নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ শহরের মাঝ দিয়ে বয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী যমুনেশ্বরী নদীটি সংস্কারের অভাবে এখন মৃতপ্রায়। দীর্ঘদিন যাবত সংস্কার না করায় শুকনো মওসুমে নদীটি প্রায় পানিশুন্য হয়ে মরা খালে পরিণত হয়েছে। নদীর বুকে পলি জমে জেগে উঠা চরে বিভিন্ন ফসলের চাষাবাদ হচ্ছে।

এই মওসুমে নদীর বুকে বিভিন্ন ক্ষেতের দৃশ্য দেখলে মনে হয় অনেক স্থানে যমুনেশ্বরী যেন তার আপন পরিচয়ের চিহ্ন হারিয়ে ফেলেছে। অপরদিকে বর্ষাকালে চরের কারণে পানির স্রোতে বিঘœ ঘটায় দু’কূল ভাঙ্গনের সৃষ্টি হয়। এতে নদী তীরবর্তী ৪টি গ্রামের ৭টি ভাঙ্গন কবলিত স্থানে ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়। তীর সংলগ্ন অনেকের ঘর বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ায় তারা অন্যত্র মাথা গোজার ঠাঁই করে নেয়।

এই অঞ্চলের অন্যতম প্রধান নদী যমনেশ্বরী সংস্কারের অভাবে শুকনো মওসুমে পানির স্তর নিচে নামায় পরিবেশগত ভারসাম্যহীনতা এবং বর্ষাকালে তীরবর্তী এলাকা প্লাবিত ও ভাঙ্গনে ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা বাড়ছে। ঐতিহ্যবাহী এই নদীটি কিশোরগঞ্জ উপজেলার বড়ভিটা, পুটিমারী, সদর, বাহাগিলী ও চাঁদখানা ইউনিয়ন দিয়ে প্রবাহিত হয়ে চাড়ালকাটা নদীর সাথে মিলিত হয়ে রংপুরের ঘাগট নদীতে পতিত হয়েছে।

যমুনেশ্বরী নদীতে এক সময় জেলেরা নৌকা দিয়ে মাছ ধরতো। জেলে পাড়ার শতাধিক পরিবার ওই নদীর মাছ বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করত। নদীটি পানিশুন্য হওয়ায় দুই চারজন জেলে বাদে অন্যরা জীবিকা নির্বাহের কর্ম পরিবর্তন করেছে। স্থানীয় বাজারে দেশী প্রজাতির মাছের আকাল দেখা দিয়েছে। নদীতে জেলেদের দলবেঁধে জাল দিয়ে মাছ ধরার দৃশ্য এখন অতীত স্মৃতি।

শুকনো মওসুমে এ নদীর পানি দিয়ে তীরবতী এলাকার কৃষকেরা তাদের চাষাবাদসহ অন্যান্য পানির চাহিদা মেটাত।সংস্কারের অভাবে যমুনেশ্বরী নদী পানিশুন্য হওয়ায় সেই নদীর বুকে চাষ হচ্ছে আলু, তামাক, ভূট্টাসহ বিভিন্ন ক্ষেত। অনেক স্থানে এই নদীর বুকে বিভিন্ন ফসলের সমারোহ দেখলে মনে হয় ঐতিহ্যবাহী যমুনেশ্বরী নদী তার নিজ পরিচয় চিহ্ন হারিয়ে ফেলছে।

অপরদিকে সংস্কারের অভাবে বর্ষাকালে নদীর পানি দু’কূল ছাপিয়ে তীর সংলগ্ন গ্রামের ফসলের ক্ষেত ও ঘর বাড়ি প্লাবিত হয়ে যায়। পলি জমে নদীর বুকে চর জেগে উঠায় বর্ষাকালে পানির স্রোতের গতিপথে বিঘœ ঘটায় বাজেডুমরিয়া, গদা, কেশবা ও ইসমাইল গ্রামের ৭টি স্থানে ব্যাপক ভাঙ্গন সৃষ্টি হয়।

ড্রেজিং না করার কারনে মূল ধারায় স্রোতের পানি প্রবাহিত না হওয়ায় ওইসব স্থানে নদী ভাঙ্গন ঠেকানোর জন্য বাঁশের খুঁটি ও বালির বস্তা দিয়ে ভাঙ্গন প্রতিরোধের চেষ্টা বিফলে গেছে। এব্যাপরে কিশোরগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রশিদুল ইসলাম বলেন, যমুনেশ্বরী নদী সংস্কারের জন্য একাধিকবার পানি উন্নয়ন বোডের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করেছি এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ে ডিও লেটার দিয়েছে কিন্তু কোন কাজের কাজ হচ্ছেনা।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য