স্বদেশভূমিতে চারদিনের সফর শেষে আবারও যুক্তরাজ্যে ফিরছেন পাকিস্তানের শিক্ষা অধিকারকর্মী এবং শান্তিতে নোবেলজয়ী মালালা ইউসুফজাই। পাকিস্তানের স্থানীয় সময় সোমবার (২ এপ্রিল) সকাল ১০টার দিকে পরিবারসহ একটি বেসরকারি বিমানে করে ইসলামাবাদ বিমানবন্দর ত্যাগ করেন তিনি। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ জানিয়েছে, লন্ডনে ফেরার আগে দোহায় যাত্রাবিরতি করবে মালালার পরিবার।

কিশোর বয়স থেকেই নারী শিক্ষা ও অধিকার আদায়ে আওয়াজ তুলেছেন মালালা। প্রায়ই টেলিভিশনের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নারী শিক্ষা নিয়ে কথা বলতে দেখা যেত তাকে। ২০১২ সালের ৯ অক্টোবর মালালার স্কুল বাসে উঠে পড়ে মুখোশধারী তালেবান সদস্যরা। নাম ধরেই খুঁজতে থাকে তাকে। সামনে আসার পর তাকে গুলি করে চলে যায় তারা। তৎক্ষণাৎ তাকে যুক্তরাজ্যে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। কয়েক মাসের চেষ্টায় তার মাথার খুলি ঠিক করতে সক্ষম হয় ডাক্তাররা। এরপর থেকেই বাড়ি ফিরতে পারছিলেন না মালালা। কিন্তু বিশ্বে নারী অধিকার আদায় আন্দোলনের প্রতীক হয়ে উঠেন তিনি।

২০১৪ সালে মাত্র ১৭ বছর বয়সে নোবেল শান্তি পুরস্কার পান মালালা। প্রায় ছয় বছর ধরে যুক্তরাজ্যে থাকার পর গত ২৯ মার্চ দিনের আলো ফোটার আগেই পাকিস্তানে পা রাখেন মালালা। দেশে ফিরে আপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি। কড়া নিরাপত্তায় নিজ শহর সোয়াতেও যান তিনি। দেখতে দেখতেই চারদিন পেরিয়ে গেছে। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত মালালার এবার যুক্তরাজ্যে ফেরার পালা।

মার্কিন বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদনে বলা হয়, সোমবার (২ এপ্রিল) কড়া নিরাপত্তায় একটি গাড়ি বহরে করে ইসলামাবাদের হোটেল থেকে বেনজির ভুট্টো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান মালালা। সেখান থেকে লন্ডনের উদ্দেশে যাত্রা করেন তিনি।

মালালার চাচা মাহমুদুল হাসান এপিকে বলেন, ‘ও ভালো এবং মধুর স্মৃতি নিয়ে পাকিস্তান ছাড়ছে, ও ইংল্যান্ডে ফিরছে, কারণ সেখানে তার পড়াশোনা শেষ করতে হবে।’

বর্তমানে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে দর্শন, অর্থনীতি ও রাজনীতি বিষয়ে পড়াশোনা করছেন ২০ বছর বয়সী মালালা। এখনও বিশ্বজুড়ে নারী অধিকার নিয়ে কথা বলেন তিনি। মালালা ফান্ড নামে একটি সংগঠন গড়ে তুলেছেন। নারীর অধিকার নিশ্চিতের আন্দোলনে গড়ে তোলেন তহবিল। পাকিস্তান, আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যে কাজ করে যাচ্ছে মালালা ফান্ড। পাকিস্তানের উত্তরাঞ্চলে যেখানে মালালাকে গুলি করা হয়েছিল সেখানেই নোবেল পুরস্কারের কিছু টাকা দিয়ে মেয়েদের জন্য একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছেন মালালা।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য