প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর শ্রম আইন সংস্কারের প্রতিবাদে রেল শ্রমিকদের ডাকা ধর্মঘটে ফ্রান্সের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে।

বিবিসি জানায়, ‘ব্ল্যাক টিউজডে’ নামে শুরু হওয়া এ ধর্মঘট তিনমাসের বেশি সময় ধরে চলবে। প্রতি পাঁচদিনে দুই দিন করে ধর্মঘটে যাবে রেল শ্রমিকরা।

ফ্রান্সের সরকারি রেল কোম্পানি এসএনসিএফ’র কর্মীরা ধর্মঘটের নেতৃত্ব দিচ্ছে। শক্তি এবং বর্জ্য বিভাগও এ ধর্মঘটে যোগ দিয়েছে।

গত বছর মে মাসে প্রেসিডন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর ম্যাক্রোঁ এই প্রথম সবচেয়ে বড় পরীক্ষার মুখে পড়েছেন।

এসএনসিএফ’র প্রায় ৭৭ শতাংশ ট্রেন চালক এবং কোম্পানির মোট ৩৪ শতাংশ কর্মী এ ধর্মঘটে অংশ নিচ্ছেন বলে জানায় বিবিসি।

দ্রুতগতির টিজিভিএস ট্রেনের আটটির মধ্যে মঙ্গলবার মাত্র একটি ট্রেন ছেড়েছে। আর পাঁচটি আঞ্চলিক ট্রেনের মধ্যে এদিন মাত্র একটি পূর্বনির্ধারিত সময় স্টেশন ত্যাগ করেছে।

রাজধানী প্যারিসে কমিউটার লাইনও বন্ধ ছিল। যে কারণে বাসে অতিরিক্ত ভিড় দেখা গেছে। ট্রেন সার্ভিস বন্ধ থাকায় সড়কগুলোতে গাড়ির চাপ বেড়ে গেছে। এমনকি এদিন ব্যস্ত সময়ে সড়কে ২৪০ কিলোমিটার লম্বা যানজটের সৃষ্টি হয়েছিল।

কি কারণে এই ধর্মঘট?

বর্তমান আইনে এসএনসিএফ কর্মীরা বেশ কিছু সুযোগ সুবিধা ভোগ করে। তার মধ্যে অন্যতম হল: তাদের বেতন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাড়ে, চাইলে আগেই অবসরে যাওয়ার সুযোগ আছে, বছরে বেতনসহ ২৮ দিন ছুটি এবং চাকরি স্থায়ী হওয়ার পর বরখাস্ত করার সুযোগ নেই। এছাড়া, কর্মীদের নিকট আত্মীয়রা বিনা ভাড়ায় রেল ভ্রমণের সুযোগ পায়।

ম্যাক্রোঁর শ্রম আইন সংস্কার প্রস্তাবে শ্রমিকদের এ সমস্ত সুযোগ-সুবিধা কমবে।

তাছাড়া, নতুন পরিকল্পনায় ঋণ জর্জরিত রেল খাতকে ঢেলে সাজানোর যে পরিকল্পনা করা হয়েছে তাতে সরকার এর বেসরকারিকরণের পথে হাঁটছে বলেও শ্রমিক ইউনিয়নগুলোর আশঙ্কা।

সেপ্টেম্বরে সংস্কার প্রস্তাবটি পাস হতে পারে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য