আজিজুল ইসলাম বারী,লালমনিরহাট প্রতিনিধি: শিলায় টিন নয় হৃদয় ফুটো করেছে বাই (ভাই)। কথাটি বলছিলেন লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা বাজারে রবিউল ইসলাম (৩২)। বাজারে একখানা দোকান। ওই দোকানের আয় দিয়েই চলতো সংসার। কিন্তু প্রকৃতির বৈরি আচরণে রবিউলের সেই সুখ আর
থাকলো না।

লালমনিরহাটে শুক্রবার (৩০ মার্চ) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে প্রায় ১২ মিনিট ধরে ভারী শীলাবৃষ্টি হয়েছে। শুধু রবিউলের নয়, ফুটো হয়ে গেছে জেলার হাতীবান্ধা ও পাটগ্রাম উপজেলার অসংখ্য ঘরবাড়ির টিনের চালা।

স্থানীয়রা জানান, সকালে হঠাৎ বাতাসের সঙ্গে বৃষ্টি শুরু হয়। সেই সঙ্গে পড়তে থাকে বড় বড় শীলা। শীলার আঘাতে অনেকের ঘরবাড়ির টিনের চালা ফুটো হয়ে বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। ভুট্টাগাছগুলো ভেঙ্গে মাটিতে হেলে পড়েছে। নষ্ট হয়েছে সবজি ক্ষেত। বোরো ধানের চারা গাছ মাটির সঙ্গে মিশে গেছে।

শীলাবৃষ্টিতে সব থেকে বেশি ক্ষতি হয়েছে পাটগ্রাম ও হাতীবান্ধা উপজেলায়। এছাড়া কালীগঞ্জ উপজেলার চন্দ্রপুর, চলবলা, আদিতমারী উপজেলার দুর্গাপুর ও সদর উপজেলার মোগলহাট ইউনিয়নের ওপরেও শীলাবৃষ্টি আঘাত হানে।

হাতীবান্ধা উপজেলার স্থানীয় সংবাদকর্মী আসাদুজ্জামান সাজু ও শাহিনুর ইসলাম প্রান্তর জানান, তাদের জীবনে দেখা এটিই ভয়াবহ শীলাবৃষ্টি। এর আগে কখনোই এতো বড় শীলা পড়তে দেখেননি তারা। শীলার আঘাতে অসংখ্য দোকান ও ঘরবাড়ির টিনের চালা ফুটো হয়ে গেছে।

হাতীবান্ধা উপজেলার বড়খাতা এলাকার কৃষক আফাজ উদ্দিন বলেন, ৭০ বছরের জীবনে এতো বড় শীলা দেখিনি।

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক শফিউল আরিফ জানান, এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকেও অবগত করা হচ্ছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য