রাশিয়ার কেমেরোভোতে একটি শপিং মল ও বিনোদন কেন্দ্রে অগ্নিকাণ্ডে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৪ জনে। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন অন্তত ১০ জন। স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাত নিহতের এই সংখ্যা জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি। খবরে বলা হয়েছে, নিহতদের মধ্যে অনেক শিশু রয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করলেও প্রাথমিকভাবে স্থানীয় ডেপুটি গভর্নর জানিয়েছেন, শিশুর হাতে থাকা সিগারেটের লাইটার থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে।

অগ্নিকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করেছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তবে স্থানীয় ডেপুটি গভর্নর ভ্লাদিমির চেরনভ জানিয়েছেন শিশুদের ট্রাম্পোলিন রুম থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে একটি শিশুর হাতে সিগারেটের লাইটার ছিল। তা থেকেই ট্রাম্পোলিন রুমে রাবারের ফোমে আগুন লাগে। যা গান পাউডারের মতো দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

দুই প্রত্যক্ষদর্শী বিবিসি রাশিয়াকে জানিয়েছেন, চারতলার ট্রাম্পোলিন রুম থেকে আগুনের ধোঁয়া বের হতে তারা দেখেছেন। কিন্তু আগুন লাগার কোনও সতর্ক সংকেত তারা শুনতে পাননি।

এদিকে, রোজিয়া ২৪ টিভি জানিয়েছে বৈদ্যুতিক ত্রুটি থেকেই আগুনের সূত্রপাত হতে পারে।

রাশিয়ার শিশু অধিকারবিষয়ক কমিশনার আনা কুজনেতসভা অবহেলাকে দায়ী করে এধরনের বিনোদন ভবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উইন্টার চেরি নামের ভবনটি একাধারে শপিং ও বিনোদন কমপ্লেক্স। রবিবার আগুন লাগার সময় অনেকেই হয়ত চলচ্চিত্র দেখছিলেন।

সামাজিকমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, আগুন থেকে বাঁচতে অনেক মানুষ লাফিয়ে পড়ছেন।

এক বিবৃতিতে রাশিয়ার তদন্ত কমিটি জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে অগ্নিকাণ্ডে দুটি প্রেক্ষাগৃহের ছাদ ধসে পড়েছে।

রুশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রায় ৬৬০ জন জরুরি সেবার কর্মীকে উদ্ধার কাজে লাগানো হয়েছে। প্রায় ১৭ ঘণ্টার চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছে দমকলবাহিনী। ভবনটিতে থাকা চিড়িয়াখানার সব প্রাণি মারা গেছে।

আগুন নেভানোর পরও ভবন উত্তপ্ত থাকায় সবগুলো তলায় যেতে বেগ পেতে হয় উদ্ধারকারীদের। শেষ পর্যন্ত সিনেমা হলটিতে পৌঁছাতে সক্ষম হন তারা। অসমর্থিত সূত্রকে উদ্ধৃত করে রুশ বার্তা সংস্থা ইন্টারফ্যাক্স জানায়, সেখান থেকে নতুন করে কাউকে উদ্ধার করা যায়নি। ধ্বংসস্তূপের নিচে নিখোঁজরা চাপা পড়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

প্রাথমিকভাবে ৩৭ জন নিহত এবং ৬৪ জন নিখোঁজ থাকার কথা জানিয়েছিল রুশ কর্তৃপক্ষ। পরে তা সংশোধন করে জানানো হয়, যেসব মৃতদেহ শনাক্ত করা যায়নি তাদেরকেও নিখোঁজ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী ভেরোনিকা জানান, অগ্নিকাণ্ডে আহত ১১ জনকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। আহতদের বেশিরভাগই ধোঁয়ার কারণে শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন।

মস্কো থেকে প্রায় ৩,৬০০ কিলোমিটার পূর্বে কয়লা উৎপাদনকারী এলাকা কেমেরোভো অবস্থিত। রবিবার (২৫ মার্চ) সন্ধ্যার দিকে ওই এলাকার উইন্টার চেরি কমপ্লেক্স নামের শপিং সেন্টারটিতে আগুন লাগে। কেমেরোভোর আঞ্চলিক জরুরি ব্যবস্থাপনা বিভাগের উপ-প্রধানকে উদ্ধৃত করে বিবিসি জানায়, ভবনটির ১৫শ বর্গফুট জায়গাজুড়ে আগুন ছড়িয়ে পড়েছিল।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য