মার্কিন সরকারের হুমকির মুখে সামরিক বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রেখেছে সিরিয়ার সরকার। ৭২ ঘণ্টার জন্য দেশের সমস্ত সামরিকঘাঁটি ও বিমানবন্দরকে এ সতর্কতার আওতায় আনা হয়েছে বলে জার্মান বার্তা সংস্থা ডিপিএ’র বরাত দিয়ে আল-জাজিরা টেলিভিশন চ্যানেল খবর দিয়েছে।

এদিকে, সিরিয়ার সরকারপন্থি বলে পরিচিত আল-মাসদার নিউজ ওয়েবসাইট বলেছে, সাইপ্রাস থেকে একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ সিরিয়ার পানিসীমার দিকে রওয়ান দেয়ার পর কৃষ্ণসাগরে অবস্থিত রুশ নৌবহরকে সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছে।

তবে এ বিষয়ে রাশিয়ার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা পাওয়া যায় নি। কিন্তু রাশিয়ার প্রতিরক্ষা বিষয়ক সংসদীয় কমিটির প্রধান ভ্লাদিমির শ্যামানভ অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন, সিরিয়ার ওপর মার্কিন হামলা হলে মস্কো, রাজনৈতিক, কূটনৈতিক ও সামরিক -সব ধরনের পদক্ষেপ নেবে।

সন্ত্রাসী অধ্যুষিত পূর্ব গৌতার দুমা শহরে কথিত রাসায়নিক হামলার অভিযোগে সিরিয়ার ওপর সামরিক আগ্রাসনের হুমকি দিচ্ছে আমেরিকা। মার্কিন সরকারের সঙ্গে সুর মিলিয়ে ব্রিটেন এবং ফ্রান্সও একই কথা বলছে। দেশগুলো বলেছে, রাসায়নিক হামলার ঘটনা সত্য প্রমাণিত হলে সিরিয়ার বিরুদ্ধে সামরিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। এক্ষেত্রে সিরিয়ার সহযোগী দেশ রাশিয়া ও ইরানকেও তারা হুমকি দিচ্ছে।

রাসায়নিক হামলার ঘটনাকে ‘ভয়াবহ’ বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ বিষয়ে শিগগিরি তিনি তার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করবেন বলে জানিয়েছেন। রাসায়নিক হামলা নিয়ে গতকাল জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে তোলা মার্কিন প্রস্তাবে ভেটো দিয়েছে রাশিয়া।

সিরিয়া ও রাশিয়া সুনির্দিষ্টভাবে রাসায়নিক হামলার বিষয়ে পশ্চিমা অভিযোগ নাকচ করেছে। কিন্তু তা মানতে রাজি নয় আমেরিকা ও তার মিত্ররা। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেমস ম্যাটিস সোমবার বলেছেন, তিনি সিরিয়ার ওপর সামরিক হামলার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য