যুক্তরাষ্ট্রের লাখ লাখ গোপন সামরিক ও কূটনৈতিক নথি ফাঁস করে দিয়ে বিশ্বজুড়ে হইচই ফেলে দেওয়া ওয়েবসাইট উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জের ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে লন্ডনের একুয়েডর দূতাবাস।

অন্য দেশের বিষয়ে অ্যাসাঞ্জকে মন্তব্য করা থেকে বিরত রাখতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে একুয়েডর।

তবে বিবিসি জানিয়েছে, ‘অকাট্য প্রমাণ ছাড়া’ পক্ষত্যাগী রুশ গুপ্তচর ও তার মেয়েকে হত্যাচেষ্টায় মস্কোকে দায়ী করে যুক্তরাজ্য ও ২০টিরও বেশি দেশের রুশ কূটনীতিক বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে অ্যাসাঞ্জের টুইটের পর এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

২০১২ সাল থেকে লন্ডনের একুয়েডর দূতাবাসে রাজনৈতিক আশ্রয়ে আছেন অ্যাসাঞ্জ।

সুইডেনে তার বিরুদ্ধে করা একটি ধষর্ণ মামলায় যুক্তরাজ্য থেকে সুইডেনে প্রত্যার্পণ এড়াতে দূতাবাসটিতে আশ্রয় নিয়েছিলন তিনি। ৪৬ বছর বয়সী উইকিলিকস প্রতিষ্ঠাতা শুরু থেকেই তার বিরুদ্ধে আনা ওই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছিলেন।

যুক্তরাজ্যে করা জামিন আবেদনের শর্তাবলী লঙ্ঘন করে অ্যাসাঞ্জ লন্ডনের একুয়েডর দূতাবাসে আশ্রয় নিয়েছিলেন। একুয়েডরের তখনকার বামপন্থি প্রেসিডেন্ট রাফায়েল কোরেয়া উইকিলিকস প্রতিষ্ঠাতাকে ‘সাংবাদিক’ অ্যাখ্যা দিয়ে তার রাজনৈতিক আশ্রয় মঞ্জুর করেছিলেন।

পরে জামিনের শর্ত ভাঙার দায়ে ব্রিটিশ পুলিশ অ্যাসাঞ্জকে গ্রেপ্তারে পরোয়ানা জারি করে।

সুইডেন গত বছরের মে মাসে অ্যাসাঞ্জের ওপর থেকে অভিযোগ তুলে নিলেও ব্রিটিশ পুলিশ বলেছে, লন্ডনের একুয়েডর দূতাবাস থেকে বের হলেই অ্যাসাঞ্জকে গ্রেপ্তার করা হবে।

অ্যাসাঞ্জের আশঙ্কা গ্রেপ্তারের পর যুক্তরাজ্য তাকে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দিবে, যাদের লাখ লাখ গোপন সামরিক ও কূটনৈতিক নথি ফাঁস করে দিয়ে বেকায়দায় ফেলেছিলেন তিনি।

সোমবার এক টুইটে অ্যাসাঞ্জ যুক্তরাজ্য ও অন্যান্য দেশের রুশ কূটনীতিক বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

গত ৪ মার্চ যুক্তরাজ্যের সলসবারি শহরে পক্ষত্যাগী রুশ গুপ্তচর সের্গেই স্ক্রিপাল ও তার মেয়ে ইউলিয়াকে নার্ভ এজেন্ট ব্যবহার করে হত্যাচেষ্টার দায়ে মস্কোকে অভিযুক্ত করে লন্ডন ২৩ রুশ কূটনীতিককে বহিষ্কার করে। লন্ডনের সিদ্ধান্তের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে পরে যুক্তরাষ্ট্র ও নেটোভুক্ত ইউরোপের দেশগুলো থেকে রুশ কূটনীতিক বহিষ্কারের হিড়িক শুরু হয়।

শুরু থেকেই অভিযোগ অস্বীকার করে আসা রাশিয়া এ বহিষ্কারের পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

টুইটে অ্যাসাঞ্জ বলেন, “রাশিয়ার শপিং মলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৬৪ জনের নিহত হওয়ার ১২ ঘণ্টার মধ্যে বিভিন্ন দেশ রুশ কূটনীতিক বহিষ্কারের যে ঘোষণা দিল, তা তাদের সঙ্কীর্ণ কূটনৈতিক আচরণের বহিঃপ্রকাশ।

“প্রমাণিত নয় এমন একটি বিষয়ে যুক্তরাজ্য যেখানে ২৩ কূটনীতিককে বহিষ্কার করেছে, যুক্তরাষ্ট্র সেখানে এর প্রায় তিন গুণ কূটনীতিক বহিষ্কারের ঘোষণা দিয়েছে; এর ফলে ক্রেমলিন বিভিন্ন দেশ থেকে বহিষ্কারাদেশের ঘটনাকে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে করা ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখানোর সুযোগ পেল।”

রাসায়নিক অস্ত্রনিরোধ সংস্থা ওসিপিডব্লিউ এ ঘটনার তদন্ত শেষ করার আগেই পরোক্ষ প্রমাণের ভিত্তিতে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টেরিজা মে এ ঘটনায় যেভাবে রাশিয়াকে দায়ী করেছেন তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

অ্যাসাঞ্জের এ টুইটের কড়া প্রতিক্রিয়া জানায় যুক্তরাজ্য। দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তরের মন্ত্রী অ্যালান ডানকান অস্ট্রেলিয়ান নাগরিক অ্যাসাঞ্জকে ‘ঘৃণ্য কীট’ অ্যাখ্য দিয়ে তাকে (ব্রিটিশ) কর্তৃপক্ষের সামনে হাজির করা দরকার বলে মন্তব্য করেন।

এরপরই উইকিলিকস প্রতিষ্ঠাতার ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে একুয়েডর।

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী প্রচারের সময় উইকিলিকস হিলারি শিবিরের অসংখ্য ইমেইল হ্যাক করে তা ফাঁস করে দেওয়ার পর ২০১৬ সালেও একবার অ্যাসাঞ্জের ইন্টারনেট সুবিধা স্থগিত করা হয়েছিল। ওই ইমেইল ফাঁস মার্কিন নির্বাচনের প্রচারে প্রভাব ফেলেছিল বলে ধারণা পর্যবেক্ষকদের।

স্পেনের স্বায়ত্তশাসিত এলাকা কাতালুনিয়ার স্বাধীনতার আন্দোলনে সমর্থন জানিয়ে টুইট করার পর গত বছরের মে মাসে একুয়েডরের বর্তমান প্রেসিডেন্ট লেনিন মোরেনো উইকিলিকস প্রতিষ্ঠাতাকে সংযত হওয়ারও অনুরোধ জানিয়েছিলেন। ওই টুইটে কাতালুনিয়ার স্বাধীনতাপন্থিদের ওপর দমনপীড়ন চালানোর দায়ে মাদ্রিদকে অভিযুক্ত করেছিলেন অ্যাসাঞ্জ।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য