যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের উপদেষ্টা ম্যাকমাস্টারের দায়িত্ব শেষ হওয়ার একদিন পরই পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন পরিষদের মুখপাত্র মাইকেল অ্যান্টন। রবিবার তিনি এই পরিকল্পনা কথা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন। পদত্যাগ করলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ বিদেশ নীতির সবচেয়ে তুখোড় সমর্থক হারাবেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকো এ খবর জানিয়েছে।

ট্রাম্পের প্রথম নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইকেল ফ্লিন অ্যান্টনকে প্রশাসনে নিয়ে আসেন। তবে তিনি ফ্লিনের স্থলাভিষিক্ত ম্যাকমাস্টারের মুখপাত্র হিসেবেই বেশিরভাগ সময় ব্যয় করেছেন।

হিলসডেল কলেজের কিরবি সেন্টারের ওয়াশিংটন ডিসি শাখায় একজন লেখক ও প্রভাষক হিসেবে যোগ দিতে যাচ্ছেন বলে জানান অ্যান্টন। তিনি বলেন, আমাকে দেশের জন্য কাজ করার ও তার এজেন্ডা বাস্তবায়নে কাজ করার সুযোগ দেওয়ায় আমি সারাজীবন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকবো।

ট্রাম্প প্রশাসনে যোগ দেওয়ার আগেই ২০১৬ অ্যান্টন একটি প্রবন্ধ লিখে আলোচনায় আসেন। ওই লেখায় তিনি ট্রাম্পের প্রার্থীতার বিষয়ে লিখেছিলেন। ছদ্মনামে লেখা ‘দ্য ফ্লাইট নাইনটি থ্রি ইলেকশন’ শিরোনামে ওই প্রবন্ধে তিনি জিওপি’র বিষয়ে ট্রাম্পের আক্রমণের তাত্বিক ভিত্তি দেন। নির্বাচনি প্রচারণায় বাণিজ্য, অভিবাসন ও বৈদেশিক নীতির মতো বিষয়গুলো যুক্ত করায় তিনি ট্রাম্পের প্রশংসা করেন।

ম্যাকমাস্টারের দায়িত্ব শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অ্যান্টন এই পদত্যাগের ঘোষণা দিলেন। শুক্রবার ম্যাকমাস্টারের শেষ কর্মদিবস ছিল। আর সোমবার থেকে জন বোল্টন নিরাপত্তা উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করবেন। এর আগেই অ্যান্টন পদত্যাগের ঘোষণা দিলেন। তবে কবে পদত্যাগ করবেন সে সম্পর্কে নিশ্চিত না করলেও আরও কয়েক সপ্তাহ তিনি হোয়াইট হাউসে থাকবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

হোয়াইট হাউসে অ্যান্টনই একমাত্র ব্যক্তি যিনি ট্রাম্পকে উত্তেজিত করেননি। তিনি ম্যাকমাস্টারের সঙ্গে ট্রাম্পের সুসম্পর্কের বিষয়ে একটি প্রধান ভূমিকা পালন করেছিলেন।

হোয়াইট হাউসের প্রেসসচিব সারাহ হুকাবি স্যান্ডার্স বলেন, তার সম্পর্কে ট্রাম্পের ভাল ছাড়া অন্যকিছু বলার নেই। স্যান্ডার্স বলেন, আমি এ পর্যন্ত যত মানুষের সঙ্গে কাজ করেছি তার মধ্যে মাইকেল অ্যান্টন সবচেয়ে স্মার্ট ও সবচেয়ে প্রতিভাবান ব্যক্তি। তিনি ভাল রাঁধুনীও। স্যান্ডার্স তাকে একজন সত্যিকারের বন্ধু হিসেবে অভিহিত করেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য