বিদেশে প্রশংসিত এই চলচ্চিত্রটি বাংলাদেশে মুক্তি পেয়েছে মাত্র তিনটি প্রেক্ষাগৃহে।

২৩ মার্চ মুক্তি পেয়েছে বিজন ইমতিয়াজ পরিচালিত চলচ্চিত্র ‘মাটির প্রজার দেশে’। দেশের বাইরে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ চলচ্চিত্র উৎসবে বহুল প্রশংসিত চলচ্চিত্রটি দেশে মুক্তি নিয়ে আকাঙ্খা ছিলো দেশের দর্শকমহলেও।

চলচ্চিত্রটি মুক্তি পেল মাত্র তিনটি প্রেক্ষাগৃহে। এ নিয়ে সুস্থধারার চলচ্চিত্র দর্শকদের মধ্যে প্রশ্ন ও হতাশা জন্ম নিয়েছে। কারণ জানতে গ্লিটজের সঙ্গে আলাপ হয় চলচ্চিত্রটির প্রযোজক আরিফুর রহমানের সঙ্গে।

তিনি জানান, চলচ্চিত্রটিকে আর্ট ফিল্ম ভেবে পরিবেশনায় এগিয়ে আসেনি কোনো পরিবেশক। এমনকি চলচ্চিত্রটির প্রচারণায় নানা জায়গায় ধরনা দিয়েও কোনো টাইটেল স্পন্সর না পাওয়ায় অর্থসংকটে ব্যহত হয়েছে এর প্রচারণার কাজও।

হল বরাদ্দ না পাওয়ায় হতাশা ব্যক্ত করে এ প্রযোজক বলেন, “আমরা তো হল বাড়াতেই চাই। কিন্তু সামনে ইমপ্রেস টেলিফিল্মের ছবি ‘কালের পুতুল’, পরের সপ্তায় আসছে ‘স্বপ্নজাল’। রানিং ছবি আছে ‘পাষান’। ছবি আছে পরিবেশকদের কাছে। কেবল আমরাই নেই।”

তিনি আরও বলেন, “হল মালিকদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করে সবশেষে তিনটা হল পেলাম। সিনেপ্লেক্সে আমাদের ছবিটা হাউজফুল ছিল তাও নামিয়ে দিল। কেননা অন্য ছবি চলে এসেছে। আমাদের মতো যারা ফিল্ম মেকার তাদের জন্য রাস্তাটা সহজ নয়।

রাস্তাটা যাতে তৈরি হয় সে জন্যই আমরা কাজ করছি। তবে আমরা নিজেদের সাকসেসফুলই বলবো, কেননা, কোনো সাহায্য ছাড়া, কোনো মার্কেটিং পার্টনার ছাড়া একেবারেই ইউনিভার্সিটির স্টুডেন্টদেরকে সাথে নিয়ে আমরা এগিয়েছি।”

বর্তমানে যমুনা ব্লক বাস্টারে তিনটি শো, স্টার সিনেপ্লেক্সে দুটি শো এবং রাজশাহীর উপহার সিনেমা হলে তিনটি করে শো চলছে চলচ্চিত্রটির।

প্রত্যেকটি শো-তেই দর্শকের বেশ ভালো সাড়া মিলেছে বলে দাবি করছেন প্রযোজক। তিনি জানান, ইতিমধ্যেই চলচ্চিত্রটির দর্শক সাড়া প্রমাণিত হওয়ায় শ্যামলী সিনেপ্লেক্স চলচ্চিত্রটি প্রদর্শনের ব্যপারে আগ্রহী হয়েছে।

আরিফুর রহমান বলেন, “প্রচারণায় আমাদের দুর্বলতার কারণ হচ্ছে ফিনান্সিয়াল। একটা সহজ উদাহরণ দেই, যেমন ‘স্বপ্নজাল’ টাইটেল স্পন্সর পেয়েছে। কিন্তু আমরা এরকম অসংখ্য প্রতিষ্ঠানের কাছে গিয়েছি, কিন্তু তারা আমাদের ছবিটিকে কমার্শিয়ালি লাভজনক ভাবেন নি।

আমরা ছবি বানিয়েছি নিজেদের টাকায়, মার্কেটিংয়ের জায়গায়ও নিজেদের কাজ করতে হয়েছে। শেষপর্যন্ত যা হলো, কোনো পরিবেশক রাজি না হওয়ায় আমরা নিজেরাই ডিস্ট্রিবিউট করলাম।”

আগামী ১ তারিখ থেকে চট্টগ্রাম থিয়েটার ইনস্টিটিউটে প্রদর্শিত হবে ‘মাটির প্রজার দেশে’। বর্তমানে বিকল্প পদ্ধতিতে চলচ্চিত্রটি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রদর্শনের পরিকল্পনা করছেন প্রযোজক আরিফুর রহমান।

২০১৬ সালে চলচ্চিত্রটির ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার হয় সিয়াটল আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে। ওই বছরেই শিকাগো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা ছবির পুরস্কার জিতে নেয় গুপী বাঘা প্রডাকশনস লিমিটেডের ছবি ‘মাটির প্রজার দেশে’।

চলচ্চিত্রটির চিত্রগ্রাহক রামশ্রেয়াস রাও এবং এন্ড্রু ওয়েসমান। এর বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়, রোকেয়া প্রাচী, কচি খন্দকার, শিউলি আক্তার, চিন্ময়ী গুপ্তা, রমিজ রাজু, আবদুল্লাহ রানা, মনির আহমেদ শাকিল, রিকিতা নন্দিনী শিমু প্রমুখ।

প্রধান শিশুশিল্পী চরিত্রে অভিনয় করেছেন মাহমুদুর অনিন্দ্য।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য