দিনাজপুর শহরের বহুল আলোচিত দিনাজপুর কালেক্টরের স্কুল এন্ড কলেজের সঙ্গীত শিক্ষক,ক্যাব স্কাউট লিডার নাহিদুল ইসলাম নাহিদকে প্রেম ঘটিত কারণে হত্যা করা হয়েছে।

গত ৩০ মার্চ দিবাগত রাতে পুলিশ এই হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রসহ দুই জনকে গ্রেফতার করেছে। গতকাল শনিবার তাদেরকে আদালতে প্রেরণ করে সাত দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছে।

পুলিশ জানায়, হত্যা মামলার এজাহার নামীয় আসামী ইন্টানি ডাঃ হাসান রাসেদ কে গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদের ৭ দিনের রিমান্ড চায় পুলিশ। আদালত তিন দিন রিমান্ড মঞ্জুর করে। তাকে বিজ্ঞাসাবাদের পর তার দেয়া তথ্য অনুয়ায়ী দিনাজপুর পাহাড়পুর এলাকার মোঃ নুরুজ্জামানের ছেলে হাজী দাসেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মেহেদী হাসান (২০) ও শহরের লালবাগ ক্লাব মোড় এলাকার একিমুদ্দিনের ছেলে ইজিবাইক চালক মোঃ আব্দুল কুদ্দুস (৪৫) কে গ্রেফতার করে।

শনিবার দিনাজপুর সিনিয়র চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আমলী আদালত-১ এ সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা।

একটি সূত্র জানায়, আসামী ইন্টানি ডাঃ হাসান রাসেদের সঙ্গে শিক্ষক নাহিদুল ইসলাম নাহিদের পরিবারের একটি মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে উঠে । বিষয়টি জানতে পেরে আসামী ইন্টানি ডাঃ হাসান রাসেদকে বিয়ের জন্য চাপ দিয়ে আসছিল। সে কারণে গত ২৬ ফেব্রুয়ারী সোমবার রাত ৯ টার সময় দিনাজপুর ইনষ্টিটিউট প্রাঙ্গণে “ইয়াম্মী চাইনিজ রেষ্টুরেন্টে থেকে ফোন করে ডাঃ হাসান রাসেদ শিক্ষক নাহিদুল ইসলাম নাহিদকে নীচে ডেকে নেয়। সেখান থেকে তাকে ইজিবাইকে তুলে নিয়ে শহরের উপশহর ৮ নং ব্লকের মৃত আশরাফ আলীর ছেলে রেজাউনুল হকের নির্মানার্ধীন ৫ তলা বাসার ছাদে ডেকে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে মারধর করে ডাঃ হাসান রাসেদ তাকে দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায় এবং নিজের নাম গোপন করে তাকে ভর্তি করে কৌশলে পালিয়ে যায়। রাতেই নাহিদুল ইসলাম নাহিদের মৃত্যু হয়।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এখন পর্যন্ত গ্রেফতার হওয়া তিন জনই এই হত্যা কান্ডের সঙ্গে জড়িত তা নিশ্চিত হওয়া গেছে। মামলার তদন্তের স্বার্থে বিস্তারিত কিছু এই মহুর্তে বলা যাবেনা।

দিনাজপুর কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ রেদওয়ানুর রহিম হত্যা কান্ডের কারণ ইঙ্গিত করে বলেন, আমরা হত্যা কান্ডের কারণ নিশ্চিত হয়েছি। আরো নিবিড় তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে। তাউ আসামীদেরকে জ্ঞিাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য