বিরল (দিনাজপুর) প্রতিনিধঃ দিনাজপুর-বিরল (স্থলবন্দর) সড়কের কালভার্ট নির্মাণে ঢালাই কাজে দুই রকমের ঝুড়ি ব্যবহার করায় সঠিক মাণের উপকরণের মিশ্রণ করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়াও সড়কের নির্মাণ কাজের রেজিংয়ে নিম্নমানের ইট ব্যবহার করায় এলাকাবাসীর দাবীর প্রেক্ষিতে সওজ কর্তৃপক্ষ উক্ত ইট ঠিকাদারকে তুলে নিতে বলায় তা আবার ভেঙ্গে সড়কের ব্যাচের কাজে লাগ নোর গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে।

যে ইট রেজিংয়ে অচল সেই ইট আবার ডাইভারেশনে ব্যাচের কাজে কিভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে তা পথচারীসহ এলাকাবাসীর বোধগম্য হচ্ছে না কিছুতেই। তবে ঠিকাদারের উচ্চ পর্যায়ে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক থাকায় স্থানীয় সওজ কর্তৃপক্ষ দেখেও না দেখার ভান করে চলছে বলে জানায় ঐ এলাকার পৌর কাইন্সিলরসহ অনেকে।

সরজমিনে গিয়ে জানা গেছে, দিনাজপুর-বিরল (স্থলবন্দর) সড়কের নির্মাণ কাজের দায়িত্ব পায় ঢাকা’র পিটিএসএল মৈত্রী নামের একটি প্রতিষ্ঠান। প্রায় সাড়ে ৪ কিমি সড়ক ও ৩টি কালভার্টে নির্মাণ ব্যয় ১২ কোটি টাকার উপরে চুক্তিমূল্য হয়। উক্ত নির্মাণ কাজ বগুড়ার প্রভাবশালী এক আওয়ামী নেতা জয়েন্ট ভেঞ্জার হিসাবে এ কাজ করতে নিজের লোকবল পাঠায়।

কাজ শেষের মেয়াদ এপ্রিল/২০১৮ মাসেই শেষ হবে তাই তড়িঘড়ি করে শেষ পর্যায়ে এসে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই নিজেদের শ্রমিকদের বানানো ঝুড়িতে ইচ্ছেমত সিমেন্ট, বালু ও পাথর ব্যবহার করে কালভার্টের ঢালাই কাজ করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে স্থানীয় পৌর কাউন্সিলর নুর ইসলাম বাবু সওজ এর দায়িত্বরত উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোমিনুল ইসলামকে নি¤œমানের ইট ও ঢালাই কাজে অনিয়মের অভিযোগ তুললে তিনি নি¤œমানের ইট সড়ক থেকে তুলে নেয়ার জন্য ঠিকাদারকে নির্দেশ দেন। ঢালাই কাজে সঠিক পরিমাপের ঝুড়ি ব্যবহারের নির্দেশ দিলে সেখানে সঠিকমাপের ঝুড়ি ফেলে রেখে সুবিধামত ঢালাই কাজ চালিয়ে যাওয়া হয়।

সওজ এর দায়িত্বরত উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোমিনুল ইসলাম অভিযোগের বিষয়ে জানান, কিছু খারাপ ইট এসেছিল তা তুলে নিতে বলা হয়েছে। ঢালাই কাজে পরিমাপমত সিমেন্ট, পাথর ও বালু ব্যবহার করা হচ্ছে। মেটারিয়াল টেষ্ট রিপোর্ট দেখতে চাইলে তিনি তা অফিসে গিয়ে দেখে আসতে বলেন।

ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বরত পার্টনার ইনসান আলী জানান, আমরা খারাপ ইট তুলে নিয়েছি। খারাপ ইটগুলো ভাঙ্গা হচ্ছে কি কারণে তা জানতে চাইলে তিনি জানান, এগুলো সড়কের ব্যাচে কাজে লাগানো হচ্ছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য