আফগানিস্তানের কুন্দুজ প্রদেশে সন্দেহভাজন তালেবান জমায়েতে সামরিক বাহিনীর বিমান হামলায় বহু বেসামরিকসহ কয়েক ডজন মানুষ হতাহত হয়েছেন বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

সোমবার কুন্দুজের দাশ্ত ই আর্চি জেলার একটি মাদ্রাসায় আয়োজিত ওই জমায়েতে কয়েকটি হেলিকপ্টার থেকে হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা, খবর বিবিসি ও বার্তা সংস্থা রয়টার্সের।

স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তা আব্দুল হামিদ হামিদি জানিয়েছেন, তালেবান যোদ্ধারা একটি অভিযানের প্রস্তুতি নিতে ওই মাদ্রাসাটিতে জড়ো হয়েছিল, তাদের লক্ষ্য করেই হামলাটি চালানো হয়।

এতে অন্তত ১৫ জন নিহত ও ১০ জন আহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

পাকিস্তানের কোয়েটা শহরভিত্তিক তালেবানের নেতৃত্ব পরিষদের এক প্রতিনিধি ওই মাদ্রাসাটি পরিদর্শন করার সময় সেখানে বিমান হামলা চালানো হয় বলে দাবি তার।

হামলায় বেসামরিক হতাহত হওয়ার কথা স্বীকার করলেও বিস্তারিত তথ্য তার জানা নেই বলে জানিয়েছেন।

আফগানিস্তানের সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অন্ততপক্ষে ২৫ জন জঙ্গি নিহত বা আহত হয়েছেন। কিন্তু কুন্দুজ শহরের এক হাসপাতালের চিকিৎসক বিবিসিকে জানিয়েছেন, ৫০ জনেরও বেশি গুরুতর আহত ব্যক্তিকে তাদের হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই চিকিৎসক জানিয়েছেন, হতাহতদের মধ্যে শিক্ষার্থী ও বেসামরিক ব্যক্তি রয়েছেন।

দাশ্ত ই আর্চি জেলাটি তালবানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

ঘটনাস্থলে কোনো যোদ্ধা ছিল না, শুধু বেসামরিকরা নিহত হয়েছেন বলে দাবি তালেবানের।

এক বিবৃতিতে গোষ্ঠীটি জানিয়েছে, হামলায় ১৫০ জন মাদ্রাসা ছাত্র ও বেসামরিক নিহত হয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, হামলায় একটি মসজিদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং অনেক বেসামরিক নিহত ও আহত হয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী মোহাম্মদ ইসহাক জানিয়েছেন, ‘তারা একটি বোমা ফেলেছে’ বলে চিৎকার করছিল কয়েকটি শিশু, কিন্তু বড়রা তাদের শান্ত থাকতে বলেন এবং ‘কিছুই হবে না’ বলে আশ্বাস দেন; আর তখনই বোমাগুলো মসজিদে আঘাত করে।

মাদ্রাসাটিতে একটি সনদ প্রধান অনুষ্ঠান চলছিল এবং সেখানে উপস্থিতদের মধ্যে বেসামরিক, মাদ্রাসা ছাত্র ও তালেবান যোদ্ধারা ছিলেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

ওই এলাকায় মার্কিন বাহিনী কোনো আক্রমণ পরিচালনা করেনি বলে দাবি করেছেন আফগানিস্তানে মোতায়েন মার্কিন বাহিনীর মুখপাত্র লিসা গার্সিয়া।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য