শুরু হয়েছে ক্ষণ গণনা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামিকাল ঠাকুরগাঁওয়ে আসছেন দীর্ঘ ১৭ বছর পরে। তার আসার খবরে আশায় বুক বাঁধছেন ঠাকুরগাঁওবাসী। প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে শহরের অফিস, আদালত, বিভিন্ন স্থাপনা সংস্কার, রং এর কাজ ও সড়ক মেরামতের ধুম পড়েছে। এছাড়াও জনসভা সফল করার জন্য স্থানীয় নেতা কর্মীদের দিনরাত অবসর নেই।

জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে দ্বিতীয় বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার ১৭ বছর পর এই প্রথম ঠাকুরগাঁও সফরে আসছেন তিনি। আগামিকাল সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় বড় মাঠে জেলা আওয়ামী লীগের আয়োজনে বিশাল সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে ঠাকুরগাঁও শহর নবরূপে সাজানো হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর এবারের সফরকালে কলেজ ভবন, ব্রিজ, কালভার্ট, রাস্তা-ঘাটসহ মোট ৩৫টি প্রকল্পের উদ্ধোধন ও ৩৩টি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্থর শুভ উদ্বোধন করবেন।

আগামিকাল বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিকেল ৩টায় ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় বড়মাঠে জেলা আওয়ামী লীগের আয়োজনে এক জনসভায় বক্তব্য রাখবেন। প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষ্যে ইতিমধ্যে ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসন ও জেলা আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠন গুলো ঠাকুরগাঁও জেলাকে সাজিয়েছেন এক নতুন সাজে। এছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর জনসভাটি সফল ভাবে সম্পন্ন করতে ইতিমধ্যে সকল প্রকার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে পুলিশ কর্তৃপক্ষ।

প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে নানা প্রাপ্তি ও প্রত্যাশায় বুক বেঁধেছে দলমত নির্বিশেষে ঠাকুরগাঁওয়ের সর্বস্থরের মানুষ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সফর নিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে অভিমত জানতে চাইলে তারা জানান, উত্তরের অবহেলিত জেলা ঠাকুরগাঁও। এই অঞ্চলের ৮০ ভাগ মানুষ কৃষিকাজেরর সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত। এই জেলার মানুষ শিক্ষা, চিকিৎসা, কর্মসংস্থানের অভাবে দেশের অনেক জেলার থেকে পিছিয়ে পড়েছে।

এই জেলায় ভারী কোন শিল্পকারখানা স্বাধীনতার পর থেকেই গড়ে ওঠেনি। রাজধানীর সাথে সরাসরি রেল পথে যোগাযোগের ব্যবস্থা থাকলেও তা অদৃশ্য কারণে আটকে রয়েছে। কৃষি ভিত্তিক অঞ্চল হিসেবে বিবেচিত হলেও কৃষকরা উৎপাদিত পণ্যের নায্য মূল্য থেকে দীর্ঘদিন যাবত বঞ্চিত। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঠাকুরগাঁও জেলার মানুষের মান উন্নয়নে ও উন্নত জেলায় পরিনত করতে কিছু প্রদক্ষেপ গ্রহন করে তাহলে এগিয়ে যাবে এই জেলার মানুষ। তাই প্রধানমন্ত্রীর কাছে ঠাকুরগাঁওবাসীর দাবি ও প্রত্যাশা অনেক বলে মতব্যক্ত করেছেন সাধারণ মানুষ।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ সাদেক কুরাইশী বলেন, আমরা ১৭ বছর পর প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করতে ঠাকুরগাঁওয়ে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহন করেছি। জনসভায় প্রায় ১০ লাখ মানুষের সমাগমের জন্য নেতাকর্মীরা নিরলস ভাবে কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সামনে ঠাকুরগাঁও-ঢাকা আন্ত:নগর ট্রেন, ব্রিটিশ আমলের বিমান বন্দর চালু, কৃষি ভিত্তিক ইপিজেট, একটি পূর্ণাঙ্গ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজ, বন্ধ হওয়া রেশম কারখানাটি পুনরায় চালু ও যানজট নিরসনে বাইপাস সড়কের প্রস্তাবনা তুলে ধরা হবে বলে এই সরকার দলীয় নেতা মতব্যক্ত করেন।

ঠাকুরগাঁও জেলা পুলিশ সুপার ফারহাত আহমেদ বলেন, তিন স্থরের নিরাপত্তা ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে সকল প্রকার নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সাদা পোশাকে প্রচুর পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক মো: আকতারুজ্জামান বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঠাকুরগাঁওয়ে জনসভা থেকে ৩৫টি কাজের উদ্বোধন করবেন ও ৩৩টি কাজের ভিত্তিপ্রস্থর এর নামফলক উম্মোচন করবেন। প্রধানমন্ত্রীকে ঠাকুরগাঁওয়ে স্বাগতম জানানোর জন্য সকল প্রকার প্রস্তুতি গ্রহন করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২৯ মার্চ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বেলা সাড়ে ১১টায় ঠাকুরগাঁও বিজিবি সেক্টর মাঠে হেলিকপ্টারে অবতরণ করবেন। এরপর তিনি বড় মাঠে ঠাকুরগাঁও জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় বক্তব্য রাখবেন। জনসভায় তিনি কয়েকটি স্থাপনা উদ্বোধন ও উন্নয়ন কাজের ভিত্তি প্রস্থর স্থাপন করবেন। বিকেল সাড়ে ৪টায় প্রধানমন্ত্রী হেলিকপ্টারে করে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেবেন জানিয়েছেন ঠাকুরগাঁও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) জহিরুল ইসলাম।

উক্ত জনসভায় আওয়ামীলীগের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রধান অতিথি হিসেবে ও মন্ত্রী পরিষদ সদস্য, সংসদ সদস্য, কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য