দিনাজপুর সংবাদাতাঃ প্রয়োজনীয় জনবল সংকটে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট দিনাজপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। ফলে শহরসহ গ্রাম-গঞ্জ থেকে চিকিৎসা নিতে আসা গরিব ও অসহায় মানুষকে নানা সমস্যায় পড়তে হয়।

দিনাজপুর জেনারেল হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালে অনুমোদিত চিকিৎসকের পদ রয়েছে ৩৬টি। কিন্তু সেখানে কর্মরত আছেন মাত্র ২২জন। শূন্য পদের সংখ্যা ১৪টি। সিনিয়র কনসালটেন্টের ৭টি পদের মধ্যে সিনিয়র কনসালটেন্ট শিশু, ইএনটি ও কার্ডিওলজি এই ৩টি পদ শূন্য।

জুনিয়র কনসালটেন্টের ৬টি পদের মধ্যে জুনিয়র কনসালটেন্ট প্যাথলজি পদটি শূন্য, সার্জারী বিভাগের সহকারী রেজিষ্টারের দুইটি, মেডিসিন বিভাগের দুইটি, গাইনী বিভাগের দুইটি, মেডিকেল অফিসারের ৬টি পদের মধ্যে ৩টি এবং ইমাজেন্সী মেডিকেল অফিসারের একটি পদ শূন্য রয়েছে।

দীর্ঘদিন থেকে এসব পদ শূন্য থাকায় হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা দারুনভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ৩৬ জন চিকিৎসকের কাজ ২২ জন চিকিৎসককে করতে হয়। ফলে বিপুল সংখ্যক রোগিকে সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসাসেবা প্রদান খুবই কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, ২৫০ শয্যার দিনাজপুর জেনারেল হাসপাতালটি শহরের প্রাণ কেন্দ্রে অবস্থিত হওয়ায় শহরসহ আশপাশের এলাকার সর্বস্তরের মানুষের যে কোন সমস্যা হলে তারা এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন। ফলে এই হাসপাতালে প্রতিদিন ভর্তি থাকে ২০০-২৫০ জন রোগি।

এছাড়া প্রতিদিন হাসপাতালের বর্হিঃবিভাগে ৬০০-৭০০ রোগি চিকিৎসা নিতে আসেন। কিন্তু স্বল্প সংখ্যক চিকিৎসকের পক্ষে এতো রোগির চিকিৎসাসেবা দেয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন বিভাগে প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক না থাকায় শহরসহ দুর-দুরান্ত থেকে আসা গ্রামের গরিব-অসহায় মানুষ মানসম্মত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

দিনাজপুর জেনারেল হাসপাতালে সদ্য যোগদানকারী তত্বাবধায়ক ডা. মো. আহাদ আলী জানান, বর্তমানে এই হাসপাতালের সার্জারী, গাইনী, মেডিসিন বিভাগের ৬টি সহকারী রেজিষ্টারের পদ শূন্য থাকায় অন্তঃবিভাগে রোগিদের সার্বক্ষণিক ২৪ ঘন্টা সেবাদান মারাত্বকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়া বর্হিঃবিভাগের মেডিকেল অফিসারের ৩টি পদ ও জরুরী বিভাগের ইমারজেন্সী মেডিকেল অফিসারের একটি পদসহ ১৪টি পদ শূন্য থাকায় স্বল্প সংখ্যক চিকিৎসকের পক্ষে এসব বিভাগে রোগিদের মানসম্মত চিকিৎসা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না।

রোগিদের কষ্ট ও দুর্ভোগ লাঘবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দিনাজপুর জেনারেল হাসপাতালে দ্রুত প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক নিয়োগ দিবে এমনটাই প্রত্যাশা করেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষসহ রোগি ও সচেতন দিনাজপুরবাসি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য