সিরিয়ার পূর্ব গৌতার কিছু অংশের নিয়ন্ত্রণে থাকা বিদ্রোহী গোষ্ঠী জইশ আল ইসলাম তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা ছেড়ে দেশের অন্য অংশে সরকারবিরোধীদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় যাবে না বলে জানিয়েছে।

রোববার ইস্তাম্বুলভিত্তিক সিরীয় রেডিও স্টেশন রেডিও আল কুলকে পূর্ব গৌতা থেকে স্কাইপির মাধ্যমে এ কথা জানিয়েছেন জইশ আল ইসলামের সামরিক মুখপাত্র হামজা বিরকদর, খবর বার্তা সংস্থা রয়টার্সের।

সিরিয়ার সরকারের মিত্র রাশিয়ার মধ্যস্থতায় করা চুক্তি অনুযায়ী পূর্ব গৌতার অন্যান্য বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো এলাকা ছেড়ে সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে সরকারবিরোধীদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় চলে গেছে।

এখন পূর্ব গৌতায় শুধু জইশ আল ইসলামের যোদ্ধারাই তাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় রয়ে গেছেন।

রাজধানী দামেস্কের কাছে কয়েকটি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে থাকা এই অঞ্চলটি পুনরুদ্ধারে একমাস আগে স্থল ও আকাশপথে অভিযান শুরু করে সিরীয় সরকার। ব্যাপক এই অভিযানের মুখে বিদ্রোহীদের প্রতিরোধ ভেঙে পড়তে শুরু করার পর রাশিয়ার মধ্যস্থতায় তারা পূর্ব গৌতা ছেড়ে সিরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে চলে যেতে সম্মত হয়ে সরকারের সঙ্গে চুক্তি করে।

এরপর বিদ্রোহীদের ছেড়ে যাওয়া এলাকাগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেয় সরকারি বাহিনীগুলো।

কিন্তু পূর্ব গৌতার সবচেয়ে জনবহুল শহর দৌমার নিয়ন্ত্রণ বিদ্রোহী গোষ্ঠী জইশ আল ইসলামের হাতে রয়ে যায়। গোষ্ঠীটি এখন দৌমা ও এই এলাকায় বসবাসকারী লোকজনের ভবিষ্যতের বিষয়ে রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনারত আছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

এই প্রসঙ্গে জইশ আল ইসলামের মুখপাত্র বিরকদর রেডিও আল কুলকে বলেন, “আজ আলোচনা হচ্ছে গৌতায় থাকা নিয়ে এবং এটি না ছাড়ার বিষয়ে।”

স্থানীয়দের তাড়িয়ে দিয়ে তাদের জায়গায় মিত্রদের বসিয়ে সিরীয় সরকার পূর্ব গৌতার জনসংখ্যাতাত্ত্বিক ভারসাম্য পরিবর্তন করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

তিনি জানিয়েছেন, স্থানীয় যে বাসিন্দারা থেকে যাবেন তাদের জোর করে তাড়ানো হবে না, রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনায় এই নিশ্চয়তা চাইছে জইশ ই ইসলাম।

এর আগে পূর্ব গৌতার অপর দুটি অংশের নিয়ন্ত্রণকারী বিদ্রোহী গোষ্ঠী আহরার আল শাম ও ফাইলাক আল রহমান চুক্তি মেনে নিয়ে এলাকা ছেড়ে সিরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে সরকারবিরোধীদের নিয়ন্ত্রণে থাকা প্রদেশ ইদলিবে চলে যায়।

রাজধানী দামেস্ককে বিদ্রোহীদের ছোড়া প্রাণঘাতী গোলা থেকে রক্ষা করতে গৌতায় অভিযান চালানো জরুরি হয়ে পড়েছিল বলে জানিয়েছে দামেস্ক ও মস্কো।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য