মিশরের তিনদিনব্যাপী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে।

সোমবার সকালে কায়রো ও এর আশপাশের ভোট কেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের লাইন ধরে অপেক্ষা করতে দেখেছেন বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিনিধিরা। তবে ভোটারদের সংখ্যা খুব বেশি ছিল না বলে জানিয়েছেন তারা।

স্বীকৃত বিরোধীদলগুলো ভোট বর্জন করায় ও শক্ত কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট সাবেক সেনাপ্রধান আব্দুল ফাত্তা আল সিসি সহজ জয় পাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।

অধিকাংশ প্রার্থী তাদের প্রার্থীতা প্রত্যাহার করার পর স্বল্প পরিচিত মধ্যপন্থি রাজনীতিক মোস্তফা মুসা সিসির একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে নির্বাচনে আছেন।

কিন্তু মুসা নিজেও প্রেসিডেন্ট সিসির সমর্থক হিসেবে পরিচিত; সিসির পুনর্নির্বাচনের প্রতি তার সমর্থন আছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

আট কোটি ৪০ লাখ জনসংখ্যার মিশর সবচেয়ে বড় আরব দেশ। আধুনিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে দেশটি কেন্দ্রীয় একটি ভূমিকা পালন করে আসছে।

নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর সাতজন প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য এগিয়ে এসেছিলেন। কিন্তু পরে তাদের অধিকাংশই নিজেদের প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে নেন। এদের মধ্যে মানবাধিকার আইনজীবী খালিদ আলি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী আহমেদ শফিক অন্যতম।

প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দাঁড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করার পর মিশরের সেনাবাহিনীর সাবেক প্রধান সামি আনানকে আটক করা হয়। প্রেসিডেন্ট সিসির শেষ শীর্ষস্থানীয় প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে তাকেই বিবেচনা করা হচ্ছিল।

আনানকে আটক করার পর কয়েকটি বিরোধীদল নির্বাচন বর্জন করার ডাক দেয়। এই ডাকে সারা দিয়ে নির্বাচন বর্জন করে বিরোধীদলগুলো।

কিন্তু কোনো প্রার্থীকেই নির্বাচনে দাঁড়াতে বাঁধা দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেছেন সিসির নির্বাচনী প্রচারণা বিষয়ক মুখপাত্র।

গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত মিশরের একমাত্র প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসিকে ২০১৩ সালে ক্ষমতাচ্যুত করেন তৎকালীন সেনাপ্রধান সিসি। এরপর ২০১৪ সালে সামরিক শাসনের মধ্যে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সিসি বড় ধরনের জয় পেয়ে মিশরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।

চলমান নির্বাচনে জয় পেয়ে তিনি দ্বিতীয়বারের মতো মিশরের প্রেসিডেন্ট হতে যাচ্ছেন বলে ধারণা অধিকাংশ জনের।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য