রংপুরে বিশেষ জজ আদালতের পিপি রথীশ চন্দ্র ভৌমিক বাবু সোনা হত্যাকান্ডের মামলায় তার স্ত্রী সিগ্ধা সরকার দীপার প্রেমিক কামরুল ইসলাম মাস্টারকে রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করেছে আদালত। বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ৯টায় অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে কামরুলকে হাজির করা হলে আদালতের বিচারক আরিফা ইয়াসমিন মুক্তা তার রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে কঠোর পুলিশি পাহাড়ায় তাকে আদালতে হাজির করা হয়। অপরদিকে নিহতের স্ত্রী সিগ্ধা সরকার দীপা ও প্রেমিক কামরুলের দুই সহযোগি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দিয়েছে আদালতে। এনিয়ে বাবুসোনা হত্যাকান্ডে গ্রেফতারের সংখ্যা দাড়ালো ৫ জনে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আল আমিন জানান, বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে পিপি রথীশ চন্দ্র ভৌমিক খুনের ঘটনায় তার স্ত্রী দীপার প্রেমিক কামরুল ইসলামসহ তার দুই সহযোগীকে রংপুর অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। আদালতে তার ১০দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হলে বিচারক তার রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এরপর কঠোর পুলিশী প্রহরায় তাকে জেল হাজতে নিয়ে যাওয়া হয়। এদিকে কামরুল ইসলামকে আদালত থানায় নিয়ে যাবার সময় খুন হওয়া পিপি বাবু সোনার ভক্তরা বিক্ষোভ করে । তারা খুনিদের ফাঁসি দাবি করেন।

এদিকে বাবু সোনার খুনি তার স্ত্রী স্নিগ্ধা সরকার দীপা তার প্রেমিক কামরুল ইসলাম, তার দুই সহযোগী সবুজ ইসলাম ও রোকনুজ্জামনকে কোট হাজির করে হবে এমন সন্ধ্যা থেকেই সাংবাদিক ও উৎসুখ জনতার ভীড় করতে থাকে আদালতপাড়ায় । এজন্য আদালত পাড়ায় নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়।

কোতয়ালি থানার ওসি বাবুল মিয়া জানান, বৃহস্পতিবার রাত ৯টায় রথিশ চন্দ্র ভৌমিকের স্ত্রী স্নিগ্ধ ভৌমিক, তার প্রেমিক কামরুল ইসলামসহ ৪ জনকে আদালতে হাজির করা হয়। তার মধ্যে প্রেমিক কামরুল ইসলামের ১০দিনের রিমান্ড আবেদন করা হলে রিচারক ১০দিনের রিমান্ডই মঞ্জুর করেন। বাকীরা ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে।

প্রসঙ্গগত: ২৯ মার্চ রংপুরের বাবুপাড়ার বাড়িতে পরোকিয়ার কারণে স্ত্রী স্নিগ্ধা ভৌমিক স্বামী রথিশ চন্দ্র ভৌমিককে ঘুরের ওষুধ খাইয়ে প্রেমিক কামরুল ইসলামসহ অন্যরা মিলে গলায় ওড়না পেচিয়ে হত্যা করে।

এরপর ৩০ মার্চ লাশ আলমিরার মধ্যে ঢুকিয়ে ভ্যানে করে বাড়ি থেকে ১ কিলোমিটার দুরে কামরুলের ভাইয়ের মোল্লাপাড়ার একটি নির্মানাধিন বাড়ির মেঝেতে পুতে রাখে। ৫দিন পর ৪ এপ্রিল র‌্যাব লাশটি উদ্ধার করে। মঙ্গলবার ময়না তদন্ত শেষে দখিগঞ্জ শ্বশানে রথিশ চন্দ্র ভৌমিকের দাহ সম্পন্ন হয়। রথিশ চন্দ্র ভৌমিকের খুনের ঘটনা তার ভাই সুশান্ত ভৌমিক বাদি হয়ে কোতয়ালি থানায় একটি মামলা করেছেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য