মাসুদ রানা পলক, ঠাকুরগাঁও : বাজারে ক্রেতা চলাচলের রাস্তা দখল করে চলছে কাঁচামালের ব্যবসা আর কাঁচামালের দোকানের জন্য তৈরি করা ছাউনীর নীচে জমা হচ্ছে ভাঙ্গারির স্তুপ। পুরো ব্যাপারটি সবার সামনেই ঘটছে শহরের সবচেয়ে বড়
বাজার কালিবাড়িতে। তারপরও কারো কোন মাথাব্যাথা নেই।

ঠাকুরগাঁও শহরের কালিবাড়ি বাজারের দক্ষিণ অংশে অনেক বছর আগে কাঁচামাল ব্যবসায়ীদের বসার জন্য একটি পাকা ছাউনি তৈরি করা হয়। বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ীর নামে তা বরাদ্ধও দেয়া হয়। এদের কেউ কেউ সামান্য কয়েক দিন বসার
পর চলে আসে রাস্তার পাশে। তাঁরা সেখানে ক্রেতাদের চলাচলের রাস্তার প্রায় অর্ধেকটা দখল করে কাঁচামালের পসরা সাজিয়ে বসেন। এতে ক্রেতাদের চলাচলের অসুবিধা হলেও সে বিষয়ে কারো কেন ভ্রুক্ষেপ নেই।

অপরদিকে ব্যবসায়ীরা ছাউনী থেকে সরে আসায় সেটি দীর্ঘদিন খালি পড়ে থাকে। এ সুযোগে সেখানে আশ্রয় নেয় কুকুর বেড়াল আর ভাসমান মানুষ ও ভাঙ্গারি ব্যবসায়ী। সরজমিনে দেখা যায়, ছাউনীর নীচে পলিথিন ব্যাগ, প্লাস্টিকের বোতলসহ নানা প্রকার ভাঙ্গারি মালামাল স্তুপাকারে রাখা হয়েছে। ছাউনীর এক কোনে ডিমের ব্যবসা করেন খাইরুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি ।

তিনি জানান, ছাউনী ফাঁকা পড়ে থাকায় মতি মিয়া নামের এক ব্যক্তি মালামালগুলো রেখেছেন। তিনি আরও জানান, বাজারের এ অংশে ক্রেতারা আসেন না। ফলে ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগস্ত হচ্ছিলেন। এজন্যই তাঁরা এ ছাউনীর নীচে দোকান বসানো বন্ধ করে দিয়েছে। বাজারের দক্ষিণাংশের কিছু কিছু দোকান ব্যক্তি মালিকানাধীন। ফলে সেখানে কাঁচা মালের দোকানে ভালো কেনা বেচা হয় দেখে অধিকাংশ বিক্রেতাই রাস্তার পাশে দোকান নিয়ে বসেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ব্যবসায়ী জানান “রাস্তার পাশের দোকানগুলোতে ভালো বিক্রি হয়। এদিকে ক্রেতারা কম আসে। ছাউনীটা ভেতরে হওয়ায় ওদিকে কোন ক্রেতাই উঁকি মারেন না। আমরা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, দু এক কেজি মালামাল অবিক্রিত থেকে গেলে লোকসান গুনতে হয় ”। একই অভিমত ব্যক্ত করেন আরো দু একজন ব্যবসায়ী।

ছাউনীতে দোকান না বসিয়ে রাস্তা দখল করে দুর্ভোগ সৃষ্টি করা এবং ছাউনীতে ভাঙ্গারি মালামাল রেখে পরিবেশ নষ্ট করা প্রসঙ্গে ঠাকুরগাঁও পৌর মেয়র মির্জা ফয়সাল আমিন ও সচিব রাশেদুর রহমান জানান, এই দোকানগুলি বরাদ্দ দেওয়া আছে। তবে তাঁরা এখানে না বসে রাস্তার পাশে যেখানে ক্রেতা বেশি সেখানে বসছেন। আমরা এই আবর্জনা একবার পরিষ্কার করেছিলাম। কিন্তু আবার মতি নামে এক ব্যক্তি এখানে ভাঙ্গারির মালপত্র রাখছে। আমরা এগুলি আবার পরিষ্কারের ব্যবস্থা নেব।

তাছাড়া পৌরসভার অর্থে আমরা এই বাজারটি উন্নয়নের ব্যবস্থা গ্রহণ করার পরিকল্পনা নিয়েছি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য