আজিজুল ইসলাম বারী, লালমনিরহাট প্রতিনিধি: লালমনিরহাটে বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে অনেকটা আগেভাগেই ইরি-বোরো চাষাবাদে নেমে পড়েছে জেলার কৃষকরা। চারা রোপণের কাজ শেষ হলেও কৃষকরা এখন ক্ষেতের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।

কৃষি বিভাগ মনে করছেন, এবারের আবহওয়া এখনো ইরি-বোরো চাষাদের জন্য অনুকূল অবস্থায় রয়েছে। ফসল ঘরে ওঠা পর্যন্ত যদি কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা না দেয় আর আবহওয়া যদি অনুকূলে থাকে তাহলে কৃষকরা তাদের বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে পারবে।

লালমনিরহাট কৃষি অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের বন্যায় জেলায় আমন ধানের ভয়াবহ ক্ষতি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে কৃষি ও মৎস্য বিভাগের। হাজার হাজার হেক্টর জমি বন্যার পানিতে ডুবে থাকায় ওই জমিগুলোর ফসল নষ্ট হয়ে গেছে।

ফলে জেলার হাজারো কৃষক প্রত্যক্ষ ও প্ররোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এবার অনেকটা আগেভাগেই কৃষকরা ইরি-বোরো চাষাবাদে নেমে পড়েছে।

কৃষি বিভাগ থেকে চলতি ইরি-বোরো চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা ৪৯ হাজার ৫৫৫ হেক্টর জমি নির্ধারণ করা হলেও বাস্তবে চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। প্রতিবছর জেলার অনেক জমি পতিত অবস্থায় পড়ে থাকলেও এবার কোনো জমি পতিত অবস্থায় নেই। ফলে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক বেশি ধান জেলায় উৎপাদন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

জেলার পাটগ্রাম উপজেলার বিলুপ্ত ছিটমহল আঙ্গরপোতা-দহগ্রাম এলাকার কৃষক আসাদুল ইসলাম জানান, গত বছর তিনি স্থানীয় একটি এনজিও থেকে ১৮ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে ৭ বিঘা জমিতে চুক্তিভিত্তিক আমন চাষাবাদ করেছিলেন, কিন্তু ভয়াবহ বন্যায় ১ মণ ধানও তার উৎপাদন হয়নি।

উল্টো জমির মালিককে ১৭ হাজার চুক্তির টাকা দিতে হয়েছে। সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এবার দুটি গরু বিক্রি করে ৯ বিঘা জমিতে ইরি-বোরো চাষাবাদ করেছেন। এখন পর্যন্ত ক্ষেতের অবস্থা ভালো রয়েছে। এখন আগাছা পরিষ্কার করছেন। কোনো দুর্যোগ দেখা না দিলে বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবেন বলে জানান কৃষক আসাদুল ইসলাম।

হাতীবান্ধা উপজেলার চর গড্ডিমারী গ্রামের কয়েকজন কৃষক জানান, ইরি-বোরো চাষাবাদের চারা রোপণ শেষে তারা এখন পানি সেচ, সার দেয়া ও ক্ষেতের আগাছা পরিষ্কার করছেন। প্রকৃতি যদি বৈরী আচরণ না করে আর পোকার আক্রমণ যদি কম থাকে তাহলে তারা ইরি-বোরো চাষে সফলতা অর্জন করবেন।

হাতীবান্ধা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন জানান, গত বন্যায় জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে হাতীবান্ধা উপজেলা। এ উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের মধ্যে ১০ ইউনিয়নই বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাই কৃষকরা বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে অনেকটা আগেভাগে ইরি-বোরো চাষাবাদ শুরু করে দিয়েছে।

লালমনিরহাট কৃষি অধিদফতরের উপ-পরিচালক বিধু ভূষণ রায় জানান, ইতিমধ্যে ইরি-বোরোর চারা রোপণের কাজ শেষ করে ফেলেছেন কৃষকরা। এখন ক্ষেতের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। কৃষি বিভাগের মাঠ কর্মীরা কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন। কোনো দুর্যোগ দেখা না দিলে আমরা ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাব।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য