সিরিয়ার পূর্ব গৌতায় বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে থাকা সর্বশেষ শহর দৌমা থেকে গুরুতর আহতদের সরিয়ে নিতে সব পক্ষ একটি চুক্তিতে পৌঁছেছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

শনিবার দৌমা নিয়ন্ত্রণকারী বিদ্রোহী গোষ্ঠী জইশ আল-ইসলাম, শহরটির নাগরিক নেতৃবৃন্দ ও রাশিয়ার মধ্যে আলোচনার পর এ সমঝোতা হয়েছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বিবিসি।

সমঝোতা অনুযায়ী গুরুতর আহতদের দৌমা থেকে সরিয়ে সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত প্রদেশ ইদলিবে নিয়ে যাওয়া হবে।

পূর্ব গৌতা পুনরুদ্ধারে অভিযানে নামা সিরীয় সেনাবাহিনী ও তাদের মিত্র বেসামরিক বাহিনীগুলো দৌমা ঘিরে রেখেছে। তবে এ অভিযান থেকে দৌমাকে নিষ্কৃতি দেওয়া যায় কিনা তা নিয়ে পক্ষগুলোর মধ্যে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।

শহরটিতে এখনও রয়ে যাওয়া প্রায় লাখখানেক বাসিন্দাকে সরিয়ে নেওয়ার চুক্তি করতে তারা আলোচনা করছে, এমন তথ্য অস্বীকার করেছে বিদ্রোহীরা।

কেবল গুরুতর আহতদের সরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে শনিবার রাতে রুশ সামরিক বাহিনীর সঙ্গে বিদ্রোহীদের সমঝোতা হয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

বিদ্রোহীরা আশা করছে, আলোচনার মাধ্যমে মস্কোর সুরক্ষায় তারা শহরটি থেকে যেতে পারবে।

পূর্ব গৌতায় সরকারি বাহিনীর টানা ছয় সপ্তাহের বোমাবর্ষণের পর অঞ্চলটির হাজার হাজার বিদ্রোহী নিরাপদে সরে যাওয়ার এক চুক্তির অধীনে উত্তরাঞ্চলীয় শহর ইদলিবে চলে গেছে।

যারা এখনো দৌমায় থেকে প্রতিরোধ চালিয়ে যাচ্ছে তাদের দ্রুত শহরটি ছাড়ার তাগিদ দিয়েছে সিরিয়ার সেনাবাহিনী, না হলে পূর্ণ মাত্রার অভিযানের মুখোমুখি হতে হবে বলে সতর্ক করেছে।

সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কের সংলগ্ন পূর্ব গৌতায় এক সময় প্রায় ২০ লাখ বাসিন্দা ছিল। কিন্তু কয়েক বছর ধরে অবরোধের মধ্যে থাকার পর অঞ্চলটির বাসিন্দা প্রায় চার লাখে নেমে আসে।

এরপর সিরীয় সেনাবাহিনীর সাম্প্রতিক অভিযানের পর আরও প্রায় লাখ খানেক বাসিন্দা এলাকাটি ছেড়ে উত্তরের নিরাপদ স্থান চলে গেছেন। আরও প্রায় লাখ খানেক বাসিন্দা সরে যাওয়ার অপেক্ষায় আছেন।

পরাজিত বিদ্রোহীদের পক্ষ বদল কিংবা অস্ত্র সমর্পণ করে সরকার নিয়ন্ত্রিত অংশে পুনর্বাসিত হওয়ার মধ্যে যে কোনো একটি প্রস্তাব বেছে নিতে বলছে সিরীয় বাহিনী।

শনিবার সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক বিবৃতিতে সামরিক বাহিনীর এক মুখপাত্র বলেছেন, সেনাবাহিনী রাজধানীর নিরাপত্তা এবং দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে এর সংযোগ নিশ্চিত করেছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য