কাহারোল (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: কাহারোল উপজেলায় গ্রাম-গঞ্জে অনেক দরিদ্র ও মধ্য আয়ের মানুষ আটকা পড়েছেন সুদ বাণিজ্যের বেড়া জালে। দৈনিক ও সাপ্তাহিক কিস্তিতে কিছু কতিপয় এনজিও সুদাসলে পরিশোধের সুযোগ থাকায় অভাবী মানুষগুলো এনজিওর কাজ থেকে ঋণ গ্রহণের পর পড়ছে মহা বিপাকে।

ঋণগ্রহিতারা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত হওয়ায় অনেককে শেষ পর্যন্ত বাড়ী ভিটে হারা হয়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছে। বিশেষ করে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঋণ প্রদানের জন্য গড়ে তোলা হয়েছে অসংখ্য ঋণ প্রদানের কেন্দ্র। এসব কেন্দ্রে প্রতিদিন নিম্নবিত্ত মহিলাদের ঋণ নিতে ও কিস্তি দিতে ভিড় জমাতে দেখা যায়।

এছাড়াও এলাকার বিভিন্ন প্রভাবশালী মহল চড়াহারে সুদ আদায়ে মাধ্যমে অনেক অভাবী দরিদ্র মানুষের কাছে সুদের টাকা লাগিয়ে লাখ লাখ টাকা আয় করছে। শেষ পর্যন্ত সুদ আদায়ে ব্যর্থ হলে ঋণ গ্রহিতার ভিটে বাড়ীটাও হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ শুনা যাচ্ছে। আত্মকর্ম সংস্থানের মাধ্যমে জীবনে প্রতিষ্ঠা লাভের এবং সচ্ছল হওয়ার আশায় কাহারোল উপজেলার অনেক মানুষ ঋণ গ্রহণ করছে।

অন্যদিকে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের কথা বলে সংশ্লিষ্ঠ এনজিও গুলো নির্বিকারে সুদের কাজ কারবার চালিয়ে যাচ্ছে। ঋণগ্রহিতা একাধিক ব্যক্তি জানান, অভাব অনটন, মেয়ের বিয়ে, চিকিৎসা এবং সংসার চালাতে তারা এনজিও এবং সমিতিতে নাম লেখায় ও ঋগ্রহণ করে প্রতি সপ্তাহে কিস্তিতে টাকা জমা করেন।

প্রতি কিস্তি হার ২০-৩০% সুদসহ টাকা জমা করতে গিয়ে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। দরিদ্র্যের কষাঘাত সহ্য করতে না পেরে ওই টাকা তারা সংসারের যোগান দিতে খরচ করে ফেলে। ফলে সাপ্তাহিক কিস্তি চালাতে হিমশিম খেতে হয়। সাপ্তাহিক কিস্তির দিন ঋণ পরিশোধ করতে দিশেহারা হয়ে অনেকে হাওলাত নিয়ে এবং কি গরু,ছাগল,হাঁস,মুরগী বিক্রি করে কিস্তির টাকা যোগান করতে দেখা যাচ্ছে।

আবার কেউ কেউ ঘরে রক্ষিত মূল্যবান জিনিসপত্র, গাছপালাসহ স্বর্ণালংকার বিক্রি করে কিস্তির টাকা পরিশোধ করলেও তাতে সম্পূর্ণ ঋণ শোধ না হওয়ায় অনেক সময় শেষ সম্ভলটুকু বাড়ীভিটে বিক্রি করেও ঋণের বোঝা থেকে মুক্ত হতে চায় এসব ঋণগ্রস্থ মানুষ গুলো।

এভাবে দিনদিন ঋণের জালে আটকা পড়েছে দিনাজপুরের কাহারোলের অনেক অনেক পরিবার ও মানুষ সর্বস্বান্ত হচ্ছে। অভিজ্ঞ মহলের ধারণা গ্রামে গ্রামে বিভিন্ন এনজিও সংস্থা ও দাদন ব্যবসায়ীরা গরীব দু:খি মানুষদের নানা প্রলোভন দেখিয়ে প্রথমে ঋণ প্রদান করে পরবর্তীতে ব্যাপক হারে সুদ গ্রহণ করে তাদেরকে সর্বস্বান্ত করছে।

এছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে সমবায় সমিতির নামে বেশ কিছু অসাদু সুদ ব্যবসায়ী চড়া হারে এমনকি ৩০-৪০% সুদ গ্রহণ করে কোটিপতি বনে গেলেও অসহায় মানুষের শেষ আশ্রয়টুকুও কেড়ে নিচ্ছে এসব দাদন ব্যবসায়ীরা । দাদন ব্যবসায়ীরা চাহিদা মতো সুদ আদায় করতে ব্যর্থ হলে ঋণগ্রহিতাকে মিথ্যা মামলায় জড়ানোর হুমকি ধুমকী দিয়ে থাকে এবং পরিবার পরিজনদের উপর চড়াও হয়ে মারপিট করার মতো ঘটনাও ঘটে থাকে অনেক সময়।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য