রংপুরে জাপানের নাগরিক হোসি কুনিও ও মাজারের খাদেম রহমত আলী হত্যা মামলার প্রধান আইনজীবী রথীশ চন্দ্র ভৌমিক বাবু সোনা নিখোঁজের ঘটনায় জিজ্ঞাবাসাদের জন্য পুলিশ ৫ জনকে আটক করেছে। একই সাথে তাকে উদ্ধারে আইন-শৃংখলা বাহিনীর চারটি টিম মাঠে কাজ করছে বলে জানা গেছে।

এর আগে, গতকাল শুক্রবার সকাল থেকে তিনি নিখোঁজ থাকায় তার ভাই রংপুরের কোতয়ালি থানায় জিডি করেন।

পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়, সকাল ৬টার দিকে রংপুর নগরীর বাবুপাড়ার বাড়ি থেকে মোটর সাইকেল একজনের সঙ্গে বের হয়ে আর ফেরেননি তিনি।

রংপুরে এক জাপানি হত্যা মামলা ও মাজারের খাদেম হত্যা মামলার পিপি ছিলেন রথীশ চন্দ্র ভৌমিক। এসব মামলায় জঙ্গিদের ফাঁসির রায়ও হয়েছে।

রথীশ চন্দ্র ভৌমিকের স্ত্রী স্নিগ্ধা সরকার বলেন, ‘শুক্রবার সকালে বাড়ি থেকে বের হয়ে তিনি আর ফিরে আসেননি। মোটর সাইকেল একজনের সঙ্গে বাড়ি থেকে বের হন তিনি। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তার কোনো খোঁজ পাচ্ছি না। আমি আমার স্বামীকে ফেরত চাই।’

শনিবার রথীশ চন্দ্র ভৌমিককে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে- এমন সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে তার স্বজন, শুভাকাঙ্খী এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা তার বাবুপাড়ার বাড়িতে ভিড় করেন। এলাকার উত্তেজিত লোকজন রংপুর-বগুড়া-কুড়িগ্রাম সড়ক অবরোধ করে। এতে ওই সড়কে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে।

এদিকে রংপুর তাজহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি রথীশ চন্দ্র ভৌমিককে উদ্ধারের দবিতে ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষার্থীরা তাজহাট এলাকায় সড়ক অবরোধ করেন। রংপুর লায়ন্স স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থী-শিক্ষকরাও রংপুর প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করে তাকে দ্রুত উদ্ধারে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

রংপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি সাফিউর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক তুষার কান্তি মন্ডল জানান, রথীশ চন্দ্র ভৌমিক জেলা আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক। তিনি জেলা আইনজীবী সমিতির যুগ্ম সম্পাদকের দায়িত্বেও রয়েছেন। কারা তাকে নিয়ে গেল, কেন কোথায় নিয়ে গেল তা প্রশাসনকে খুঁজে বের করতে হবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য