মাসুদ রানা পলক, ঠাকুরগাঁও: ঠাকুরগাঁও বড়মাঠের এক পাশে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ায় সাধারণ মানুষ হতাশ হয়ে পড়েছেন। এতে বড়মাঠে ঘুরতে আসা সাধারণ মানুষ এটিকে ব্যাঘাত বলে আখ্যায়িত করেছেন।

ঠাকুরগাঁও শহরে তেমন কোন বিনোদন পার্ক নেই।শহরের আশ্রম পাড়ায় একটি শিশুপার্ক থাকলেও বড়দের আড্ডা দেওয়ার কোন জায়গা নেই।তাই শহরের বেশিরভাগ মানুষ সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের বড়মাঠে সপরিবারে আড্ডা দেয়। তাছাড়াও মাঝে মাছে এখানে মেলা বসে বলে বড়মাঠ কেন্দ্রীক একপ্রকার বিনোদন ক্ষেত্র হিসেবে এটিকে সাধারণ মানুষজন ব্যবহার করে থাকে।

এছাড়াও মানুষজনের অবাধ বিচরনের কারণে অস্থায়ী চটপটি, ফুচকাসহ নানা রকম স্ট্রিটফুডের দোকান গড়ে ওঠে। খোলামেলা পরিবেশের কারণে এখানকার স্ট্রিটফুড ক্রমশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছিল।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২৯ মার্চ ঠাকুরগাঁও বড়মাঠে আওয়ামীলীগ আয়োজিত জনসভায় ভাষন দেন।ওইসময় নিরাপত্তা জনিত কারণে ঠাকুরগঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠের চারপাশের অস্থায়ী চটপটি, ফুচকাসহ দোকানগুলো সরিয়ে দেয়া হয়।।প্রধানমন্ত্রী চলে যাওয়ার পর ভাসমান স্ট্রিটফুডের দোকানগুলো আবার পসরা সাজিয়ে বসবে এরুপ ধারনা ছিল সাধারণ মানুষের ।কিন্তু বাস্তবে ঘটেছে ঠিক তার উল্টোটা।

প্রধানমন্ত্রী চলে যাওয়ার পরের দিনই মাঠের উত্তর ও পশ্চিম পাশে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে দেয়া হয়। এতে করে দোকানগুলো আর সেখানে বসতে পারছেনা। বিষয়টি নিয়ে তৈরি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

অনেকেই এটাকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন মাঠের চারপাশ পরিচ্ছন্ন রাখতে কাঁটাতার দিয়ে ঘিরে দেয়া সঠিক সিদ্ধান্ত। অপরদিকে অনেকেই সাধারণ মানুষের বিনোদনের জায়গা সংকুচিত করে দেয়ার অভিযোগ এনেছেন। কেউ কেউ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের রুটি রুজির ওপর আঘাত বলে মন্তব্য করেছেন।

এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও কেউ কেউ সোচ্চার হয়েছেন। সাংবাদিক রোহান তার এক স্ট্যাটাসে লিখেছেন “ঠাকুরগাঁও বড় মাঠের চার পাশে কাঁটাতারের ঘেরা কেন ? গিলাবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক শাহজাহান ই হাবিব তাঁর স্ট্যাটাসে লিখেছেন “রুজি বড় না কাঁটাতারের বেড়া বড়? ঠাকুরগাঁওয়ের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পুণর্বাসন নিয়ে পৌরসভাকে ভাবা উচিত”।

মাঝে মাঝে নিজের শিশু সন্তানদের নিয়ে সময় কাটাতে বড়মাঠে আসেন গৃহবধু সানজিদা আকতার। তিনি আক্ষেপ করে বলেন “ এমনিতেই ঠাকুরগাঁও শহরে বসে সময় কাটানোর কোন জায়গা নেই। বাচ্চাদের নিয়ে মাঠে এসে সময় কাটতো আর মাঝে মধ্যে ফুচকা চটপটি খাওয়াটা বাড়তি আকর্ষণ ছিল। এখনতো নিরামিষ হয়ে গেল”।

চটপটি ফুচকা বিক্রেতা শাহ আলম বলেন, আগে মাঠের পাশে দোকান লাগাতাম, তখন বিক্রি খুব ভালো হতো। এখন লোকজন আসে না বললেই চলে। তিনি বলেন, আমরা একটা নির্দিষ্ট জায়গা করে দেয়ার জন্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মুহ. সাদেক কুরাইশী সাহেবকে অনুরোধ করেছি। তিনি দেখবেন বলে কথা দিয়েছেন।

এ ব্যাপারে ঠাকুরগাঁও পৌরসভা সচিব শাহেদুর রহমান জানান, মাঠ রক্ষণাবেক্ষণ ও মাঠের চারপাশে শোভা বর্ধনকারী গাছ লাগানোর জন্য জেলা প্রশাসকের নির্দেশে কাঁটাতারের বেড়া দেয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষ যেমন পরিচ্ছন্নতা মাঠ চান তেমনি মাঠের চারপাশ ঘিরে গড়ে ওঠা ভাসমান স্ট্রিটফুডের দোকানগুলোও চান। তারা আশা প্রকাশ করেন, শহুরে একঘেয়েমীর জীবন থেকে কিছুটা সময় পরিত্রাণ পেতে সাধারণ মানুষের পছন্দের দিকটা ভেবে দেখবেন পৌর কর্তৃপক্ষ।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য