্মদানের আগেই ভ্রমণ ভিসায় ওই সারোগেট মাকে চীনে নিয়ে আসা হয়। ডিসেম্বরে চীনেই শিশুটির জন্ম দেন ওই মা। নবজাতকের নাম রাখা হয় তিয়ানতিয়ান।

বাবা-মা কেউ বেঁচে না থাকায় দাদা-দাদি ও নানা-নানি, এ চারজনের ডিএনএ ম্যাচিংয়ের মাধ্যমে শিশুটির চীনা নাগরিকত্বও নিশ্চিত করা হয়।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য