সিরিয়ায় দৌমায় রাসায়নিক অস্ত্রের হামলার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। রাসায়নিক হামলার ঘটনায় সিরিয়ার হামলা চালানোর কথা ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র। আর রাশিয়া বলেছে, এমন হামলা হলে যুক্তরাষ্ট্রকে ভয়াবহ পরিণতি বরণ করতে হবে। সিরিয়া ইস্যুতে সোমবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠকে এমন মুখোমুখি অবস্থান নেয় যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া।

শুক্রবার রাত থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত হামলায় পূর্ব ঘৌটার বেশকিছু মানুষের নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। উদ্ধারকর্মী ও চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে বিবিসি দৌমা শহরে ৭০ জন নিহত হওয়ার খবর দিয়েছে। বিষাক্ত রাসায়নিক গ্যাস হামলায় তারা নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা হোয়াইট হেলমেট।

বেশ কয়েকটি চিকিৎসক, পর্যবেক্ষক ও একটিভিস্ট গ্রুপ ওই বিষাক্ত রাসায়নিক হামলার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করে। পরে রাসায়নিক গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৮৫তে দাঁড়িয়েছে। তবে সিরীয় সরকার ও রাশিয়া দৌমায় কোনও ধরনের রাসায়নিক হামলার কথা অস্বীকার করেছে।

এ হামলার খবরের পর থেকে সিরিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র দেশগুলো। সোমবার কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আলে সানির সঙ্গে বৈঠকের আগ মুহূর্তে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেমস ম্যাটিস বলেন, ‘যেখানে রাশিয়ার মতো দেশ রাসায়নিক অস্ত্র নির্মূলের বিষয়ে নিশ্চয়তা দিয়েছে সেখানে রাসায়নিক হামলার কেন হবে -আমরা সে বিষয়ে নজর দিতে চাই।’ এই হামলার জেরে সিরিয়ায় হামলা চালাবে কিনা -এমন প্রশ্নের জবাবে জেমস ম্যাটিস বলেন, `আমি ঠিক এ মুহূর্তে কোনো কিছুই উড়িয়ে দিচ্ছি না।‘

এর কিছুক্ষণ পর জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক শুরু হয়। যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি যুক্তরাজ্য, ফ্রান্সসহ আরও ছয়টি দেশ এই জরুরি বৈঠকের অনুরোধ জানায়। বৈঠকে মার্কিন রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালি বলেন, `নিরাপত্তা পরিষদ পদক্ষেপ এ ঘটনায় কোনও পদক্ষেপ না নিলেও ওয়াশিংটন এই হামলার জবাব দিতে প্রস্তুত রয়েছে’। তিনি বলেন, ‘আমরা এমন একটা সময়ে উপনীত হয়েছি যখন বিশ্বকে অবশ্যই নায়বিচার দেখাতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, `ইতিহাস এই সময়কে মনে রাখবে কারণ নিরাপত্তা পরিষদ তার দায়িত্বে পালনে ব্যর্থ হয়েছে। তারা সিরিয়ার লোকজনকে রক্ষা করতে নিজেদের সম্পূর্ণ ব্যর্থতা দেখিয়েছে’।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত হুমকির মধ্যে রাশিয়া বলেছে, রাসায়নিক হামলার কথিত অজুহাতে সিরিয়ায় সামরিক হামলা চালালে যুক্তরাষ্ট্রকে ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করতে হবে। জাতিসংঘে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূত ভ্যাসিলি নেবেনজিয়া নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে বলেন, ‘হামলা করার জন্য সিরিয়ার হাতে কোনো রাসায়নিক অস্ত্র নেই। আমরা যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়েছি যে, সিরিয়া সরকারের অনুরোধে দেশটিতে সেনা মোতায়েন করেছে রাশিয়া। মিথ্যা অভিযোগে সেখানে সামরিক হামলা চালালে যুক্তরাষ্ট্রকে মারাত্মক পরিণতির মুখে পড়তে হবে।’

রাসায়নিক অস্ত্র বিষয়ক আন্তর্জাতিক নজরদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর উচিত মঙ্গলবারের মধ্যেই সিরিয়ায় তদন্তকারী পাঠানোর দাবি জানান নেবেনজিয়া। তিনি বলেন, ‘আমাদের সামরিক বাহিনী, তেজস্ক্রিয়, জীবাণু ও রাসায়নিক অস্ত্র বিষয়ক ইউনিটগুলো কথিত রাসায়নিক হামলার ঘটনাস্থলে রয়েছে। তারা জানিয়েছে, রাসায়নিক হামলার মতো কোনো কিছু পাওয়া যায়নি। সেখানে কোনো মৃতদেহ পাওয়া যায়নি। বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত কোনো ব্যক্তিকে হাসাপতালে পাওয়া যায়নি। দৌমার চিকিৎসকরাও এমন কোনও তথ্য দেননি। সিরিয়ার রেড ক্রিসেন্টও এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেনি। এ অবস্থায় আমরা আন্তর্জাতিক রাসায়নিক অস্ত্র নিষিদ্ধকরণ প্রতিষ্ঠান ওপিসিডাব্লিউ-কে সিরিয়ার ঘটনা তদন্ত করে দেখার অনুরোধ করছি।’

এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও দৌমায় রাসায়নিক হামলার অভিযোগ এনে প্রেসিডেন্ট বাসার আল-আসাদের প্রতি সমর্থন দেওয়ায় রাশিয়া ও ইরানের সমালোচনা করেছেন। সূত্র: আল জাজিরা, পার্স টুডে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য