মোঃ লিহাজ উদ্দীন মানিক, বোদা (পঞ্চগড়) থেকেঃ পঞ্চগড়ের বোদায় এবারে আলুর আশাতীত ফলন হয়েছে। কিন্তু বাজারে দাম না থাকায় চাষিরা পড়েছে মহাবিপাকে। কৃষকদের আলু উত্তোলন করে পানির দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। উৎপাদন খরচ না উঠায় কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। আলু চাষিরা জানান, চলতি বছরেও আলু চাষ করে তাদের লোকসানের কবলে পড়তে হয়েছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৪৩০ হেক্টর। কিন্তু লক্ষামাত্রা চেয়ে বেশি জমিতে আলু চাষ করা হয়েছে। উৎপাদনও হয়েছে ভাল।

এ বছর বীজ আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং বেশি লাভের আশায় কৃষকেরা আলু চাষে বেশি আগ্রহী হয়ে উঠেছিল। কিন্তু শীত ও কুয়াশা বেশি হওয়ায় মাঝামাঝি সময়ে আলুর জমিতে লেট ব্লাইট রোগসহ নানা রোগের আক্রান্ত দেখা দেয়।

কৃষকরা আলু ক্ষেত রক্ষার জন্য বিভিন্ন কিটনাশক ব্যবহার করেন। এতে কৃষকদের বাড়তি খরচ হয়েছে একটু বেশি। কিন্তু কৃষকদের মুখে হাসি নেই। কারণ উৎপাদন খরচই উঠছে না। আলু নষ্ট হয়ে যাওয়ার ভয়ে অল্প দামেই বিক্রি করে দিতে হচ্ছে কৃষকদের।

বর্তমানে বাজারে আলুর বস্তা (৯০ কেজি) ৪০০টাকা থেকে সর্বেŸাচ ৫০০টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ফলে আলূ চাষিরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে চোখে সরষে ফুল দেখছেন। উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায় অনেকে ধার দেনা করে আলু চাষাবাদ করেছে।

এখন তাদের লোকসান গুনতে হচ্ছে। এতে কৃষকরা আলু চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলতে শুরু করেছে। গত বছর অনেক কৃষক একটু লাভের আশায় তাদের উৎপাদিত আলু কোল্ড ষ্টোর রাখেন, কিন্তু কোল্ড ষ্টোর এর ভাড়া সহ আলু মুল্য কম হওয়ায় সেখানেও তাদের লোকসান হয়েছে।

এবছর তারা কোল্ড ষ্টোরে আলু না রেখে বাজারে কম দামে বিক্রি করে দিচ্ছেন। এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি অফিসার আল মামুন অর রশিদ জানান, আলু উৎপাদন বেশি হওয়ায় বাজারে আলু দাম কমে গেছে। ্আলু উত্তোলন শেষ হলে পরবর্তীতে আলু দাম বাড়লে কৃষকদের আর লোকসান গুন হবে না।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য