মালয়েশিয়ায় নির্বাচনের কয়েক মাস আগে সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণের পরিকল্পনার প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে এসেছেন হাজার হাজার নাগরিক। বিরোধী ও সমালোচকরা বলছেন, প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক এই সীমানা পরিবর্তনের মাধ্যমে বিরোধীদের ভয় দেখানোর চেষ্টা করছেন। আসন পরিবর্তন হলে তার নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন জোট লাভবান হবে। তবে সরকার বলছে, নির্বাচন কমিশনই এই উদ্যোগ নিয়েছে, এখানে সরকারের কোনও হাত নেই। নির্বাচন কমিশন রাজনৈতিক হস্তক্ষেপমুক্ত।

মালয়েশিয়ায় আগামী আগস্ট মাসের মধ্যেই নির্বাচন হতে হবে। দেশটির ৬১ বছরের ইতিহাসে এবারই সবচেয়ে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন হতে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সীমানা পুনর্নির্ধারণের বিরোধিতাকারীরা বলছেন, এর মাধ্যমে বিরোধীপন্থী ভোটাদের বিরোধী দলের আসনের মধ্যে ঢুকিয়ে দেওয়া হবে। যাতে অন্যান্য আসনগুলোতে সরকারের একক আধিপত্য থাকে। এছাড়া আরও বেশি স্বতন্ত্র জাতিগত সংগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করার জন্য এটা করা হবে।

মালয়েশিয়ার গণতন্ত্রপন্থী সংগঠন বেরসিহর ব্যনারে আন্দোলনকারীরা বুধবার মিছিল করেছেন। প্রতিষ্ঠানটির প্রতীক হলুদ রংয়ের গেঞ্জি পরে পার্লামেন্টর কাছে একটি জাতীয় স্মৃতিস্তম্ভের কাছে জড়ো হন তারা। বিরোধী নেতারা এই সমাবেশে যোগ দেন। এই সমাবেশকে কেন্দ্র করে মালয়েশিয়ার পার্লামেন্টের প্রধান ফটকে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। সেখানে আগ্নেয়াস্ত্র ও কাঁদানেগ্যাসসহ দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

বেরসিহ এর পক্ষ থেকে পার্লামেন্টের স্পিকারের কাছে একটি স্মারকলিপি হস্তান্তর করা হয়। এতে সরকারের এই পদক্ষেপের অযৌক্তিকতা তুলে ধরে তা বাতিলের আহ্বান জানানো হয়। বেরসিহের সাবেক চেয়ারওম্যান মারিয়া চিন আব্দুল্লাহ বলেন, ‘আমরা নির্বাচন কমিশনের প্রতিবেদনের সঙ্গে সম্পূর্ণ দ্বিমত পোষন করছি। এটা এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় প্রতারণা। তারা সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এই প্রতিবেদনের মাধ্যমে ভয় দেখানোর চেষ্টা করছে। তারা আইনের শাসন ভঙ্গ করে নির্বাচনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে।’

প্রধানমন্ত্রী নাজিব ‍বুধবার সংসদে এই সীমানা পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাবটি অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করবেন বলে মনে করা হচ্ছে। আর সেখানে তা পাস হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। আর নির্বাচন সম্পন্ন করার জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের আগে এটাই সংসদের শেষ অধিবেশন।

মালয়েশিয়ায় সর্বশেষ ২০০৩ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদের সময়ে সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ করা হয়। তার বিরুদ্ধেও ক্ষমতাসীন জোটের পক্ষে নির্বাচনকে প্রভাবিত করার জন্য করা হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছিল। ১৯৫৭ সালে ব্রিটেনের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভের পর থেকে মালয়েশিয়ায় এই জোট ক্ষমতায় রয়েছে।

মালয়েশিয়ায় ২২ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা মাহাথির মোহাম্মদ এবারের নির্বাচনে বিরোধী জোট থেকে প্রধানমন্ত্রী পদে নির্বাচন করবেন। ৯২ বছর বয়সী এই নেতাও বুধবারের আন্দোলনে যোগ দেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য