আনোয়ার হোসেন আকাশ, রাণীশংকৈল থেকেঃ ঠাকুরগাঁয়ের রাণীশংকৈল উপজেলা পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসে ব্যাপক অনিয়ম চলছে। ব্যাঙের ছাতার মতো অনিয়ম ছেয়ে গেছে। বোকা বানিয়ে গ্রাহকের কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে হাজার হাজার টাকা। ভাগ খাচ্ছে কর্মকর্তারা।

পল্লী বিদ্যুতের নিয়ম অনুযায়ী নতুন মিটার সংযোগের ক্ষেত্রে ১৩০ ফিট সার্ভিস ড্রপ দেওয়ার নিয়ম থাকলেও টাকার বিনিময়ে চাঁদনী রোডের ইউনুস আলী ও তার ছেলে মোঃ রাব্বির নামে দুইটি নতুন মিটারে ১৫০ ফিট সার্ভিস ড্রপের সংযোগ দেওয়া হয়েছে।

এমন চিত্র উপজেলায় অহরহ চোখে পড়ে। নতুন মিটারের সংযোগের ক্ষেত্রে অনেক গ্রাহকের হাতে মিটার ও সার্ভিস ড্রপ নিজেই মিটার লাগাই পরে এসে অফিসের লোকজন সীল গালা করে। ভান্ডারা গ্রামের মোহাম্মদ আলী সহ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এমন অনেকের নাম পাওয়া যায়। অনেক গ্রাহকের নতুন মিটার সংযোগে সার্ভিস ড্রপ দেখিয়ে সে সব সার্ভিস ড্রপ বাহিরে বিক্রী করে হাতিয়ে নিচ্ছে অফিসের প্রতারক চক্র।

বাস্তবে ওই গ্রাহককে বাজার থেকে সার্ভিস ড্রপ কেনানো হয়েছে। রাণীশংকৈল পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের সিন্ডিকেট চক্র এমন ঘটনা অহরহ করে থাকে। মূলত অফিসে সার্ভিস ড্রপ নাই বলে গ্রাহককে বাজার থেকে সার্ভিস ড্রপ কিনানো হয়। পরে ওই গ্রাহকের নামে সার্ভিস ড্রপ লাগানো হয়েছে বলে অফিসের লেজারে ডকুমেন্ট রাখা হয়। একজনের মিটার অন্য লোকের বাড়িতে লাগানোর মতো ঘটনা অহরহ করে থাকে অফিসের লোকজন।

অফিসের লাইনম্যান ছাড়াই দুই জন অপ্রাপ্ত ছেলের হাতে সার্ভিস ড্রপ, সিএমও, মিটার ও মিটার সীল পাওয়া যায়। পরিচয় জানতে চাইলে উপজেলার রাউৎনগর গ্রামের নুরুলের ছেলে সাকিব ও কামরুজ্জামানের ছেলে ওয়ালিদ পরিচয় দেয়। অফিসের লোক কিনা জানতে চাইলে অফিস সহকারি বলে জানায়। প্রমান চাইলে সেখান তারা সটকে পড়ে।

এ ব্যাপারে রাণীশংকৈল সাব-জোনাল পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয়ের এজিএম কম এহতেশামুল হকের সাথে কথা হলে তিনি বলেন আমরা কিছু ডে লেবার কাজ করার জন্য লাগিয়েছি। সাথে অফিসের লোক থাকার কথা। বাস্তবে অফিসের কোন লোক তাদের সাথে পাওয়া যায়নি।

ঠাকুরগাও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার ইনসার আলী জানান, এমন ঘটনা হয়ে থাকলে আমি তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিব।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য