যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিহত স্টেফন ক্লার্ককে নিরস্ত্র অবস্থায় পেছন থেকে আটবার গুলি চালিয়ে হত্যা করে দেশটির পুলিশ। শুক্রবার প্রকাশিত এক বেসরকারি ময়নাতদন্তে এই তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর বেশ কয়েক মিনিট ক্লার্ক ঘটনাস্থলে পড়েছিল। ফরাসি বার্তা সংস্থা এফপি এখবর জানিয়েছে।

নিহতের পরিবারের নিয়োগ করা আইনজীবী বেঞ্জামিন ক্রাম্প বলেছেন, ক্লার্কের শরীরের সামনের দিকে দিয়ে গুলি প্রবেশ করেনি। অর্থাৎ পুলিশ তাকে পেছন থেকে গুলি করেছে। যার অর্থ ক্লার্ক এমন পরিস্থিতিতে ছিলেন না যে তাকে নিরস্ত্র করতে পুলিশকে গুলি চালাতে হতো।

২২ বছর বয়সী স্টেফন ক্লার্ক দুই সন্তানের জনক। তাকে পুলিশ এভাবে গুলি করে মেরে ফেলার পর, তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে দেশটির মানবাধিকারকর্মীদের মধ্যে। টানা চার দিন ধরে তারা রাস্তায় বিক্ষোভ করছেন।

মানবাধিকার আইনজীবী ক্রাম্প সাংবাদিকদের বলেছেন, অবিশ্বাসযোগ্য পরিস্থিতির দোহাই দিয়ে পুলিশ যেসব হত্যাকাণ্ড ঘটাচ্ছে, সেরকমই একটি কাণ্ডজ্ঞানহীন পুলিশি হত্যাকাণ্ডের স্বীকার নিহত ক্লার্ক।

ক্লার্কের বাসার পেছনের আঙ্গিনাতেই তাকে গুলি করেছিল পুলিশ। তারা মোট ২০ বার গুলি করে, যার ৮টি লেগেছে নিহতের শরীরে। বেসরকারি ওই ময়নাতদন্তটি করেছেন বিখ্যাত প্যাথোলজিস্ট বেনেট ওমালু। তিনি স্যান জ্যাকুইন কাউন্টির সাবেক প্রধান মেডিক্যাল এক্সামিনার। ময়নাতদন্তের ফল জানাতে তিনি বলেছেন, ‘ক্লার্কের শরীরের পেছনের দিক দিয়ে চারটি গুলি প্রবেশে করেছে। অন্য চারটি গুলির একটি গলার পাশে, একটি গলার পেছনে, একটি হাতের নিচ দিয়ে ঢুকেছে এবং আরেকটি পায়ে লেগেছে।

বেসরকারি ময়নাতদন্ত করা ওমালু মন্তব্য করেছেন, ‘সে বাড়ির দিকে মুখ করে ছিল। তার বাম দিক ছিল পুলিশ। সে পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে মুখোমুখি দাঁড়িয়ে ছিল না।’ ওমালুর মতে, গুলিবিদ্ধ হওয়ার পরে প্রায় ১০ মিনিট ধরে সেখানে পড়েছিলেন ক্লার্ক। তারপর ধীরে ধীরে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন ক্লার্ক। তিনি বলেন, ‘এটা তাৎক্ষণিক মৃত্যু ঘটনা নয়।’

পুলিশের গুলি চালানোর ওই ঘটনার সূত্রপাত ১৮ মার্চের একটি ফোন কলের মাধ্যমে। পুলিশের জরুরি সেবার নম্বরে ফোন দিয়ে কেউ একজন জানিয়েছিল, রাস্তায় রাখা গাড়ির কাঁচ ভাঙচুর করা হচ্ছে। পুলিশ স্টেফন ক্লার্কে সন্দেহ করে এবং তাকে গাড়ি ভাঙার ঘটনায় জড়িত সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেফতার করার চেষ্টা করে। পুলিশের বক্তব্য, হেলিকপ্টারে থাকা ক্যামেরা ও পুলিশ সদ্যসদের শরীরে লাগানো ক্যামেরায় ধারণ করা চিত্রে প্রমাণ রয়েছে, ক্লার্ক পুলিশের কাছ থেকে পালাচ্ছিলেন। পুলিশ ধাওয়া করে তার বাড়ির পেছনের আঙ্গিনাতে তাকে নাগালের মধ্যে পায়।

নিহত ক্লার্ককে গ্রেফতার করতে যেসব পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে ছিলেন তাদের একজ কৃষ্ণাঙ্গ। পুলিশের গুলিতে কৃষ্ণাঙ্গ ক্লার্ক নিহত হওয়ার পর পুলিশের ওই কৃষ্ণাঙ্গ সদস্যকে ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু বিক্ষোভ থামেনি তাতে। স্যাকরামেন্টোর ‘ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার ’ শাখা সিটি হলে এক প্রতিবাদ সভার ডাক দিয়েছে। স্যাক্রামেন্টোতে তিনজন নিরস্ত্র ব্যক্তিসহ মোট ১৬ জন পুলিশের গুলিতে মারা গেছেন গত দুই বছরে। ফেসবুক পোস্টে সংগঠনটি লিখেছে, ‘বেসরকারি ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন থেকে এটা স্পষ্ট যে, প্রথম গুলিটা লেগেছে তার বাম হাতে। তার মানে সে তখন পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত ছিল না বরং বাড়িতে ঢুকছিল।’

ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার্সের স্যাক্রামেন্টো শাখার নেত্রী তানিয়া ফেইসন স্যাক্রামেন্টো স্থানীয় সংবাদপত্র বি পত্রিকাকে বলেছেন, ‘জানি না আমাদের লোকজন কী প্রতিক্রিয়া দেখাবে।’

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য