জম্মু ও কাশ্মিরের ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর পৃথক দুই অভিযানে আট জন নিহত হয়েছে। সে দেশের সম্প্রচারমাধ্যম এনডিটিভির ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, শনিবার রাতে সোফিয়া ও অনন্তনাগ জেলায় পরিচালিত অভিযানে তারা নিহত হয়। নিহতদের জঙ্গি আখ্যা দিয়েছে পুলিশ। ভারতীয় কর্মকর্তাদের সূত্রে এনডিটিভি সোফিয়ান জেলায় আরও একটি অভিযান চলমান থাকার কথা জানিয়েছে। সেখানে তিন থেকে চার জঙ্গিকে টার্গেট করার কথা জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে এনডিটিভি জানিয়েছে, শনিবারের অভিযানে সোফিয়ান জেলার দ্রাগাদ গ্রামে নিহত হয় ৭ জন। অপর একজন নিহত হয় অনন্তনাগের দয়ালগামের অভিযানে। রবিবার কাশ্মিরের শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তা এসপি বৈদ্য টুইটারে দাবি করেন, অনন্তনাগের দয়ালগ্রামে নিহত ব্যক্তিকে আত্মসমর্পণ করাতে তার পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি পুলিশও চেষ্টা চালায়। তবে তা ব্যর্থ হয়। ওই ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে। আর সোফিয়ার দ্রাগাদ গ্রামের অভিযানে এক কমান্ডারসহ সাত জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

কাশ্মিরে সশস্ত্র বিদ্রোহী সংগঠনগুলোর কেউ কেউ সরাসরি স্বাধীনতার দাবিতে আন্দোলনরত। কেউ কেউ আবার কাশ্মিরকে পাকিস্তানের অঙ্গীভূত করার পক্ষে। ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় সেখানকার স্বাধীনতা আন্দোলনের ইসলামীকিকরণ হয়েছে। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ কাশ্মিরের জাতিমুক্তি আন্দোলনকে বিভিন্ন জঙ্গিবাদী তৎপরতার থেকে আলাদা করে শনাক্ত করে না।

সন্দেহভাজন জঙ্গি নাম দিয়ে বহু বিদ্রোহীর পাশাপাশি বেসামরিকদেরও হত্যার অভিযোগ রয়েছে ভারতীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে। শনিবারের দুই অভিযানে চার পুলিশ সদস্যের আহত হওয়ার কথাও জানিয়েছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। কর্মকর্তারা বলছেন, সোফিয়ান জেলায় আরও একটি আস্তানা ঘিরে অভিযান চলছে। তিন থেকে চারজন জঙ্গি সেখানে থাকতে পারে বলে সংবাদমাধ্যমের কাছে আশঙ্কা জানিয়েছে পুলিশ।

নিয়ন্ত্রণরেখায় ভারত-পাকিস্তানের গোলাগুলি নিয়ে উত্তেজনার মধ্যে গত ৪ মার্চ রাতে সোপিয়ানে সেনা অভিযানে নিহত ৫ জনের তিন জনকে জঙ্গি সহযোগী দাবি করা হয়। যদিও স্থানীয়রা জানিয়েছিল তারা নিরপরাধ। ‘বেসামরিক নিরপরাধ’ হত্যার প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে ওঠে কাশ্মির। লোকজন বিক্ষোভ করতে রাস্তায় নেমে আসে। জারি করা হয় কারফিউ। স্কুল-কলেজ ও ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। গত ১০ মার্চ উত্তর ও মধ্যাঞ্চলীয় এলাকার স্কুল-কলেজগুলো খুলে দেওয়া হয়। জানানো হয়, ১২ মার্চ থেকে দক্ষিণ কাশ্মিরের স্কুল-কলেজগুলো খুলবে। তবে এদিন ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নতুন করে তিনজন নিহত হওয়ার পর দক্ষিণ কাশ্মিরের পরিস্থিতি নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

গত তিন দিনে কাশ্মিরে বেশ কয়েকটি নিরাপত্তা অভিযান চালিয়েছে ভারতের নিরাপত্তাবাহিনী। ভারতীয় কর্তপক্ষের দাবি বেশ কয়েকটি হামলার জবাবে এসব অভিযান চালানো হচ্ছে। এসব হামলায় দুই পুলিশ কর্মকর্তা নিহত ও অপর একজন গুরুতর আহত হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য