বার্ষিক বিদেশি সহায়তা বাবদ বরাদ্দের পরিমাণ আরও ৪০ কোটি ডলার কমানোর কথা ভাবছে অস্ট্রেলিয়া। এ সংক্রান্ত একটি খসড়াও তৈরি করা হয়েছে। ফায়ারফ্যাক্স মিডিয়াকে উদ্ধৃত করে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান খবরটি জানিয়েছে। অস্ট্রেলিয়া সরকারের এ সিদ্ধান্তের খবরে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে, মানবিক সহায়তা সংগঠন সেভ দ্য চিলড্রেন। উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য সহায়তার পরিমাণ আর না কমানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে অস্ট্রেলিয়া সরকারের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

২০১৩ সাল থেকে অস্ট্রেলিয়ার বিদেশি সহায়তা খাতে বরাদ্দের পরিমাণ ক্রমাগত কমানো হচ্ছে। ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে বিদেশি সহায়তার পরিমাণ কমিয়ে ৩০০ কোটি ৯০ লাখ ডলার করা হয়েছিল। তখনই এ সহায়তার পরিমাণ রেকর্ড মাত্রায় কম ছিল।

বুধবার ফায়ারফ্যাক্সে প্রকাশিত প্রতিবেদনকে উদ্ধৃত করে গার্ডিয়ান জানায় অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রবিষয়ক ও বাণিজ্য দফতর থেকে একটি খসড়া তৈরি করা হচ্ছে। সেখানে দেখা গেছে বার্ষিক বিদেশি সহায়তা বরাদ্দ আরও ১০ শতাংশ কমানো হচ্ছে।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার যেসব দেশ ‘মধ্যম আয়ের দেশের’ মর্যাদা পেতে যাচ্ছে তাদেরকে সহায়তার পরিমাণ কমিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বিদেশি স্বাস্থ্য খাতে পুরোপুরি সহায়তা বন্ধ করছে অস্ট্রেলিয়া।

গার্ডিয়ানের পক্ষ থেকে অস্ট্রেলিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী মাথাইস কোরমানের কাছে বৃহস্পতিবার জানতে চাওয়া হয় খবরটি সত্য কিনা। জবাবে তিনি স্পষ্ট করে কিছু বলেননি। কোরমান শুধু জানান, ‘মে মাসের দ্বিতয়ি মঙ্গলবার বাজেট ঘোষণা করা হবে।’

সেভ দ্য চিলড্রেনের জনসংশ্লিষ্ট ও নীতিমালাবিষয়ক পরিচালক ম্যাট টিংকলার অস্ট্রেলীয় প্রধানমন্ত্রী ম্যালকম টার্নবুলকে বিদেশি সহায়তা না কমানোর আহ্বান জানান। তিনি বলেন, অস্ট্রেলিয়ার আন্তর্জাতিক উন্নয়নবিষয়ক মন্ত্রী কনসেট্টা ফিয়েরাভান্তি-ওয়েলস বিদেশি সহায়তা বাজেটের পরিমাণ ৪০০ কোটি ডলার রাখার কথা বলেছিলেন। সিনেটে কনসেট্টা জানিয়েছিলেন পরবর্তী দুই বছরের প্রত্যেক বছর ৪০০ কোটি ডলার বিদেশি সহায়তা দেওয়া হবে। এক্ষেত্রে ফায়ারফ্যাক্সের প্রতিবেদনটি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন ম্যাট টিংকলার।

তিনি বলেন, ‘সরকার সহায়তা পরিমাণ ৪০ কোটি ডলার কমাচ্ছে বলে যে খবর প্রকাশিত হয়েছে তার সঙ্গে ওই আশ্বাসের সঙ্গতি কীভাবে হয়? এ সহায়তা আমাদের অঞ্চলের দরিদ্রতম অনেক মানুষের কাছে লাইফ লাইন বলে বিবেচিত হয়।’

টিংকলার আরও বলেন, অস্ট্রেলিয়া ধনী এবং মন্দামুক্ত দেশ। একটি বিশ্বমানের সহায়তা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বিশ্বের দরিদ্র জনগণের জন্য অস্ট্রেলিয়ার আরও অনেক কিছু করার আছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য