মিয়ানমারে কারাগারে আটক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে মিয়ানমারের একটি আদালত। দাফতরিক গোপনীয়তার পুরনো উপনিবেশিক আইনে ওয়া লোন (৩২) ও কিয়াও সোয়ে উ (২৮) নামের ওই দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।

আনীত অভিযোগ আমলে নিয়ে ওই দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা করা যায় কিনা, তা নিয়ে আদালতে শুনানি চলছে। ওই দুই সাংবাদিকের আইনজীবী অভিযোগ নিষ্কৃতির আবেদন করলে বুধবার আদালত তা নাকচ করে দেয়।

গত বছরের সেপ্টেম্বরের শুরুর দিকে রাখাইনের উত্তরাঞ্চলীয় গ্রাম ইনদিনে সেনাবাহিনী ও উগ্র বৌদ্ধ জাতীয়তাবাদীরা ১০ রোহিঙ্গাকে গুলি করে হত্যা করে। তাদের রাখা হয় গণকবরে। ঘটনার সরেজমিন অনুসন্ধানে নেমেছিলেন রয়টার্সের ওই দুই সাংবাদিক। ডিসেম্বরে তাদের আটক করা হয়। এরপর অভিযোগ আনা হয় দাফতরিক গোপনীয়তা ভঙ্গের আইনে।

ফেব্রুয়ারিতে কর্তৃপক্ষ রয়টার্সকে জানায়, ঘটনার অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করেছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। তবে কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে রয়টার্সের সাংবাদিকদের দাফতরিক গোপনীয়তা ভঙ্গের সঙ্গে ওই তদন্ত সম্পর্কহীন বলে দাবি করা হয় তখনই। সেই তদন্তের ভিত্তিতে মঙ্গলবার দোষী সাব্যস্ত ৭ সেনাকে কারাদণ্ড দিয়েছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী।

এক দিনের মাথায় বুধবার অভিযোগ থেকে মুক্তি দিতে ওই দুই সাংবাদিকের আইনজীবীদের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে আদালত। বুধবারের আদেশে আদালত সিদ্ধান্ত দেয়, তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের যথার্থ কারণ রয়েছে।

গত বছরের ডিসেম্বরে আটকের পর ইয়াঙ্গুনের একটি আদালতে গত জানুয়ারি থেকে সাংবাদিক -এর বিরুদ্ধে ওই মামলায় অভিযোগ গঠনের প্রাথমিক শুনানি চলছিল। শুনানি শেষে সিদ্ধান্ত হবে অভিযোগটি আমলে নিয়ে ওই দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা করা যায় কিনা। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলের আইনে দায়ের হওয়া মামলায় দন্ডিত হলে তাদের ১৪ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। তবে নিজেদের সাংবাদিকদের মুক্ত করতে সাধ্যমতো প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে ওই ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা।

গত বছরের সেপ্টেম্বরে রাখাইন প্রদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ১০ রোহিঙ্গা মুসলিমকে হত্যার দায়ে মিয়ানমারের সাত সেনাকে মঙ্গলবার ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ইন দীন গ্রামের ওই ঘটনা অনুসন্ধানের সময় আটক হন ওই দুই সাংবাদিক।

দুই সপ্তাহ আগে সাংবাদিকদের আইনজীবীরা আদালতের কাছে তাদের অভিযোগ থেকে মুক্তি দেওয়ার আবেদন করেন। পরে রাষ্ট্রপক্ষ ও সাংবাদিকদের আইনজীবীরা আদালতের সামনে এই বিষয়ে আইনি যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। এক সপ্তাহ আগে শেষ হওয়া যুক্তিতর্ক পর্যালোচনা করে বুধবার এই আদেশ দেয় আদালত।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য