গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে কৃষিতে সাফল্য অর্জনকারী রাখালবুরুজ ইউনিয়নের জন্ম গ্রহন করা গোবিন্দগঞ্জ পৌর এলাকার শিল্পপাড়ার বাসিন্দা প্রথম শ্রেণীর ঠিকদার আদর্শ কৃষক আলহাজ্ব খায়রুল বাশার নয়ন।

গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার রাখালবুরুজ ইউনিয়নের একটি সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম গ্রহন করেন তিনি। ছাত্র জীবন থেকেই লোখাপড়ার পাশাপাশ কৃষির প্রতি ছিল তার অধীর আগ্রহ। কৃষি জীবনে শুরতেই পৌত্রিক ১০ শতক জমিতে সবজি চাষ করে উৎপাদিত ফসল দেখে তার মন ভরে যাওয়ায় কৃষিতে ভালোবাসাসহ আগ্রহ জন্মে। তাই ঠিকাদারীর পাশাপাশি তিনি বিষমুক্ত ফসল উৎপাদনে কৃষিকাজও করে যাচ্ছেন।

বর্তমানে চলতি মৌসুমে সে প্রায় ২ একর জমিতে বিষমুক্ত মৌসুমী সবজি চাষ করে একজন সফল আদর্শ কৃষক হিসেবে তার সু-নাম ছড়িয়ে পড়েছে নিজ উপজেলা থেকে পার্শবর্তী উপজেলা ও জেলা গুলোতে।

এ কারনেই প্রতি নিয়তই বিভিন্ন এলাকার অনেক কৃষকই তার বিষমুক্ত সবজি ক্ষেত দেখতে ও পরামর্শ নিতে আসছে। সফল আদর্শ কৃষক আলহাজ্ব খায়রুল বাশার নয়নের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, বিগত কয়েক বছর থেকে গ্রামের বাড়ী পৌত্রিক জমিতে সমন্বিত কৃষি খামার গড়ে তুলেন। খামারে সবজি চাষে সফলতা আসায় কৃষি ক্ষেত্রে সম্প্রসারণ ঘটে ব্যাপক।

খামার জুরে আছে ফসলের বৈচিত্র, এতে করে সবজির উৎপাদন যেমন বৃদ্ধি পেয়েছে, তেমনি আর্থিক ভাবে লাভবান হচ্ছেন তিনি। এক সঙ্গে খামারে চাষ হচ্ছে-মিষ্টি কুমড়া, শিম , বরবটি, পেঁপে, ডাঙ্গা, টমেটো, বেগুন, মরিচসহ নানা ধরনের শাকসবজি।

তিনি আরও জানান, খামারে বিষমুক্ত পদ্ধতিতে সবজি চাষ করা হচ্ছে। পোকা দমনে সবজি খামারে ব্যবহার করা হচ্ছে সেক্সফে মেন ফাঁদ ও রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমিয়ে জৈব কম্পোস্ট সার। খামারে উৎপাদিত বিষমুক্ত শাকসবজি পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে বাজারে বিক্রি করে।

সরেজমিনে তার এই খামারে দেখা যায়, বিভিন্ন প্রকার শাকসবজি যেন শস্য শ্যামলে ভরা সবুজের সমারোহ। খামারের চারি পার্শে মাচা পদ্ধতিতে উপরে শিম ও বরবাট নিচে মিষ্টি কুমড়া, টমেটো, বেগুন ও মরিচের চাষ। এ ছাড়াও রয়েছে পেঁপে ও ডাটাসহ বিভিন্ন প্রজাতির শাকসবজির চাষাবাদ। তাঁর এই খামারে প্রতিদিন ৭/৮ জন কৃষি শ্রমিক নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছে। খায়রুল বাশার নয়ন খামারের পাশা পাশি মৎস চাষ ও গবাদী পশুর খামারও গড়ে তুলেছেন।

গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার ছাহেরা বানু জানান, খায়রুল বাশার একজন আদর্শ কৃষক। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্ভিদ সংরক্ষন কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান জানান, তিনি কৃষি অধিদপ্তর থেকে বিভিন্ন সময়ে কৃষক প্রশিক্ষণ গ্রহন করেছে। প্রশিক্ষণ গ্রহনের পর থেকে সে বিষমুক্ত সবজি সহ মৎস ও গবাদী পশুর খামার গড়ে তুলেছেন।

ইতিমধ্যেই তিনি এই খামার গড়ে তুলে বিষমুক্ত সবজি উৎপাদনে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে বিভিন্ন সময় তার খামার পরিদর্শন করে পরামর্শ ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা দেয়া হচ্ছে। তিনি আরও জানান , তাকে অনুসরন করে এলাকার অনেক বেকার যুবকরা এ ধরনের সবজি ও ফসলের খামার গড়ে তুলতে আগ্রহী হয়ে উঠছে। তাঁর এই খামার শুধু এই উপজেলায় নয়, জেলা, বিভাগসহ সারা দেশ ব্যাপী কৃষি ক্ষেত্রে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য