মাসুদ রানা পলক, ঠাকুরগাঁও: অকারণে শিক্ষার্থীদের মারপিট ও ছাত্রীদের যৌন হয়রানীর কথা স্বীকার করেছেন ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ফাড়াবাড়ী কুসুম উদ্দীন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এনামুল হক। ‘শিক্ষার্থীদের নাম চিরকুটে লিখে আত্মহত্যা করবেন’ পাঠদানের সময় এমন হুমকি দেখিয়ে এবং মারপিট ও যৌন হয়রানীর জন্য নিজেই দায়ী এমন কথা উল্লেখ করে ৩শ টাকার নন-জুডিশিয়াল ষ্ট্যাম্পে কয়েকজন অভিভাবকে ও শিক্ষার্থীদের নিকট জোর পুর্বক স্বাক্ষর নিয়ে বিষয়টি আপোষ মীমাংসা করেছেন এমনটাই দাবী করেছেন প্রধান শিক্ষক।

সোমবার সন্ধ্যায় ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে আটকে রেখে ওই বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষকদের সহযোগিতায় আপোষ মীমাংসার চেষ্টা করেন। তবে এ মীমাংসা মানতে রাজি নন অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা।

ইতিপুর্বে গত বুধবার (২৮ মার্চ) প্রধান শিক্ষক এনামুল হকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের অকারণে মারপিট ও ছাত্রীদের যৌন হয়রানীর অভিযাগে বিচারের দাবী নিয়ে ক্লাশ বর্জন করে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে ‘বিচার চাই, বিচার চাই, প্রধান শিক্ষকের বিচার চাই’ স্লোগান দিয়ে মিছিল নিয়ে আসে ওই বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণির ১’শত শিক্ষার্থী।

ওইদিন উপজেলা নির্বাহী অফিসার দাপ্তরিক কাজে জেলায় থাকার কারণে দুপুর দেড়টা হতে বিকাল ৩টা পর্যন্ত উপজেলা পরিষদ চত্বরে সাদা কাগজে প্রধান শিক্ষকের বিচারের দাবী নিয়ে অবস্থান নেয় শিক্ষার্থীরা। পরে বিকাল সাড়ে ৩টায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার আঃ মানান এসে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ শুনেন এবং অভিযোগ নেন।

উপজলা নির্বাহী অফিসার আঃ মানান পরে জানান, শিক্ষার্থীদের অভিযোগ নেওয়া হয়েছে এবং তাদের শরীরে মারপিটের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে বিষয়টির তদন্ত করা হবে। তদন্তে প্রধান শিক্ষকর দাষ প্রমাণিত হল কঠার ব্যবস্থা নওয়ার আশ্বাস দিল শিক্ষার্থীরা বাড়ীত ফির যায়।

দশম শ্রণির শিক্ষার্থী কালাম, সাবির সুমাইয়া, বিপ্লব ও কয়কজন শিক্ষার্থীর নিকট জানত চাইল তারা জানান, অভিযাগ দওয়ার পর থক অভিযাগটি তুল নওয়ার জন্য ক্লাশ প্রধান শিক্ষকর আমাদর অন্য লাকজন দিয় মারপিট, রাস্তার গাড়ী চাপা দিয় মর ফলব, আগামী পরীক্ষায় বসত দিবন নাসহ বিভিন হুমকি দিত থাক। ‘১ম শ্রণির ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকদর নাম চিরকুট লখ আত্মহত্যা কর সই দায় সবাইক ফাসাবন বল আপাষ মীমাংসার জন্য চাপ দিত থাকন।

অভিভাবক রমজান আলী ও বাবলুর রহমান জানান, শিক্ষার্থীদর সামবার সারাদিন বিদ্যালয় চাপ দিয় আটক রখ তিন চারজন অভিভাবক ও পাশর এলাকার কয়কজন লাক দিয় জার পূর্বক আপাষ করার চষ্টা কর প্রধান শিক্ষক। খবর পয় আমরা বিদ্যালয় থক শিক্ষার্থীদর নিয় আসি।

ওই ¯ুলর ম্যানজিং কমিটি সভাপতি হাফিজ উদ্দীন জানান, আপাষ মীমাংসার সময় আমি ছিলাম না। তব পর অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদর স্বাক্ষরযুক্ত একটি আপাষ নামা দখিয়ছ আমার নিকট স্বাক্ষর কর নন প্রধান শিক্ষক। তব এটি মানছন না শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকরা।

গত বুধবার অভিযাগর বিষয়টি অস্বীকার করলও মঙ্গলবার বিকাল মুঠাফান প্রধান শিক্ষক এনামুল হক জানান, বিষয়টি শিক্ষক ও অভিভাবকদর নিয় মীমাংসা করা হয়ছ। এর আগ মারপিটর কথা অস্বীকার করার কারণ জানত চাইল তিনি প্রতিবদকক চা খাওয়ার প্রস্তাব দন।

মঙ্গলবার বিকালে উপজলা নির্বাহী অফিসার আঃ মানান মুঠোফোনে জানান, উপজেলা কৃষি অফিসার শাফীয়ার রহমানকে আহবায়ক করে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুর রহমানকে ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সামশুল হককে সদস্য করে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। উক্ত কমিটি এখন পর্যন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়নি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য